শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘স্বপ্নের বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন একটি দলের জন্য ব্যর্থ হয়েছে: আসিফ নজরুল

ছবি-সংগৃহীত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, ১৯৭১ সালের ‘স্বপ্নের বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন একটি দলের জন্য ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেছেন, ‘১৯৭১ সালে বহু মানুষের, বহু শহীদের আত্মত্যাগের পরও আমরা স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে ব্যর্থ হয়েছিলাম একধরনের মানসিকতার জন্য, একটা দলের ব্যর্থতার জন্য। সেই ব্যর্থতার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। তরুণদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে রাষ্ট্র গঠনের যে দ্বিতীয় সুযোগ আমরা পেয়েছি, সেই সুযোগ যেন আমরা কোনোভাবেই নষ্ট না করি। শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে এটাই আমাদের কাম্য।’

আজ শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। তারই ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দেখেছি, ছাত্ররা জীবনের মায়া ত্যাগ করে লড়াই করেছে গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের অধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য। আজকে এই শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এসে তাদের কথা মনে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে বহু মানুষের, বহু শহীদের আত্মত্যাগের পরও আমরা স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে ব্যর্থ হয়েছিলাম একধরনের মানসিকতার জন্য, একটা দলের ব্যর্থতার জন্য। সেই ব্যর্থতার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। তরুণদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে রাষ্ট্র গঠনের যে দ্বিতীয় সুযোগ আমরা পেয়েছি, সেই সুযোগ যেন আমরা কোনোভাবেই নষ্ট না করি। শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে এটাই আমাদের কাম্য।

আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ঘৃণ্য চক্রান্ত করেছিল। তারা তাদের এদেশীয় দোসরদের নিয়ে শিক্ষক, বিজ্ঞানী, চিন্তক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, ক্রীড়াবিদ, সরকারি কর্মকর্তাসহ দেশের বহু কৃতী সন্তানকে হত্যা করে। বিশেষ করে ১৪ ডিসেম্বর তারা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের পর রাজধানীর রায়েরবাজার ইটখোলা, মিরপুরের বধ্যভূমিসহ ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধিজীবীদের চোখ-হাত বাঁধা ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায়। এর মধ্য দিয়ে জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র প্রকাশিত হয়ে পড়ে। স্বাধীনতার পর থেকে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এবারও জাতীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ সকাল ৭টা ৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও ৭টা ৬ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার অংশ হিসেবে সেখানে নীরবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টাকে রাষ্ট্রীয় স্যালুট প্রদান করে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যরা এবং যুদ্ধাহত ও উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা সকাল ৭টা ২২ মিনিটে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সর্বস্তরের মানুষ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন।

জনপ্রিয়

বেনাপোলে বিএনপির নেতার ভাইয়ের মৃত্যু,জানাজায় ধানের শীষের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন

‘স্বপ্নের বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন একটি দলের জন্য ব্যর্থ হয়েছে: আসিফ নজরুল

প্রকাশের সময় : ১২:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, ১৯৭১ সালের ‘স্বপ্নের বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন একটি দলের জন্য ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেছেন, ‘১৯৭১ সালে বহু মানুষের, বহু শহীদের আত্মত্যাগের পরও আমরা স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে ব্যর্থ হয়েছিলাম একধরনের মানসিকতার জন্য, একটা দলের ব্যর্থতার জন্য। সেই ব্যর্থতার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। তরুণদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে রাষ্ট্র গঠনের যে দ্বিতীয় সুযোগ আমরা পেয়েছি, সেই সুযোগ যেন আমরা কোনোভাবেই নষ্ট না করি। শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে এটাই আমাদের কাম্য।’

আজ শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। তারই ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দেখেছি, ছাত্ররা জীবনের মায়া ত্যাগ করে লড়াই করেছে গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের অধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য। আজকে এই শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এসে তাদের কথা মনে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে বহু মানুষের, বহু শহীদের আত্মত্যাগের পরও আমরা স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে ব্যর্থ হয়েছিলাম একধরনের মানসিকতার জন্য, একটা দলের ব্যর্থতার জন্য। সেই ব্যর্থতার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। তরুণদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে রাষ্ট্র গঠনের যে দ্বিতীয় সুযোগ আমরা পেয়েছি, সেই সুযোগ যেন আমরা কোনোভাবেই নষ্ট না করি। শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে এটাই আমাদের কাম্য।

আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ঘৃণ্য চক্রান্ত করেছিল। তারা তাদের এদেশীয় দোসরদের নিয়ে শিক্ষক, বিজ্ঞানী, চিন্তক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, ক্রীড়াবিদ, সরকারি কর্মকর্তাসহ দেশের বহু কৃতী সন্তানকে হত্যা করে। বিশেষ করে ১৪ ডিসেম্বর তারা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের পর রাজধানীর রায়েরবাজার ইটখোলা, মিরপুরের বধ্যভূমিসহ ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধিজীবীদের চোখ-হাত বাঁধা ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায়। এর মধ্য দিয়ে জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র প্রকাশিত হয়ে পড়ে। স্বাধীনতার পর থেকে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এবারও জাতীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ সকাল ৭টা ৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও ৭টা ৬ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার অংশ হিসেবে সেখানে নীরবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টাকে রাষ্ট্রীয় স্যালুট প্রদান করে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যরা এবং যুদ্ধাহত ও উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা সকাল ৭টা ২২ মিনিটে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সর্বস্তরের মানুষ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন।