
যশোর অফিস
আজ বুধবার থেকে যশোরের চৌগাছায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী গুড়ের মেলা। সকাল সাড়ে ১১টায় এ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ আজহারুল ইসলাম। মেলায় উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে নিজেদের উৎপাদিত গুড় নিয়ে হাজির হয়েছেন চাষীরা। গুড়ের মেলায় অংশ নিয়ে এবং উৎপাদিত গুড় বিক্রি করতে পেরে খুশি তারা। সেইসাথে মেলা থেকে দেখেশুনে ভালো গুড় কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারাও। আয়োজকদের দাবি যশোরের গুড়ের ঐতিহ্যকে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও গ্রামীন অর্থনীতিকে মজবুত করতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
যশোর জেলার ৮টি উপজেলার চাষী পরিবারের সদস্যরা শীত মৌসুমে খেজুর গাছ থেকে রস আহরণ ও গুড় তৈরির কাজ করেন। একসময় প্রচুর পরিমাণে গুড় উৎপাদন হলেও কালের বিবর্তনে কমে এসেছে গুড় উৎপাদন। সেইসাথে খেজুর গাছ থেকে রস আহরণ ও গুড় উৎপাদনের সাথে জড়িত গাছির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে চাষীদের উদ্বুদ্ধ করতে তৃৃতীয়বারের মত তিন দিনব্যাপী ব্যতিক্রমী ‘ঐহিত্যবাহি খেজুর গুড়ের মেলার আয়োজন করেছে চৌগাছা উপজেলা প্রশাসন। মেলায় খেজুরের গুড়, পাটালিসহ খেঁজুর রস ও গুড় দিয়ে তৈরি নানা ধরনের পিঠা-পায়েসের পসরা নিয়ে বসেছে উপজেলার দুই শতাধিক গাছি। পাশাপাশি স্কাউটসের সদস্যরা মেলায় রস জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করে বিক্রির ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে খেজুর গুড় দিয়ে তৈরি বিভিন্ন প্রকারের পিঠার স্টল দেয়া হয়েছে।
আব্দুল কুদ্দুস নামে এক গাছি বলেন, এ বছর ১৩৯টি গাছ থেকে রস আহরণ করছি। প্রতিদিন ১০/১২ কেজি গুড় উৎপাদন হচ্ছে। আমরা নির্ভেজাল গুড় তৈরি করে মেলায় এনেছি। ভালো দাম পাচ্ছি।
মোশারফ হোসেন নামে অপর এক গাছি বলেন, এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এ মেলা হচ্ছে। মেলার ফলে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। অনেকেই খেজুর গাছ কেটে রস আহরন করছেন। তাছাড়া ভেজাল মুক্ত গুড়ের প্রচার-প্রচারণা হওয়ায় মানুষেরও আগ্রহ বেড়েছে। ঘুরে ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় আমরাও খুশি।
এদিকে মেলার খবর পেয়ে ভিড় করেছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। মেলা থেকে দেখেশুনে ভালো গুড় কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারাও। খেজুর গুড়ের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগ আরো বেশি বেশি নেওয়ার দাবি তাদের।
আব্দুস সামাদ নামে এক দর্শণার্থী বলেন,বাজারের থেকে গুড় কিনে কোন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। আমি গত বছরও মেলা থেকে গুড় কিনেছিলাম। আজও ৪ কেজি গুড় কিনেছি সাড়ে ৪শ’ টাকা দরে। গুড়টা বেশ ভালো।
আয়োজকদের দাবি জিআই পণ্য যশোরের গুড়ের ঐতিহ্যকে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও গ্রামীন অর্থনীতিকে মজবুত করতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম বলেন, মাত্র একটি পণ্য নিয়ে যশোরেই প্রথম মেলা এটি। এ সেক্টরে প্রবীনদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যেও উদ্যোক্তা সৃষ্টি হচ্ছে। যশোর ঐতিহ্যবাহী খেঁজুর গুড়কে ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর দেশজুড়ে এ জেলার রসগুড়ের খ্যাতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খেঁজুর গাছ চাষ, গাছ কাটা, রস আহরণ ও গুড় উৎপাদন করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। যারা এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এখন খেঁজুর গাছ আজ অস্থিত্ব সংকটে। কৃষি পণ্য হিসাবে এমনকি শিল্প পণ্য হিসাবে খেঁজুর গাছের গুড়-রসের চাহিদা থাকার কারনে এই গাছ রক্ষায় নতুন করে মানুষ জেগে উঠেছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহার সভাপতিত্বে মেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান, চৌগাছা থানার (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা কামাল হোসেন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন,উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাও. গোলাম মোর্শেদ প্রমুখ।
যশোর অফিস 







































