
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের সামরিক হামলা ছাড়াই ইরানের সঙ্গে একটি পরমাণু চুক্তির বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি বলেছেন, তিনি আশা করেন যে ইরানের পারমাণবিক সংকট এমনভাবে সমাধান হবে যাতে ইসরায়েলকে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাতে না হয়।
ট্রাম্প এমন সময় এই মন্তব্য করলেন যখন গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট তার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফকে ইরান ইস্যুতে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নিয়োগের পরিকল্পনা করছেন। এ ছাড়া এই মন্তব্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি মোকাবিলার ক্ষেত্রে সামরিক পথে না হেঁটে কূটনৈতিকভাবে সমাধানের নীতির ইঙ্গিত দেয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ওভাল অফিসে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলাকে সমর্থন করবেন কিনা। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না। তবে শিগগিরই এ বিষয়ে বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
তিনি বলেন, আশা করছি, এটি এমনভাবে সমাধান করা যাবে যাতে আরও কঠিন পদক্ষেপ নিতে না হয়। এটি সত্যিই ভালো হবে যদি এটি সহজভাবে সমাধান করা যায়।
ট্রাম্প আরও বলেন, আশা করি ইরান একটি চুক্তিতে আসবে। আর যদি না আসে, তাহলেও কোনো সমস্যা নেই।
এর আগে বুধবার (২২ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ইরানের কৌশলগত বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জাভেদ জারিফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেই একটি নতুন পরমাণু চুক্তির আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি আশা করি যে এবার দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসন আরও গুরুতর, আরও মনোযোগী ও আরও বাস্তববাদী হবে।
২০১৫ সালে চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। চুক্তি মোতাবেক ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়। শর্ত মেনে চলার বদলে সে সময় ইরানের ওপর আরোপ করা বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।
তবে ২০১৮ সালে একতরফাভাবে ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তবে হোয়াইট হাউস জো বাইডেন ফিরলে পুরোনো ওই চুক্তিতে ফেরার কথা বলেছিলেন তিনি। এ লক্ষ্যে বিশ্বশক্তিগুলো বিভিন্ন সময় আলোচনা করলেও তা সফল হয়নি।
গত ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে চুক্তির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। গত কয়েক মাসে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ এ বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনাও করে। তবে এখন দেখার বিষয় ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে কোন পথে হাঁটেন ট্রাম্প। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 







































