
রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়– সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতনের পর মূল বিদ্রোহী দল হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) সঙ্গে আলোচনার কথা স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট মোকাবিলার উদ্দেশ্যে জর্ডান সফরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।
বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও এইচটিএস জঙ্গি সংগঠন হিসেবে স্বীকৃত। তবে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে স্থির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করছে বলে জানান ব্লিঙ্কেন।
তিনি বলেন, ‘এইচটিএস ও অন্যান্য বিদ্রোহীগোষ্ঠীর সঙ্গে আমরা সরাসরি যোগাযোগ করছি।’
আলোচনায় এক দশকের বেশি সময় সিরিয়ায় গুম হওয়া মার্কিন সাংবাদিক অস্টিন টাইসের প্রসঙ্গও এসেছে বলে জানান তিনি।
এর আগে ৮ ডিসেম্বর বিদ্রোহীগোষ্ঠী সিরিয়ার রাজধানী দখলে নেওয়ার পর দেশ ছেড়ে পালান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। আসাদের কারণে সৃষ্ট ১৩ বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধে প্রায় ৫ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
অতীতে ওসামা বিন লাদেনের সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে এইচটিএসের সম্পৃক্ততা থাকলেও বর্তমানে সিরিয়ায় অন্তর্ভূক্তিমুলক সরকার গঠনের চেষ্টা করছে দলটি।
দলটির প্রধান আহমেদ আল-শারা (ছদ্মনাম আবু মোহাম্মেদ আল-গোলানি) সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোহাম্মেদ আল-বাশিরকে নিয়োগ দিয়েছেন। তবে এইচটিএসের অতীত সহিংসতার কথা ভেবে পুরোপুরি ভরসা করতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা।
এ পরিস্থিতিতে সিরিয়ায় চলমান সঙ্কট নিরসনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ।
এ বিষয়ে জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি বলেন, ‘আমরা চাই না সিরিয়ায় নৈরাজ্য সৃষ্টি হোক। এদিকে লিবিয়ার উদাহরণ টেনে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী সিরিয়াকে স্বৈরাচার-পরবর্তী অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সামলাতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
সিরিয়ার জঙ্গি তৎপরতা ঠেকাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সহাবস্থান কামনা করেন তুর্কির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। এদিকে এই আলোচনার প্রেক্ষিতে রাশিয়া ও ইরান কোনো মন্তব্য না করলেও সিরিয়ায় ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে সঙ্কট কাটিয়ে সিরিয়ায় স্থির রাজনৈতিক পরিবেশ বাস্তবায়িত হোক- এই প্রত্যাশা করেন বিশ্লেষকরা। খবর: বিবিসি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 







































