সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আত্মসাতের অর্থে লন্ডনে বিলাসবহুল ফ্লাট কিনেছেন টিউলিপ, টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের সাবেক নগর ও দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে তহবিল লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, আত্মসাৎ করা অর্থ ব্যবহার করে লন্ডনে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। বিষয়টি তদন্ত করছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিক, তার খালা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মা শেখ রেহানাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য মিলে রাশিয়ার অর্থায়নে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই অর্থের একটি অংশ ৭ লাখ পাউন্ড ব্যয়ে লন্ডনে একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের নৈতিকতাবিষয়ক উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাস এক তদন্ত শেষে জানান, টিউলিপ সিদ্দিক অনিচ্ছাকৃতভাবে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করেছেন।

এরপর তিনি ট্রেজারি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলছে, তদন্তে উঠে এসেছে যে, মালয়েশিয়ার অফশোর ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ পাচার করে লন্ডনে উচ্চমূল্যের সম্পত্তি কেনা হয়েছে। এক দুদক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য টেলিগ্রাফ-কে জানান, গোপন অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে, তাই আমরা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছি।

তবে টিউলিপ সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, টিউলিপের বিদেশে কোনো সম্পত্তি বা ব্যাংক হিসাব নেই।

এ বিষয়ে লেবার পার্টির এক সূত্র জানিয়েছে, ২০০৪ সালে এক ব্যবসায়ী তাকে যে ফ্ল্যাটটি উপহার দিয়েছিলেন, সেটির বর্তমান মূল্য ৭ লাখ পাউন্ড। তবে এটি রূপপুর প্রকল্পের অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই, কারণ রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০১৩ সালে।

টিউলিপ সিদ্দিকের এক মুখপাত্র বলেছেন, এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই, এবং টিউলিপ সিদ্দিক এখনো কোনো আইনি নোটিশ পাননি। দুদক জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং শিগগিরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

জনপ্রিয়

চিন্ময় দাসসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

আত্মসাতের অর্থে লন্ডনে বিলাসবহুল ফ্লাট কিনেছেন টিউলিপ, টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন

প্রকাশের সময় : ০১:১৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

যুক্তরাজ্যের সাবেক নগর ও দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে তহবিল লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, আত্মসাৎ করা অর্থ ব্যবহার করে লন্ডনে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। বিষয়টি তদন্ত করছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিক, তার খালা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মা শেখ রেহানাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য মিলে রাশিয়ার অর্থায়নে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই অর্থের একটি অংশ ৭ লাখ পাউন্ড ব্যয়ে লন্ডনে একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের নৈতিকতাবিষয়ক উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাস এক তদন্ত শেষে জানান, টিউলিপ সিদ্দিক অনিচ্ছাকৃতভাবে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করেছেন।

এরপর তিনি ট্রেজারি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলছে, তদন্তে উঠে এসেছে যে, মালয়েশিয়ার অফশোর ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ পাচার করে লন্ডনে উচ্চমূল্যের সম্পত্তি কেনা হয়েছে। এক দুদক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য টেলিগ্রাফ-কে জানান, গোপন অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে, তাই আমরা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছি।

তবে টিউলিপ সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, টিউলিপের বিদেশে কোনো সম্পত্তি বা ব্যাংক হিসাব নেই।

এ বিষয়ে লেবার পার্টির এক সূত্র জানিয়েছে, ২০০৪ সালে এক ব্যবসায়ী তাকে যে ফ্ল্যাটটি উপহার দিয়েছিলেন, সেটির বর্তমান মূল্য ৭ লাখ পাউন্ড। তবে এটি রূপপুর প্রকল্পের অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই, কারণ রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০১৩ সালে।

টিউলিপ সিদ্দিকের এক মুখপাত্র বলেছেন, এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই, এবং টিউলিপ সিদ্দিক এখনো কোনো আইনি নোটিশ পাননি। দুদক জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং শিগগিরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।