সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এবার স্যার উপাধি পেলেন সাদিক খান

ছবি-সংগৃহীত

তৃতীয়বারের মতো লন্ডনের মেয়র হিসেবে রেকর্ড গড়ায় এবার নাইটহুড (স্যার উপাধি) পেয়েছেন সাদিক খান। এই অনন্য সম্মান পেয়ে ‘সত্যিই অভিভূত’ হয়েছেন বলে এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন স্যার সাদিক খান। তিনি বলেন, ‘আমি কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি যে দক্ষিণ লন্ডনের একটি কাউন্সিল এস্টেটে বড় হওয়ার পর একদিন লন্ডনের মেয়র হবো। এটি আমার জীবনের সর্বোচ্চ সম্মান যে আমি আমার প্রিয় শহরকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি এবং আমি লন্ডনের সব সম্প্রদায়ের জন্য একটি ন্যায্য, নিরাপদ, সবুজ এবং আরও সমৃদ্ধ লন্ডন গড়ে তোলার জন্য কাজ চালিয়ে যাব।’

সাদিক খানের পাশাপাশি স্টিফেন ফ্রাই নাইটহুড পেয়েছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন ইংল্যান্ড ফুটবল দলের সাবেক ম্যানেজার গ্যারেথ সাউথগেটও রয়েছেন। এছাড়া এমিলি থর্নবেরি লেবার দলের সাধারণ নির্বাচনে জয়ের পর প্রথম নববর্ষের সম্মাননা তালিকায় ডেম উপাধি পেয়েছেন। এই চারজনের নাম নববর্ষের সম্মাননা তালিকায় এসেছে।

তৃতীয়বারের মতো লন্ডনের এই মেয়র পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সুযোগ-বঞ্চিত পরিবারের ছেলে। সাদিক খান তার বাপ-মায়ের আট সন্তানের একজন। পাকিস্তান থেকে লন্ডনে আসা সাদিক খানের বাবা ছিলেন বাসচালক এবং মা জীবিকা নির্বাহের জন্য সেলাইয়ের কাজ করতেন। তারা থাকতেন দক্ষিণ লন্ডনের একটি এলাকায় দরিদ্রদের জন্য তৈরি সরকারি কাউন্সিল ফ্ল্যাটে। ছোটবেলা থেকেই সাদিক খান নিজে যে আদর্শে বিশ্বাসী তা নিয়ে লড়তে এবং সাফল্যের জন্য সব প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে পিছপা হননি। আর সেই আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্য তাকে যুক্তরাজ্যের অন্যতম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে তিনবার জয়ী করেছে।

সাদিক খানের বাবা আমানুল্লাহ খান এবং মা সেহেরুন খান পাকিস্তান থেকে লন্ডনে আসেন ১৯৭০ সালে, সাদিক খানের জন্মের কিছুদিন আগে। সাদিক খান তাদের আট সন্তানের মধ্যে পঞ্চম। তারা সাত ভাই এবং এক বোন। দক্ষিণ পশ্চিম লন্ডনের যে তিন-কামরার ফ্ল্যাটে তারা থাকতেন, সেখানে তাদের বড় পরিবারকে গাদাগাদি করে থাকতে হতো।

স্থানীয় একটি সরকারি স্কুলে তিনি পড়াশোনা করতেন এবং সেখানেই ১৫ বছর বয়সে তিনি রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং লেবার পার্টিতে যোগ দেন। সাদেক খান ছোটবেলা থেকেই মুসলিম ধর্মবিশ্বাসকে লালন করতেন এবং তিনি বলতেন বাবামা-র কাছ থেকে এই শিক্ষা তিনি পেয়েছিলেন,’কোথাও অন্যায় কিছু দেখলে তা পরিবর্তনের চেষ্টা করা তোমার কর্তব্য।’

তিনি লেখাপড়ায় ভাল ছিলেন, ফুটবল, বক্সিং এবং ক্রিকেট অনুরাগী ছিলেন। এমনকী তরুণ হিসাবে তিনি সারে কাউন্টি ক্রিকেট দলেও কিছুদিন ট্রেনিং নিয়েছিলেন।

১৯৯৪ সালে তিনি একটি আইন সংস্থায় মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। ওই বছরই তার স্ত্রী সাদিয়া আহমেদের সঙ্গে তার পরিচয় ও বিয়ে। সাদিয়াও আইন পড়তেন এবং কাকতালীয়ভাবে তিনিও বাসচালকের কন্যা।

সাদিক খান স্থানীয় প্রশাসনে ১২ বছর কাজ করেছেন। ২০০৪ সালে আইনজীবীর কাজ ছেড়ে তিনি পুরো সময়ের জন্য রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০০৫ সালে তিনি দক্ষিণ লন্ডনের টুটিং এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

রাজনীতিতে বিভিন্ন দলে তার সমসাময়িকরা বলেছেন সাদিক খান ‘খুবই বুদ্ধিদীপ্ত’ এবং ‘একগুঁয়ে’ প্রকৃতির ব্যক্তি এবং ‘তার যুক্তি খারিজ করে দেয়া প্রায়ই অসম্ভব ছিল’।

জনপ্রিয়

বাংলাদেশ নতি স্বীকার করবে না, আসিফ নজরুলের কড়া হুঁশিয়ারি

এবার স্যার উপাধি পেলেন সাদিক খান

প্রকাশের সময় : ০৪:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪

তৃতীয়বারের মতো লন্ডনের মেয়র হিসেবে রেকর্ড গড়ায় এবার নাইটহুড (স্যার উপাধি) পেয়েছেন সাদিক খান। এই অনন্য সম্মান পেয়ে ‘সত্যিই অভিভূত’ হয়েছেন বলে এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন স্যার সাদিক খান। তিনি বলেন, ‘আমি কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি যে দক্ষিণ লন্ডনের একটি কাউন্সিল এস্টেটে বড় হওয়ার পর একদিন লন্ডনের মেয়র হবো। এটি আমার জীবনের সর্বোচ্চ সম্মান যে আমি আমার প্রিয় শহরকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি এবং আমি লন্ডনের সব সম্প্রদায়ের জন্য একটি ন্যায্য, নিরাপদ, সবুজ এবং আরও সমৃদ্ধ লন্ডন গড়ে তোলার জন্য কাজ চালিয়ে যাব।’

সাদিক খানের পাশাপাশি স্টিফেন ফ্রাই নাইটহুড পেয়েছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন ইংল্যান্ড ফুটবল দলের সাবেক ম্যানেজার গ্যারেথ সাউথগেটও রয়েছেন। এছাড়া এমিলি থর্নবেরি লেবার দলের সাধারণ নির্বাচনে জয়ের পর প্রথম নববর্ষের সম্মাননা তালিকায় ডেম উপাধি পেয়েছেন। এই চারজনের নাম নববর্ষের সম্মাননা তালিকায় এসেছে।

তৃতীয়বারের মতো লন্ডনের এই মেয়র পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সুযোগ-বঞ্চিত পরিবারের ছেলে। সাদিক খান তার বাপ-মায়ের আট সন্তানের একজন। পাকিস্তান থেকে লন্ডনে আসা সাদিক খানের বাবা ছিলেন বাসচালক এবং মা জীবিকা নির্বাহের জন্য সেলাইয়ের কাজ করতেন। তারা থাকতেন দক্ষিণ লন্ডনের একটি এলাকায় দরিদ্রদের জন্য তৈরি সরকারি কাউন্সিল ফ্ল্যাটে। ছোটবেলা থেকেই সাদিক খান নিজে যে আদর্শে বিশ্বাসী তা নিয়ে লড়তে এবং সাফল্যের জন্য সব প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে পিছপা হননি। আর সেই আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্য তাকে যুক্তরাজ্যের অন্যতম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে তিনবার জয়ী করেছে।

সাদিক খানের বাবা আমানুল্লাহ খান এবং মা সেহেরুন খান পাকিস্তান থেকে লন্ডনে আসেন ১৯৭০ সালে, সাদিক খানের জন্মের কিছুদিন আগে। সাদিক খান তাদের আট সন্তানের মধ্যে পঞ্চম। তারা সাত ভাই এবং এক বোন। দক্ষিণ পশ্চিম লন্ডনের যে তিন-কামরার ফ্ল্যাটে তারা থাকতেন, সেখানে তাদের বড় পরিবারকে গাদাগাদি করে থাকতে হতো।

স্থানীয় একটি সরকারি স্কুলে তিনি পড়াশোনা করতেন এবং সেখানেই ১৫ বছর বয়সে তিনি রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং লেবার পার্টিতে যোগ দেন। সাদেক খান ছোটবেলা থেকেই মুসলিম ধর্মবিশ্বাসকে লালন করতেন এবং তিনি বলতেন বাবামা-র কাছ থেকে এই শিক্ষা তিনি পেয়েছিলেন,’কোথাও অন্যায় কিছু দেখলে তা পরিবর্তনের চেষ্টা করা তোমার কর্তব্য।’

তিনি লেখাপড়ায় ভাল ছিলেন, ফুটবল, বক্সিং এবং ক্রিকেট অনুরাগী ছিলেন। এমনকী তরুণ হিসাবে তিনি সারে কাউন্টি ক্রিকেট দলেও কিছুদিন ট্রেনিং নিয়েছিলেন।

১৯৯৪ সালে তিনি একটি আইন সংস্থায় মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। ওই বছরই তার স্ত্রী সাদিয়া আহমেদের সঙ্গে তার পরিচয় ও বিয়ে। সাদিয়াও আইন পড়তেন এবং কাকতালীয়ভাবে তিনিও বাসচালকের কন্যা।

সাদিক খান স্থানীয় প্রশাসনে ১২ বছর কাজ করেছেন। ২০০৪ সালে আইনজীবীর কাজ ছেড়ে তিনি পুরো সময়ের জন্য রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০০৫ সালে তিনি দক্ষিণ লন্ডনের টুটিং এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

রাজনীতিতে বিভিন্ন দলে তার সমসাময়িকরা বলেছেন সাদিক খান ‘খুবই বুদ্ধিদীপ্ত’ এবং ‘একগুঁয়ে’ প্রকৃতির ব্যক্তি এবং ‘তার যুক্তি খারিজ করে দেয়া প্রায়ই অসম্ভব ছিল’।