শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজনগরে বিএনপির দীর্ঘ দিনের বিরোধ নিরসন করলেন ফয়জুল করিম

দীর্ঘ দিন যাবত চলে আসা মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা বিএনপি’র দ্বিধা বিভক্তির নিরসন করলেন জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন।
তথ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাজনগর উপজেলায় জেলা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো.জিতু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো.আব্বাস আলী মাষ্টার। এ কমিটি চলমান থাকলেও দলের একটি বৃহৎ অংশ’কে বিভিন্ন কৌশলে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়।
এ অংশের নেতৃত্বে ছিলেন, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হেকিম সুন্দর বক্স। কোন্দল এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল দুটি অংশের নেতাদের কেউ কারও সাথে কথাবার্তা তো দূর মুখদেখাদেখি পর্যন্ত হতো না। ফলে দলীয় কোন্দলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে উপজেলা বিএনপি কমিটির কার্যক্রম। এমন অবস্থা চলে আসায় সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ( ২৮শে নভেম্বর) সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র নতুন কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন এর বাসভবনে বিরাজমান দুটি পক্ষ’কে নিয়ে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য ধৈর্য সহকারে দীর্ঘ সময় নিয়ে শুনেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এসময় তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাংগঠনিক দিক নির্দেশনার ওপর শ্রদ্ধাশীল থেকে যথাযথ ভাবে মেনে চলার জন্য দলীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। বৈঠকে দলীয় নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন,আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জেলা বিএনপি’র নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছেন। আমি এ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক এর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জেলা কৃষকদল,মহিলাদলের কোন্দল বিরোধ নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ করেছি।এরই মধ্যে রাজনগর উপজেলা সহ জেলার অন্যান্য উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দদের দিয়ে সাংগঠনিক টিম গঠন করে দিয়েছি। কর্মী সভা আহ্বানের জন্য সভার তারিখ ও সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।
তিনি দলীয় নেতৃবৃন্দকে অতীতের দু:খ বেদনা ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে নব উদ্যমে ঐক্য বদ্ধ হয়ে দলের কাজ করে যেতে নেতাদের প্রতি আহবান জানান। ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন- অতীতে যারা দলের জন্য জীবন বাজি রেখে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। দলের জন্য জেলে গেছেন। মামলা হামলার শিকার হয়েছেন। এসব ত্যাগী নেতৃবৃন্দের মাধ্যমেই দলের প্রতিটি স্তরের কমিটি গঠন করা হবে। ত্যাগীও দুর্দিনের রাজপথের নেতৃবৃন্দদেরই কমিটিতে স্থান করে দেওয়া হবে। এতে কোনও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন-অতীত অতীতই। অতীতকে টানাটানি না করে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে তারেক রহমান এর ডাকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে দলকে তৃণমূল থেকে শক্তি শালী করার অনুরোধ জানান। এ আহবানে উভয়পক্ষের নেতৃবৃন্দ খুশি হন এবং সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্য বদ্ধ থাকার ঘোষণা দেন। বৈঠকে অংশ নেন- জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জেলা কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, বিএনপির বর্ষিয়ান নেতা আব্দুল কাদির মিয়া,সাবেক মেম্বার মোস্তফা মিয়া,জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আশরাফুজ্জামান খান নাহাজ, রাজনগর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হেকিম সুন্দর বক্স, এনামুল হোসেন চৌধুরী, আব্দুল মুত্তাকিন মুক্তা,জগলু তালুকদার, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো.জিতু মিয়া,সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী মাষ্টার, নুরুল ইসলাম সেলুন,সাবেক চেয়ারম্যান কবির মিয়া প্রমূখ।
জনপ্রিয়

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সামনে অনশনে গণঅধিকারের প্রার্থী

রাজনগরে বিএনপির দীর্ঘ দিনের বিরোধ নিরসন করলেন ফয়জুল করিম

প্রকাশের সময় : ১২:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৪
দীর্ঘ দিন যাবত চলে আসা মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা বিএনপি’র দ্বিধা বিভক্তির নিরসন করলেন জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন।
তথ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাজনগর উপজেলায় জেলা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো.জিতু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো.আব্বাস আলী মাষ্টার। এ কমিটি চলমান থাকলেও দলের একটি বৃহৎ অংশ’কে বিভিন্ন কৌশলে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়।
এ অংশের নেতৃত্বে ছিলেন, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হেকিম সুন্দর বক্স। কোন্দল এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল দুটি অংশের নেতাদের কেউ কারও সাথে কথাবার্তা তো দূর মুখদেখাদেখি পর্যন্ত হতো না। ফলে দলীয় কোন্দলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে উপজেলা বিএনপি কমিটির কার্যক্রম। এমন অবস্থা চলে আসায় সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ( ২৮শে নভেম্বর) সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র নতুন কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন এর বাসভবনে বিরাজমান দুটি পক্ষ’কে নিয়ে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য ধৈর্য সহকারে দীর্ঘ সময় নিয়ে শুনেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এসময় তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাংগঠনিক দিক নির্দেশনার ওপর শ্রদ্ধাশীল থেকে যথাযথ ভাবে মেনে চলার জন্য দলীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। বৈঠকে দলীয় নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন,আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জেলা বিএনপি’র নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছেন। আমি এ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক এর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জেলা কৃষকদল,মহিলাদলের কোন্দল বিরোধ নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ করেছি।এরই মধ্যে রাজনগর উপজেলা সহ জেলার অন্যান্য উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দদের দিয়ে সাংগঠনিক টিম গঠন করে দিয়েছি। কর্মী সভা আহ্বানের জন্য সভার তারিখ ও সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।
তিনি দলীয় নেতৃবৃন্দকে অতীতের দু:খ বেদনা ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে নব উদ্যমে ঐক্য বদ্ধ হয়ে দলের কাজ করে যেতে নেতাদের প্রতি আহবান জানান। ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন- অতীতে যারা দলের জন্য জীবন বাজি রেখে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। দলের জন্য জেলে গেছেন। মামলা হামলার শিকার হয়েছেন। এসব ত্যাগী নেতৃবৃন্দের মাধ্যমেই দলের প্রতিটি স্তরের কমিটি গঠন করা হবে। ত্যাগীও দুর্দিনের রাজপথের নেতৃবৃন্দদেরই কমিটিতে স্থান করে দেওয়া হবে। এতে কোনও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন-অতীত অতীতই। অতীতকে টানাটানি না করে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে তারেক রহমান এর ডাকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে দলকে তৃণমূল থেকে শক্তি শালী করার অনুরোধ জানান। এ আহবানে উভয়পক্ষের নেতৃবৃন্দ খুশি হন এবং সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্য বদ্ধ থাকার ঘোষণা দেন। বৈঠকে অংশ নেন- জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জেলা কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, বিএনপির বর্ষিয়ান নেতা আব্দুল কাদির মিয়া,সাবেক মেম্বার মোস্তফা মিয়া,জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আশরাফুজ্জামান খান নাহাজ, রাজনগর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হেকিম সুন্দর বক্স, এনামুল হোসেন চৌধুরী, আব্দুল মুত্তাকিন মুক্তা,জগলু তালুকদার, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো.জিতু মিয়া,সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী মাষ্টার, নুরুল ইসলাম সেলুন,সাবেক চেয়ারম্যান কবির মিয়া প্রমূখ।