বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমার চীন সীমান্তে নতুন ফ্রন্টে যুদ্ধ শুরু

ছবি-সংগৃহীত

মিয়ানমারের কাচিন স্বাধীনতা আর্মি (কিয়া) এবং তাদের মিত্র কাগাবু পিপলস ফোর্স (কেপিএফ) সেনা শিবির “লাহিসেন” দখল করে নতুন এক যুদ্ধে সাফল্য অর্জন করেছে। শিবিরটি চীনা সীমান্তসংলগ্ন কাচিন রাজ্যের পুতাও জেলার খাউংলানহপু টাউনশিপে অবস্থিত। খবর ইরাবতীর।

কেপিএফের মুখপাত্র সাও নিউ খুন হসেং খাম জানান, কিছু সেনা বন্দি হয়ছে এবং যারা পালিয়েছে তাদের খোঁজ চলছে। তিনি জানান, লাহিসেনের মিলিশিয়াদের সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা করা হলেও তারা শেল বর্ষণ শুরু করে, যা কিয়াকে পাল্টা আক্রমণে বাধ্য করে।

সাও নিউ খুন হসেং খাম বলেন, আমরা আমাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না। কিন্তু যারা সামরিক সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেব। আমাদের লক্ষ্য কাচিন রাজ্য থেকে সামরিক বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করা।

কাচিন রাজ্যের স্পেশাল রিজিয়ন ১ এর নিয়ন্ত্রণ ইতিমধ্যেই কিয়া দখল করেছে। চিপওয়ে, সাওলাও এবং কানপিকেটি শহরগুলো এখন তাদের দখলে। কিয়া স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের অভিযান চলতে থাকবে যতক্ষণ না পুরো অঞ্চলে সামরিক বাহিনীকে নির্মূল করা হয়। লাহিসেন শিবিরের আশেপাশে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন, যার মধ্যে রয়েছে ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন ১৩৭, ১২৮ এবং ৪৬। তবে কাচিন বিদ্রোহীদের শক্ত অবস্থানে সেনা বাহিনী এখন প্রতিরোধহীন।

কিয়ার মুখপাত্র কর্নেল নাও বু জানান, তারা কাচিন জনগোষ্ঠীর মিলিশিয়াদের সামরিক বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিদ্রোহীদের সঙ্গে কাজ করার আহ্বানজানিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সাড়া না দেওয়ায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০১৮-১৯ সালের আদমশুমারি অনুসারে, খাউংলানহপু টাউনশিপের জনসংখ্যা প্রায় ১৪,৩০৪। সেখানে কাচিন, রাওয়াং, লিসু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি কিছু বামার এবং শান বাসিন্দা রয়েছে।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর, সামরিক সমর্থক মিলিশিয়া সাধারণ জনগণকে জোরপূর্বক নিয়োগ করে।এদের নেতৃত্বে রয়েছে টাং গু টান, যিনি পূর্বে কিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সামরিক সমর্থক মিলিশিয়া গঠন করেছিলেন। কিয়া ও কেপিএফের এই নতুন অভিযান পুতাও জেলায় তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয়

বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যেতে চায়, পেছনের দরজা দিয়ে নয়: ডা. শাহাদাত 

মিয়ানমার চীন সীমান্তে নতুন ফ্রন্টে যুদ্ধ শুরু

প্রকাশের সময় : ১০:৩৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪

মিয়ানমারের কাচিন স্বাধীনতা আর্মি (কিয়া) এবং তাদের মিত্র কাগাবু পিপলস ফোর্স (কেপিএফ) সেনা শিবির “লাহিসেন” দখল করে নতুন এক যুদ্ধে সাফল্য অর্জন করেছে। শিবিরটি চীনা সীমান্তসংলগ্ন কাচিন রাজ্যের পুতাও জেলার খাউংলানহপু টাউনশিপে অবস্থিত। খবর ইরাবতীর।

কেপিএফের মুখপাত্র সাও নিউ খুন হসেং খাম জানান, কিছু সেনা বন্দি হয়ছে এবং যারা পালিয়েছে তাদের খোঁজ চলছে। তিনি জানান, লাহিসেনের মিলিশিয়াদের সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা করা হলেও তারা শেল বর্ষণ শুরু করে, যা কিয়াকে পাল্টা আক্রমণে বাধ্য করে।

সাও নিউ খুন হসেং খাম বলেন, আমরা আমাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না। কিন্তু যারা সামরিক সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেব। আমাদের লক্ষ্য কাচিন রাজ্য থেকে সামরিক বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করা।

কাচিন রাজ্যের স্পেশাল রিজিয়ন ১ এর নিয়ন্ত্রণ ইতিমধ্যেই কিয়া দখল করেছে। চিপওয়ে, সাওলাও এবং কানপিকেটি শহরগুলো এখন তাদের দখলে। কিয়া স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের অভিযান চলতে থাকবে যতক্ষণ না পুরো অঞ্চলে সামরিক বাহিনীকে নির্মূল করা হয়। লাহিসেন শিবিরের আশেপাশে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন, যার মধ্যে রয়েছে ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন ১৩৭, ১২৮ এবং ৪৬। তবে কাচিন বিদ্রোহীদের শক্ত অবস্থানে সেনা বাহিনী এখন প্রতিরোধহীন।

কিয়ার মুখপাত্র কর্নেল নাও বু জানান, তারা কাচিন জনগোষ্ঠীর মিলিশিয়াদের সামরিক বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিদ্রোহীদের সঙ্গে কাজ করার আহ্বানজানিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সাড়া না দেওয়ায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০১৮-১৯ সালের আদমশুমারি অনুসারে, খাউংলানহপু টাউনশিপের জনসংখ্যা প্রায় ১৪,৩০৪। সেখানে কাচিন, রাওয়াং, লিসু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি কিছু বামার এবং শান বাসিন্দা রয়েছে।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর, সামরিক সমর্থক মিলিশিয়া সাধারণ জনগণকে জোরপূর্বক নিয়োগ করে।এদের নেতৃত্বে রয়েছে টাং গু টান, যিনি পূর্বে কিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সামরিক সমর্থক মিলিশিয়া গঠন করেছিলেন। কিয়া ও কেপিএফের এই নতুন অভিযান পুতাও জেলায় তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।