শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যে কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়

ছবি-সংগৃহীত

যোগাযোগ বা কমিউনিকেশনের অভাব থেকেই দূরত্ব তৈরি হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। এটা অনেক সময় সম্পর্ক শেষও করে দেয়। অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার পর দুজনের মধ্যে কথা বলা বিষয়টা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। অনেকেই ভাবেই এটার কারণে সমস্যা তৈরি হয়। ম্যারিজডটকমের এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন মনোবিদরা। তাদের মতে ঠিকভাবে কথা না বলার কারণে সেটা দীর্ঘমেয়াদে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। সম্পর্কের গভীরতা ও আবেগ ধরে রাখতে কথা বলা অপরিহার্য।

পর্যাপ্ত যোগাযোগের অভাবের কারণে দাম্পত্য জীবনে যেভাবে প্রভাব পড়ে: সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুজনের মধ্যে যোগাযোগ দরকার। এর অভাবে সম্পর্কে খুব খাবাব প্রভাব পড়তে পারে। মনোবিদরা জানিয়েছেন যে প্রভাব পড়বে সম্পর্কে–

পারস্পরিক সমর্থনের অভাব: যোগাযোগের অভাবে দম্পতিরা একে অপরের কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার অভ্যাস হারিয়ে ফেলেন। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রধান সহায়ক হওয়া উচিত। কিন্তু যখন তারা ঠিকভাবে কথা বলে না তখন সেটা  হারিয়ে গেলে। তারা প্রায়শই অন্য কারও ওপর নির্ভর করতে শুরু করেন, যা সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে।

সঙ্গীর সমর্থন হারাচ্ছেন বুঝবেন যেভাবে:

আপনার সঙ্গীর উদ্বেগ বা সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব না দেয়া।
তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য না করা।

অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা।

তাদের স্বপ্ন বা লক্ষ্য পূরণে উৎসাহ না দেয়া।

অপরিচিতের মতো আচরণ:

যোগাযোগের অভাবে দম্পতিরা নিজেদের মাঝে দূরত্ব অনুভব করতে পারেন। যদি দীর্ঘ সময় ধরে সঠিকভাবে কথা না হয়, এটি সম্পর্ককে ঠুনকো করে তোলে। যখন দেখবেন  সঙ্গী আপনার আবেগ বা চিন্তা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে। সুজনের মধ্যে শারীরিক স্পর্শ কমে আসছে কিংবা একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন না তখন সাবধান হতে হবে। এমনকি যখন দেখবেন সঙ্গী কেবল  দৈনন্দিন কাজ নিয়েই কথা বলছে তখন সম্পর্কের বিষয়ে সাবধান হন কারণ এটা বিচ্ছেদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষণ।

সংযোগের অভাব:

যখন দীর্ঘ সময় ধরে সঠিকভাবে যোগাযোগ না হয়, এটি দাম্পত্য জীবনের সংযোগ, ভালোবাসা ও উষ্ণতা ধ্বংস করে দেয়। এটা দম্পতিদের সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ হারাতে বাধ্য করতে পারে। যোগাযোগের অভাবে মানুষ প্রায়শই নিজেদের একাকী মনে করেন এবং এটি তাদের প্রতারণার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তবে, সচেতন হলে এবং দুজনের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টার দিকে নজর দিলে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব।

কীভাবে দাম্পত্য জীবনে যোগাযোগ উন্নত করবেন:

দুজনের মধ্যে কমিউনিকেশন কমে গেলে শুরুতেই ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। মনোবিদরা কয়েকটি সমাধানের পথ দিয়েছেন সেগুলো মানলে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে যা করবেন:-

প্রতিদিন ১৫ মিনিট একে অপরের দিন সম্পর্কে কথা বলুন।

সঙ্গীর দেহভঙ্গি বা অভিব্যক্তি বোঝার চেষ্টা করুন।

মনোযোগ দিয়ে সঙ্গীর কথা শুনুন এবং তাকে কথা বলতে উৎসাহিত করুন।

প্রয়োজনে একজন পরামর্শকের সহায়তা নিন।

যথাযথ যোগাযোগের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনের সম্পর্ক আরও গভীর, অর্থবহ এবং সুখী করা সম্ভব।

জনপ্রিয়

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র খুব ভালো আলোচনা হয়েছে: ট্রাম্প

যে কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়

প্রকাশের সময় : ০১:৪২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৪

যোগাযোগ বা কমিউনিকেশনের অভাব থেকেই দূরত্ব তৈরি হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। এটা অনেক সময় সম্পর্ক শেষও করে দেয়। অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার পর দুজনের মধ্যে কথা বলা বিষয়টা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। অনেকেই ভাবেই এটার কারণে সমস্যা তৈরি হয়। ম্যারিজডটকমের এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন মনোবিদরা। তাদের মতে ঠিকভাবে কথা না বলার কারণে সেটা দীর্ঘমেয়াদে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। সম্পর্কের গভীরতা ও আবেগ ধরে রাখতে কথা বলা অপরিহার্য।

পর্যাপ্ত যোগাযোগের অভাবের কারণে দাম্পত্য জীবনে যেভাবে প্রভাব পড়ে: সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুজনের মধ্যে যোগাযোগ দরকার। এর অভাবে সম্পর্কে খুব খাবাব প্রভাব পড়তে পারে। মনোবিদরা জানিয়েছেন যে প্রভাব পড়বে সম্পর্কে–

পারস্পরিক সমর্থনের অভাব: যোগাযোগের অভাবে দম্পতিরা একে অপরের কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার অভ্যাস হারিয়ে ফেলেন। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রধান সহায়ক হওয়া উচিত। কিন্তু যখন তারা ঠিকভাবে কথা বলে না তখন সেটা  হারিয়ে গেলে। তারা প্রায়শই অন্য কারও ওপর নির্ভর করতে শুরু করেন, যা সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে।

সঙ্গীর সমর্থন হারাচ্ছেন বুঝবেন যেভাবে:

আপনার সঙ্গীর উদ্বেগ বা সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব না দেয়া।
তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য না করা।

অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা।

তাদের স্বপ্ন বা লক্ষ্য পূরণে উৎসাহ না দেয়া।

অপরিচিতের মতো আচরণ:

যোগাযোগের অভাবে দম্পতিরা নিজেদের মাঝে দূরত্ব অনুভব করতে পারেন। যদি দীর্ঘ সময় ধরে সঠিকভাবে কথা না হয়, এটি সম্পর্ককে ঠুনকো করে তোলে। যখন দেখবেন  সঙ্গী আপনার আবেগ বা চিন্তা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে। সুজনের মধ্যে শারীরিক স্পর্শ কমে আসছে কিংবা একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন না তখন সাবধান হতে হবে। এমনকি যখন দেখবেন সঙ্গী কেবল  দৈনন্দিন কাজ নিয়েই কথা বলছে তখন সম্পর্কের বিষয়ে সাবধান হন কারণ এটা বিচ্ছেদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষণ।

সংযোগের অভাব:

যখন দীর্ঘ সময় ধরে সঠিকভাবে যোগাযোগ না হয়, এটি দাম্পত্য জীবনের সংযোগ, ভালোবাসা ও উষ্ণতা ধ্বংস করে দেয়। এটা দম্পতিদের সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ হারাতে বাধ্য করতে পারে। যোগাযোগের অভাবে মানুষ প্রায়শই নিজেদের একাকী মনে করেন এবং এটি তাদের প্রতারণার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তবে, সচেতন হলে এবং দুজনের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টার দিকে নজর দিলে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব।

কীভাবে দাম্পত্য জীবনে যোগাযোগ উন্নত করবেন:

দুজনের মধ্যে কমিউনিকেশন কমে গেলে শুরুতেই ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। মনোবিদরা কয়েকটি সমাধানের পথ দিয়েছেন সেগুলো মানলে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে যা করবেন:-

প্রতিদিন ১৫ মিনিট একে অপরের দিন সম্পর্কে কথা বলুন।

সঙ্গীর দেহভঙ্গি বা অভিব্যক্তি বোঝার চেষ্টা করুন।

মনোযোগ দিয়ে সঙ্গীর কথা শুনুন এবং তাকে কথা বলতে উৎসাহিত করুন।

প্রয়োজনে একজন পরামর্শকের সহায়তা নিন।

যথাযথ যোগাযোগের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনের সম্পর্ক আরও গভীর, অর্থবহ এবং সুখী করা সম্ভব।