
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ধ্বংসস্তূপে বসবাসরত মানুষদের জীবনে যুদ্ধের ক্ষত আজও গভীর। হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়ি-ঘর হারিয়ে নিঃস্ব। তবে এই কঠিন সময়েও, তারা নতুন করে জীবনের স্বপ্ন বুনছেন।দীর্ঘ ১৫ মাসের বেশী সময় ধরে চলা ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও বর্বরতার পর অবশেষে ফিলিস্তিনে গাজা যুদ্ধের অবসান হয়েছে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে।গাজার যুদ্ধবিরতির পর, মানুষ আবার নতুনভাবে জীবনের আশা খুঁজছেন।
হাতেম আল-আতার, যিনি গাজার সিভিল ডিফেন্সে কাজ করেন, তার জীবনযাত্রার এক অশ্রুসিক্ত কাহিনী। ২৫ বছর বয়সী এই তরুণ প্রতিনিয়ত মৃত্যুকে পাশে নিয়ে কাজ করেছেন। যুদ্ধের সময় তার বাবা, ভাবি ও সাত ভাগ্নে-বোনেরা নিহত হন সবাইকে হারিয়ে হাতেম থেমে থাকেননি,কাজ করে গেছেন অসহায় ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সেবায়।যুদ্ধবিরতির পর হাতেম বলছেন, “আমি আমার পড়াশোনা শেষ করব। ভবিষ্যতে বিয়ে করার কথা ভাবছি।” যুদ্ধের মধ্যে মানুষের জীবনের মূল্য কতটা ক্ষুদ্র তা বোঝা যায় তার অভিজ্ঞতা থেকে।
গাজার প্রায় ৯০% মানুষ বাস্তুচ্যুত। আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয়ের জন্য নিরলস পরিশ্রম করছে। এদিকে যুদ্ধের মানসিক ক্ষত বহু শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।১০ বছর বয়সী আমর আল-হিন্দির কথা আরও হৃদয়বিদারক। পরিবারের সবাইকে হারিয়েও তার স্বপ্ন তার ভাইয়ের ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা পূরণ করা। “আমি আলির স্বপ্ন পূরণ করতে চাই,” বলে আমর কান্নায় ভেঙে পড়ে আমর।
গাজার যুদ্ধবিরতির এই মুহূর্তে মানুষ নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছে। যদিও পুনর্গঠনের কাজ দীর্ঘ এবং কষ্টসাধ্য, তবুও গাজার মানুষ এই প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করার সংকল্প করেছে। নতুন আশার আলো তাদের সামনে পথ দেখাবে। সূত্র: বিবিসি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 







































