
শুভ তংচংগ্যা, সরকারি তিতুমীর কলেজ ঢাকা
পাহাড়ের প্রকৃতি, সংস্কৃতি, আর মানুষ এক অনন্য সৌন্দর্যের মিশেলে তৈরি। এই পাহাড়েই ফুটবে এক নতুন প্রজন্ম, যারা প্রকৃতির সজীবতাকে ধারণ করে আগামীর পথচলার প্রেরণা জোগাবে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে পাহাড়ের কাঁচা বাতাস, পাখির ডাক, আর সবুজের গন্ধে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্ম হবে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল এবং টেকসই উন্নয়নের অগ্রদূত।
পাহাড়ি অঞ্চলে নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে শিক্ষার বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা, এবং জীবনযাপনের মান উন্নয়ন হবে। শুধু পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত করছে না, বরং তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করছে। শিক্ষার আলো যেখানে পৌঁছাতে শুরু করেছে, সেখানেই ফুটতে শুরু করেছে নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন। প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিতি এবং সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে তারা গড়ে তুলছে উন্নত জীবনের ভিত।
পাহাড়ের মাটি যেমন উর্বর, তেমনই সেখানে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মও তাদের মননের উর্বরতায় আলোকিত হবে। তবে তাদের বিকাশে প্রয়োজন সহায়তার হাত। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রার বৈচিত্র্য রক্ষা করে তাদের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, এবং নারীদের ক্ষমতায়ন এই নতুন প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে।
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটাতে পারলে এই নতুন প্রজন্ম হবে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। তারা হবে প্রকৃতির রক্ষক, সমাজের উন্নয়নকর্মী, এবং দেশের অগ্রগতির শক্তি। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সম্পদ টিকিয়ে রাখতে তাদের ভূমিকা হবে অপরিহার্য।
তবে এই স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর একত্রে কাজ করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষার উপর জোর দেওয়া, শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা, এবং স্থানীয় জীবিকার বিকাশ ঘটানো একান্ত জরুরি।
পাহাড়ের বুকে ফুটবে এক নতুন প্রজন্ম, যারা প্রকৃতি আর প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে গড়বে এক আলোকিত ভবিষ্যৎ। তাদের হাত ধরেই পাহাড়ের জীবনের গতি বাড়বে, প্রকৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, এবং পাহাড়ি সংস্কৃতি পাবে নতুন মাত্রা। এই প্রজন্মের হাত ধরে পাহাড়ে উঠবে এক নতুন ভোর, যা আলোকিত করবে পুরো দেশকে।
শুভ তংচংগ্যা, সরকারি তিতুমীর কলেজ ঢাকা 







































