শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাপানিদের জুয়ায় আসক্তি বেড়েছে

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে জুয়ায় আসক্তি জাপানে একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে করোনা মহামারির সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এই সমস্যায় পড়েছে দেশটি। টোকিওতে অবস্থিত পাবলিক ইন্টারেস্ট ইনকরপোরেটেড অ্যাসোসিয়েশন ‘সোসাইটি কনসার্নড অ্যাবাউট দ্য গ্যাম্বলিং অ্যাডিকশন’ জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে তাদের কাছে পরামর্শ চেয়ে করা অনুরোধের পরিমাণ ১১ গুণ বেড়েছে। খবর জাপান টাইমসের।

অ্যাসোসিয়েশনের মতে, কিছু লোক জুয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে অনলাইনভিত্তিক ‘ইয়ামি বাইতো’ নামে পরিচিত অবৈধ খণ্ডকালীন চাকরির আশ্রয় নিয়েছে, যা একটি অস্বাভাবিক সামাজিক প্রবণতার অংশ।

প্রসঙ্গত, ‘ইয়ামি বাইতো’ যার অর্থ জাপানিতে দাঁড়ায় ‘অন্ধকার পার্ট টাইম কাজ’। এটি দ্বারা বোঝানো হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিগ্রামসহ এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে অপরাধী চক্রের পোস্ট করা চাকরির বিজ্ঞাপন। এর মাধ্যমে মূলত চাকরিপ্রার্থীদের ব্ল্যাকমেইল করা হয় বা দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অপরাধ করতে প্রলুব্ধ করা হয়। এসব অনৈতিক কাজের মধ্যে রয়েছে, বয়স্ক ব্যক্তিদের ঠকানোর মতো প্রতারণা থেকে শুরু করে চরম পর্যায়ে সশস্ত্র ডাকাতি।

অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নোরিকো তানাকা বলেন, ‘অনেক মানুষ জুয়ায় আসক্ত হয়ে অপরাধে লিপ্ত হচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমি গভীর সংকটে আছি।’ তিনি বলেন, অবৈধ অনলাইন ক্যাসিনো অবশ্যই নির্মূল করতে হবে।

খবরে বলা হয়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যে যারা ‘সোসাইটি কনসার্নড অ্যাবাউট দ্য গ্যাম্বলিং অ্যাডিকশন’ নামক অ্যাসোসিয়েশনটির কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ৯১ জন জানিয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যরা অনলাইন ক্যাসিনোতে জুয়া খেলছেন। তবে ২০১৯ সালে করোনা মহামারির আগে এমন উত্তরদাতার সংখ্যা ছিল মাত্র ৮।

অ্যাসোসিয়েশনের মতে, অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে জুয়ায় আসক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। কারণ এগুলো খেলোয়াড়দের স্মার্টফোন ব্যবহার করে ঘরে বসেই ২৪ ঘণ্টা জুয়া খেলার সুযোগ করে দেয়।

অ্যাসোসিয়েশনের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬৮১ জন উত্তরদাতার মধ্যে ৩০ শতাংশ বলেছেন তাদের জুয়ায় আসক্ত পরিবারের সদস্যরা অর্থ আত্মসাৎ, চুরি বা ইয়ামি বাইতোর মাধ্যমে অবৈধ কাজের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন।

জাপান টাইমস জানায়, একজন ষাটের দশকের নারীর ছেলে হাইস্কুলে থাকতেই পাচিনকো ও অন্যান্য খেলা খেলে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। সে প্রায়ই চাকরি পরিবর্তন করত এবং পরে তার মায়ের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করতে শুরু করে। ছেলেটি তার মাকে বলেছিল, যদি তিনি টাকা না পাঠানো হয়, তবে সে (চুরি, ছিনতাইয়ের মতো) অপরাধ করবে এবং সেখান থেকে টাকার সংকুলান করবে। এমন পরিস্থিতে, এখন পর্যন্ত তার মা তাকে প্রায় ১ কোটি ইয়েন পাঠিয়েছেন। ছেলেটি এখনো একটি ইয়ামি বাইতো চাকরির জন্য আবেদন করেছিল এবং পরে চুরির জন্য গ্রেপ্তার হয়। সেই চুরির সময় একজন ব্যক্তি আহত হন। ওই ছেলেটির মা জানান, “ঘটনার পরম্পরায় আমি কিছুই ভাবতে পারিনি। আমার ছেলে ছিল এক মহান হৃদয়ের মানুষ। সে আমাকে ‘মা দিবসে’ গ্ল্যাডিওলাস ফুল দিত।”

অ্যাসোসিয়েশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, যখন জুয়ার আসক্তি বাড়ে, তখন মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, জুয়া আসক্তির ফলে শুধু আসক্ত ব্যক্তিরই নয়, তাদের পরিবার ও সহকর্মীদেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়। অ্যাসোসিয়েশন পুলিশকে অনলাইন ক্যাসিনোর সঙ্গে সম্পর্কিত পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটরদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান শক্তিশালী করতে অনুরোধ করছে।

জনপ্রিয়

কলারোয়ায় বাস-নছিমন সংঘর্ষে নিহত ১

জাপানিদের জুয়ায় আসক্তি বেড়েছে

প্রকাশের সময় : ০৪:০১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৫

অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে জুয়ায় আসক্তি জাপানে একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে করোনা মহামারির সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এই সমস্যায় পড়েছে দেশটি। টোকিওতে অবস্থিত পাবলিক ইন্টারেস্ট ইনকরপোরেটেড অ্যাসোসিয়েশন ‘সোসাইটি কনসার্নড অ্যাবাউট দ্য গ্যাম্বলিং অ্যাডিকশন’ জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে তাদের কাছে পরামর্শ চেয়ে করা অনুরোধের পরিমাণ ১১ গুণ বেড়েছে। খবর জাপান টাইমসের।

অ্যাসোসিয়েশনের মতে, কিছু লোক জুয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে অনলাইনভিত্তিক ‘ইয়ামি বাইতো’ নামে পরিচিত অবৈধ খণ্ডকালীন চাকরির আশ্রয় নিয়েছে, যা একটি অস্বাভাবিক সামাজিক প্রবণতার অংশ।

প্রসঙ্গত, ‘ইয়ামি বাইতো’ যার অর্থ জাপানিতে দাঁড়ায় ‘অন্ধকার পার্ট টাইম কাজ’। এটি দ্বারা বোঝানো হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিগ্রামসহ এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে অপরাধী চক্রের পোস্ট করা চাকরির বিজ্ঞাপন। এর মাধ্যমে মূলত চাকরিপ্রার্থীদের ব্ল্যাকমেইল করা হয় বা দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অপরাধ করতে প্রলুব্ধ করা হয়। এসব অনৈতিক কাজের মধ্যে রয়েছে, বয়স্ক ব্যক্তিদের ঠকানোর মতো প্রতারণা থেকে শুরু করে চরম পর্যায়ে সশস্ত্র ডাকাতি।

অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নোরিকো তানাকা বলেন, ‘অনেক মানুষ জুয়ায় আসক্ত হয়ে অপরাধে লিপ্ত হচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমি গভীর সংকটে আছি।’ তিনি বলেন, অবৈধ অনলাইন ক্যাসিনো অবশ্যই নির্মূল করতে হবে।

খবরে বলা হয়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যে যারা ‘সোসাইটি কনসার্নড অ্যাবাউট দ্য গ্যাম্বলিং অ্যাডিকশন’ নামক অ্যাসোসিয়েশনটির কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ৯১ জন জানিয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যরা অনলাইন ক্যাসিনোতে জুয়া খেলছেন। তবে ২০১৯ সালে করোনা মহামারির আগে এমন উত্তরদাতার সংখ্যা ছিল মাত্র ৮।

অ্যাসোসিয়েশনের মতে, অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে জুয়ায় আসক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। কারণ এগুলো খেলোয়াড়দের স্মার্টফোন ব্যবহার করে ঘরে বসেই ২৪ ঘণ্টা জুয়া খেলার সুযোগ করে দেয়।

অ্যাসোসিয়েশনের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬৮১ জন উত্তরদাতার মধ্যে ৩০ শতাংশ বলেছেন তাদের জুয়ায় আসক্ত পরিবারের সদস্যরা অর্থ আত্মসাৎ, চুরি বা ইয়ামি বাইতোর মাধ্যমে অবৈধ কাজের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন।

জাপান টাইমস জানায়, একজন ষাটের দশকের নারীর ছেলে হাইস্কুলে থাকতেই পাচিনকো ও অন্যান্য খেলা খেলে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। সে প্রায়ই চাকরি পরিবর্তন করত এবং পরে তার মায়ের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করতে শুরু করে। ছেলেটি তার মাকে বলেছিল, যদি তিনি টাকা না পাঠানো হয়, তবে সে (চুরি, ছিনতাইয়ের মতো) অপরাধ করবে এবং সেখান থেকে টাকার সংকুলান করবে। এমন পরিস্থিতে, এখন পর্যন্ত তার মা তাকে প্রায় ১ কোটি ইয়েন পাঠিয়েছেন। ছেলেটি এখনো একটি ইয়ামি বাইতো চাকরির জন্য আবেদন করেছিল এবং পরে চুরির জন্য গ্রেপ্তার হয়। সেই চুরির সময় একজন ব্যক্তি আহত হন। ওই ছেলেটির মা জানান, “ঘটনার পরম্পরায় আমি কিছুই ভাবতে পারিনি। আমার ছেলে ছিল এক মহান হৃদয়ের মানুষ। সে আমাকে ‘মা দিবসে’ গ্ল্যাডিওলাস ফুল দিত।”

অ্যাসোসিয়েশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, যখন জুয়ার আসক্তি বাড়ে, তখন মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, জুয়া আসক্তির ফলে শুধু আসক্ত ব্যক্তিরই নয়, তাদের পরিবার ও সহকর্মীদেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়। অ্যাসোসিয়েশন পুলিশকে অনলাইন ক্যাসিনোর সঙ্গে সম্পর্কিত পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটরদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান শক্তিশালী করতে অনুরোধ করছে।