শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরে জামায়াত কর্মী হত্যা, কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

যশোরে জামায়াত ইসলামীর কর্মী  আমিনুল ইসলাম সজল হত্যাকান্ডে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৬ নভেম্বর) ও বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) শহরতলীর খোলাডাঙ্গা গাজিরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে যশোর ডিবির ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম শহিদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে গনমাধ্যমকে জানান, জামায়াত কর্মী আমিনুল ইসলাম সজলকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা তদন্ত শুরু করে যশোর ডিবি পুলিশের একটি টিম। তদন্ত চলাকালে খোলাভাঙ্গা গাজিরহাট বাজার থেকে দুই আসামি সাদমান রহমান সাকিন (১৯) ও আল-আমিন হোসেনকে (১৮) গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা এই হত্যার ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের নাম প্রকাশ করে।

প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পূর্বের ধারণকৃত একটি ভিডিও ফুটেজ জব্দ করে পুলিশ। ফুটেজটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামী লাবিব, সাকিনসহ ৪-৫ জন একটি মাদক সেবনের আসরে চাকু ও রিভলবার নিয়ে প্রশিক্ষন নিচ্ছে। উক্ত ভিডিওর সূত্র ধরে সাকিন এর তথ্য মোতাবেক অভিযান পরিচালনা করে ভিডিওতে কিশোর গ্যাংয়ের আরও তিন সদস্য রায়হান আহমেদ (২১), আব্দুর রহমান সাগর (২১) ও রিয়াদ হাসানকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা সকলে যশোর শহরতলী ও শহরের খোলাডাঙ্গাওখড়কি এলাকার বাসিন্দা।

গ্রেপ্তার করে আসামিদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক রায়হান এর বসতবাড়ির সিড়িপথের নীচ থেকে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার সময় ২টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি লাবিবের বাসায় অভিযান চালিয়ে তার শয়ন কক্ষে তল্লাশি করে হত্যা কাজে ব্যবহৃত একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়।

ডিবি পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আল-আমিন ও সাকিন নিজেদেরকে জড়িয়ে জামায়াত কর্মী সজল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ১৩-১৪ জনের নাম প্রকাশ করে। ঘটনার ১৫-২০ দিন আগে এলাকার জনৈক ফখরুল ইসলামের এক স্বজনকে আসামি স্বরণ ও রবিন পথরোধ করে ব্যাগ তল্লাশির করে। এ ঘটনায় ফখরুল ইসলাম বিষয়টি  জামায়াত কর্মী সজলকে নিয়ে প্রতিবাদ করেন। এ সময় আসামি স্বরণ, লাবিব ও রবিনকে চড়থাপ্পর মারে সজল। উক্ত আক্রোশে আসামি স্বরণ, লাবিব ও রবিন সজলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরে ১০-১২ জনের সহযোগীতায় গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নামাজে যাওয়ার সময় পথে সজলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত করে। পরে স্থানীয়রা সজলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার সজলকে মৃত ঘোষনা করে। এই ঘটনায় হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে এসআই মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন বলে জানান ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম শহিদ।

জনপ্রিয়

বেনাপোলে বিএনপির নেতার ভাইয়ের মৃত্যু,জানাজায় ধানের শীষের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন

যশোরে জামায়াত কর্মী হত্যা, কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ০৪:৩৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৪

যশোরে জামায়াত ইসলামীর কর্মী  আমিনুল ইসলাম সজল হত্যাকান্ডে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৬ নভেম্বর) ও বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) শহরতলীর খোলাডাঙ্গা গাজিরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে যশোর ডিবির ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম শহিদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে গনমাধ্যমকে জানান, জামায়াত কর্মী আমিনুল ইসলাম সজলকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা তদন্ত শুরু করে যশোর ডিবি পুলিশের একটি টিম। তদন্ত চলাকালে খোলাভাঙ্গা গাজিরহাট বাজার থেকে দুই আসামি সাদমান রহমান সাকিন (১৯) ও আল-আমিন হোসেনকে (১৮) গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা এই হত্যার ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের নাম প্রকাশ করে।

প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পূর্বের ধারণকৃত একটি ভিডিও ফুটেজ জব্দ করে পুলিশ। ফুটেজটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামী লাবিব, সাকিনসহ ৪-৫ জন একটি মাদক সেবনের আসরে চাকু ও রিভলবার নিয়ে প্রশিক্ষন নিচ্ছে। উক্ত ভিডিওর সূত্র ধরে সাকিন এর তথ্য মোতাবেক অভিযান পরিচালনা করে ভিডিওতে কিশোর গ্যাংয়ের আরও তিন সদস্য রায়হান আহমেদ (২১), আব্দুর রহমান সাগর (২১) ও রিয়াদ হাসানকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা সকলে যশোর শহরতলী ও শহরের খোলাডাঙ্গাওখড়কি এলাকার বাসিন্দা।

গ্রেপ্তার করে আসামিদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক রায়হান এর বসতবাড়ির সিড়িপথের নীচ থেকে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার সময় ২টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি লাবিবের বাসায় অভিযান চালিয়ে তার শয়ন কক্ষে তল্লাশি করে হত্যা কাজে ব্যবহৃত একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়।

ডিবি পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আল-আমিন ও সাকিন নিজেদেরকে জড়িয়ে জামায়াত কর্মী সজল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ১৩-১৪ জনের নাম প্রকাশ করে। ঘটনার ১৫-২০ দিন আগে এলাকার জনৈক ফখরুল ইসলামের এক স্বজনকে আসামি স্বরণ ও রবিন পথরোধ করে ব্যাগ তল্লাশির করে। এ ঘটনায় ফখরুল ইসলাম বিষয়টি  জামায়াত কর্মী সজলকে নিয়ে প্রতিবাদ করেন। এ সময় আসামি স্বরণ, লাবিব ও রবিনকে চড়থাপ্পর মারে সজল। উক্ত আক্রোশে আসামি স্বরণ, লাবিব ও রবিন সজলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরে ১০-১২ জনের সহযোগীতায় গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নামাজে যাওয়ার সময় পথে সজলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত করে। পরে স্থানীয়রা সজলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার সজলকে মৃত ঘোষনা করে। এই ঘটনায় হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে এসআই মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন বলে জানান ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম শহিদ।