শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাঙ্গুনিয়ায় শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী স্মৃতি সংসদ পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

এম. মতিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগরে শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী স্মৃতি সংসদ ও কোচিং সেন্টারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে কার্যালয়ের সকল আসবাবপত্র। তবে মধ্যরাতে লাগা এ আগুনের ঘটনা জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। এই আগুন বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট নাকি দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াই টার দিকে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বন্দরাজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। কার্যালয়টি শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী স্মৃতি সংসদ নামে হলেও এটি ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের দলীয় কার্যালয়।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, ৪ মাস আগে বন্দরাজপাড়া এলাকার মুহাম্মদ হোসেনের বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী স্মৃতি সংসদ নামে বিএনপির কার্যালয় করা হয়। ওই কার্যালয়ে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে অস্ত্রের গুলি ছোড়ার ১০ মিনিটের মধ্যে কার্যালয়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। আগুন দেখে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও কার্যালয় ও কোচিং সেন্টারের ভিতর থাকা সব আসবাবপত্র পত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এব্যাপারে লালানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, কে বা কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত সেটা আমরা জানি না। জাতীয়তাবাদী দলের সব লোকজনই ওই অফিসে বসে। পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে। জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানান তিনি।
ইউনিয়ন বিএনপিনেতা মিজানুর রহমানের দাবি, এটি সাধারণ অগ্নিকাণ্ড নয়, আওয়ামী লীগের দোসররা পরিকল্পিতভাবে আগুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। কয়েকমাস ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপির বিরোধ চলে আসছিল। গত এক সাপ্তাহ আগে আওয়ামী লীগের দোসররা বিএনপির ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছিল। মূলত ওই বিরোধ থেকেই আওয়ামী লীগের দোসররা বিএনপির অফিসে আগুন লাগিয়েছ। আমরা এ ঘটনার নিন্দা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে বিষয়টি গভীর তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এম. এইচ সুমন জানান, লালানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতারা কয়েকদিন আগে দিনে প্রকাশ্যে আমাদের দলীয় ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে। সুতরাং এ থেকেই বুঝা যায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তারাই ঘটিয়েছে।
লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী শফিউল আলম বলেন, রাতে যখন প্রথম গুলির শব্দ হয়েছিল, তখন আমি স্কুলের বারান্দায় ডিউটিরত ছিলাম, পরে বের হয়ে দেখি বিএনপির অফিসে আগুন জ্বলছে। এসময় স্কুলের রাস্তা দিয়ে ৮/১০ জন লোককে  মুখ বাঁধা অবস্থায় চলে যেতে দেখেছি।
রাঙ্গুনিয়ার ফায়ার সার্ভিসের টীম লিডার জাহিদুর রহমান বলেন, আমরা খবর পেয়ে রাতে গিয়ে আগুন নিভাই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি দূঘর্টনা। বিদ্যুৎ (শটসার্কিট) থেকে আগুন লাগতে পারে।  তবে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। যেহেতু সংশ্লিষ্ট অফিসের লোকজনের অভিযোগ কেউ অগ্নি সংযোগ করেছে। তাই বিষয়টি তদান্তাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তাই এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু বলার সময় আসেনি। আগে তদন্তের কাজ শেষ হোক। তারপর আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
জনপ্রিয়

বেনাপোলে বিএনপির নেতার ভাইয়ের মৃত্যু,জানাজায় ধানের শীষের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন

রাঙ্গুনিয়ায় শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী স্মৃতি সংসদ পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

প্রকাশের সময় : ০৮:১৮:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৫
এম. মতিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগরে শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী স্মৃতি সংসদ ও কোচিং সেন্টারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে কার্যালয়ের সকল আসবাবপত্র। তবে মধ্যরাতে লাগা এ আগুনের ঘটনা জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। এই আগুন বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট নাকি দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াই টার দিকে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বন্দরাজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। কার্যালয়টি শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী স্মৃতি সংসদ নামে হলেও এটি ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের দলীয় কার্যালয়।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, ৪ মাস আগে বন্দরাজপাড়া এলাকার মুহাম্মদ হোসেনের বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী স্মৃতি সংসদ নামে বিএনপির কার্যালয় করা হয়। ওই কার্যালয়ে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে অস্ত্রের গুলি ছোড়ার ১০ মিনিটের মধ্যে কার্যালয়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। আগুন দেখে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও কার্যালয় ও কোচিং সেন্টারের ভিতর থাকা সব আসবাবপত্র পত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এব্যাপারে লালানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, কে বা কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত সেটা আমরা জানি না। জাতীয়তাবাদী দলের সব লোকজনই ওই অফিসে বসে। পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে। জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানান তিনি।
ইউনিয়ন বিএনপিনেতা মিজানুর রহমানের দাবি, এটি সাধারণ অগ্নিকাণ্ড নয়, আওয়ামী লীগের দোসররা পরিকল্পিতভাবে আগুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। কয়েকমাস ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপির বিরোধ চলে আসছিল। গত এক সাপ্তাহ আগে আওয়ামী লীগের দোসররা বিএনপির ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছিল। মূলত ওই বিরোধ থেকেই আওয়ামী লীগের দোসররা বিএনপির অফিসে আগুন লাগিয়েছ। আমরা এ ঘটনার নিন্দা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে বিষয়টি গভীর তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এম. এইচ সুমন জানান, লালানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতারা কয়েকদিন আগে দিনে প্রকাশ্যে আমাদের দলীয় ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে। সুতরাং এ থেকেই বুঝা যায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তারাই ঘটিয়েছে।
লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী শফিউল আলম বলেন, রাতে যখন প্রথম গুলির শব্দ হয়েছিল, তখন আমি স্কুলের বারান্দায় ডিউটিরত ছিলাম, পরে বের হয়ে দেখি বিএনপির অফিসে আগুন জ্বলছে। এসময় স্কুলের রাস্তা দিয়ে ৮/১০ জন লোককে  মুখ বাঁধা অবস্থায় চলে যেতে দেখেছি।
রাঙ্গুনিয়ার ফায়ার সার্ভিসের টীম লিডার জাহিদুর রহমান বলেন, আমরা খবর পেয়ে রাতে গিয়ে আগুন নিভাই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি দূঘর্টনা। বিদ্যুৎ (শটসার্কিট) থেকে আগুন লাগতে পারে।  তবে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। যেহেতু সংশ্লিষ্ট অফিসের লোকজনের অভিযোগ কেউ অগ্নি সংযোগ করেছে। তাই বিষয়টি তদান্তাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তাই এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু বলার সময় আসেনি। আগে তদন্তের কাজ শেষ হোক। তারপর আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।