সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতির বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

  • ঢাকা ব্যুরো।।
  • প্রকাশের সময় : ১০:৪৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ৮০

২৬ মার্চ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৫ ডিসেম্বর ১৯৭১ পর্যন্ত শহীদ হয়েছেন লাখ লাখ বীর বাঙালী। তাদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে এদেশের মাটি। রঞ্জিত হয়েছে গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দর, অলিগলি থেকে রাজপথ। রক্তরঞ্জিত দিন-মাস পেরিয়ে আজ ৫ ডিসেম্বর। একাত্তরের ৫ ডিসেম্বর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের খবর আসতে থাকে। ডিসেম্বরের এদিন দখলদার মুক্ত হয় দেশের অনেক এলাকা।
১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার আকাশে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথবাহিনীর সাথে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর শেষ মরণপন লড়াই চলে। বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশে পাকবাহিনীর প্রায় সব বিমান। তবে দুপুরের মধ্যেই পাকিস্তান বিমানবাহিনীর শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। বাংলাদেশে আগে থেকে মজুদ করা পাকিস্তানের সব জঙ্গি বিমান ধ্বংস হয়। এই দিনে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশে পাকবাহিনীর প্রায় সব বিমান। হত্যা ও ধ্বংসের বিভীষিকায় বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে মুক্তিপাগল বাঙালী। চারদিকে বিজয়ের রণধ্বনি। ভারতীয় জঙ্গিবিমানগুলো সারাদিন ধরে অবাধে আকাশে উড়ে পাক সামরিক ঘাঁটিগুলোতে প্রচ- আক্রমণ চালায়, অকেজো করে দেয় বিমানবন্দরগুলো। ভারতের বিমানবাহিনীর হিসাব মতে বারো ঘণ্টায় দু’শ বত্রিশবার তেজগাঁও এবং কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে পঞ্চাশ টনের মত বোমা ফেলা হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর কনভয়ের ওপর ভারতীয় জঙ্গি বিমানগুলি আক্রমণ চালায়। এতে পাকিস্তানি বাহিনীর নব্বইটা গাড়ি ধ্বংস হয়। এছাড়াও পাকিস্তানি বাহিনীর সৈন্য বোঝাই কয়েকটা লঞ্চ এবং স্টিমার ধ্বংস হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল দখলমুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকার দিকে আসতে থাকেন। সম্মুখযুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক যুদ্ধেও হারতে থাকে পাকিস্তান। এ সময় বিশ্ব নেতৃবৃন্দের চোখে রাজনীতির এক নতুন প্রেক্ষাপট হয়ে ওঠে যুদ্ধরত বাংলাদেশ।
ভারত পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার জন্য চীনের পক্ষ থেকে ভারতকেই দায়ী করা হয় স্পষ্টভাবে। অন্য দিকে রাশিয়াও জাতিসঙ্ঘে উত্থাপিত এক প্রস্তাবে জানায় যুদ্ধবিরতির আগে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান আগে করতে হবে। পাকিস্তান রক্ষায় বঙ্গোপসাগরে কেউ কোনো নৌ জাহাজ পাঠালে তারাও ভারতের আক্রমণের শিকার হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।

জনপ্রিয়

যশোর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তৃপ্তি -হাসান ঐক্যবদ্ধ

জাতির বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

প্রকাশের সময় : ১০:৪৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৪

২৬ মার্চ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৫ ডিসেম্বর ১৯৭১ পর্যন্ত শহীদ হয়েছেন লাখ লাখ বীর বাঙালী। তাদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে এদেশের মাটি। রঞ্জিত হয়েছে গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দর, অলিগলি থেকে রাজপথ। রক্তরঞ্জিত দিন-মাস পেরিয়ে আজ ৫ ডিসেম্বর। একাত্তরের ৫ ডিসেম্বর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের খবর আসতে থাকে। ডিসেম্বরের এদিন দখলদার মুক্ত হয় দেশের অনেক এলাকা।
১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার আকাশে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথবাহিনীর সাথে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর শেষ মরণপন লড়াই চলে। বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশে পাকবাহিনীর প্রায় সব বিমান। তবে দুপুরের মধ্যেই পাকিস্তান বিমানবাহিনীর শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। বাংলাদেশে আগে থেকে মজুদ করা পাকিস্তানের সব জঙ্গি বিমান ধ্বংস হয়। এই দিনে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশে পাকবাহিনীর প্রায় সব বিমান। হত্যা ও ধ্বংসের বিভীষিকায় বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে মুক্তিপাগল বাঙালী। চারদিকে বিজয়ের রণধ্বনি। ভারতীয় জঙ্গিবিমানগুলো সারাদিন ধরে অবাধে আকাশে উড়ে পাক সামরিক ঘাঁটিগুলোতে প্রচ- আক্রমণ চালায়, অকেজো করে দেয় বিমানবন্দরগুলো। ভারতের বিমানবাহিনীর হিসাব মতে বারো ঘণ্টায় দু’শ বত্রিশবার তেজগাঁও এবং কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে পঞ্চাশ টনের মত বোমা ফেলা হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর কনভয়ের ওপর ভারতীয় জঙ্গি বিমানগুলি আক্রমণ চালায়। এতে পাকিস্তানি বাহিনীর নব্বইটা গাড়ি ধ্বংস হয়। এছাড়াও পাকিস্তানি বাহিনীর সৈন্য বোঝাই কয়েকটা লঞ্চ এবং স্টিমার ধ্বংস হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল দখলমুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকার দিকে আসতে থাকেন। সম্মুখযুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক যুদ্ধেও হারতে থাকে পাকিস্তান। এ সময় বিশ্ব নেতৃবৃন্দের চোখে রাজনীতির এক নতুন প্রেক্ষাপট হয়ে ওঠে যুদ্ধরত বাংলাদেশ।
ভারত পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার জন্য চীনের পক্ষ থেকে ভারতকেই দায়ী করা হয় স্পষ্টভাবে। অন্য দিকে রাশিয়াও জাতিসঙ্ঘে উত্থাপিত এক প্রস্তাবে জানায় যুদ্ধবিরতির আগে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান আগে করতে হবে। পাকিস্তান রক্ষায় বঙ্গোপসাগরে কেউ কোনো নৌ জাহাজ পাঠালে তারাও ভারতের আক্রমণের শিকার হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।