বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাবতলীতে চারশত বছরের ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা শুরু কাল

আমিনুল আকন্দ, গাবতলী (বগুড়া)

ঢাকঢোল পিটিয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য আগামীকাল বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) পূর্ব বগুড়া তথা গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন । স্বজনদের আপ্যায়ন করতে মেলার আশপাশের গ্রামের অনেক বাড়ীতে ধুম পড়ে গেছে নানা আয়োজনে।

উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের অর্ন্তগত গোলাবাড়ী বন্দর সংলগ্ন প্রায় চারশত বছর পূর্বে থেকে স্থানীয় সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে গাড়ীদহ নদী ঘেঁষে সম্পূর্ন ব্যক্তি মালিকানা জমিতে একদিনের জন্য মেলাটি বসে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ মেলায় এসে ক্রয়-বিক্রয় করে। মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামের প্রতিটি বাড়ীতে আত্বীয়  স্বজন এসে সমবেত হয়। ঈদ বা কোন উৎসবে জামাই-মেয়েসহ অন্যান্য আত্বীয় স্বজনদের দাওয়াত না দিলেও তেমন কোন সমস্যা নেই। তবে মেলা উপলক্ষে দাওয়াত দিতেই হবে, যা রেওয়াজে পরিনীত হয়েছে। মেলাটি একদিনের জন্য হলেও ওই এলাকায় মেলার আমেজ থাকে সপ্তাহ ব্যাপী। মেলা উপলক্ষে খরচার জন্য নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার বছরের শুরু থেকে মাটির ব্যাংক অথবা অন্য কোথাও সুজুগ মতে অল্প অল্প করে টাকা-পয়সা জমা রেখে মেলার সময় বের করে। এই মেলাকে ঘিরে উপজেলার দুর্গাহাটা, বাইগুনি, সুবোধ বাজার, দাড়াইল বাজারসহ আরো কয়েকটি স্থানে মেলা বসানো হয়। মেলায় প্রসিদ্ধ হলো বড় বড় মাছ, হরেক রকম মিষ্টি, কাঠ বা ষ্ঠীলের র্ফানিচার, বড়ই (কুল), কৃষি সামগ্রীসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও খাদ্য দ্রব্য হাট-বাজারের ন্যায় কেনা-বেচা করা হয়। এ ছাড়া বিনোদনমূলক সার্কাস, নৌকা, মাইক্রো-কার খেলা, যাদু, ও নাগোরদোলার আয়োজন করা হয়। মেলাটি জন্মের পর থেকে মহিষাবান গ্রামের মন্ডল পরিবার পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মেলার লাইসেন্স দেয়া হয়।

বাংলার প্রতি বছরের মাঘ মাসের শেষ অথবা ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার মেলাটি হয়ে থাকে। মেলাটি আগামী ১২ফের্রুয়ারী বুধবার হলেও ইতিমধ্যে বেশকিছু দোকান ঘর স্থাপন করা হয়েছে। হরেক রকম হাজার হাজার মণ মিষ্টি তৈরী করার প্রস্তুতি চলছে।

এ ব্যাপারে মন্ডল পরিবারের সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ মন্ডলের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি নিকুঞ্জ কুমার পাল জানান, শতশত বছর আগে থেকে সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলা হয়ে আসছে। এর ধারা বাহিকতায় এবারও শান্তিপূর্ণভাবে ৪৫৩তম মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে মেলার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিক ইকবাল এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আয়োজকরা সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে মেলার অনুমতি পেলে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলায় আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।

জনপ্রিয়

১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি: প্রেস সচিব

গাবতলীতে চারশত বছরের ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা শুরু কাল

প্রকাশের সময় : ০৪:০৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আমিনুল আকন্দ, গাবতলী (বগুড়া)

ঢাকঢোল পিটিয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য আগামীকাল বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) পূর্ব বগুড়া তথা গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন । স্বজনদের আপ্যায়ন করতে মেলার আশপাশের গ্রামের অনেক বাড়ীতে ধুম পড়ে গেছে নানা আয়োজনে।

উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের অর্ন্তগত গোলাবাড়ী বন্দর সংলগ্ন প্রায় চারশত বছর পূর্বে থেকে স্থানীয় সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে গাড়ীদহ নদী ঘেঁষে সম্পূর্ন ব্যক্তি মালিকানা জমিতে একদিনের জন্য মেলাটি বসে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ মেলায় এসে ক্রয়-বিক্রয় করে। মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামের প্রতিটি বাড়ীতে আত্বীয়  স্বজন এসে সমবেত হয়। ঈদ বা কোন উৎসবে জামাই-মেয়েসহ অন্যান্য আত্বীয় স্বজনদের দাওয়াত না দিলেও তেমন কোন সমস্যা নেই। তবে মেলা উপলক্ষে দাওয়াত দিতেই হবে, যা রেওয়াজে পরিনীত হয়েছে। মেলাটি একদিনের জন্য হলেও ওই এলাকায় মেলার আমেজ থাকে সপ্তাহ ব্যাপী। মেলা উপলক্ষে খরচার জন্য নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার বছরের শুরু থেকে মাটির ব্যাংক অথবা অন্য কোথাও সুজুগ মতে অল্প অল্প করে টাকা-পয়সা জমা রেখে মেলার সময় বের করে। এই মেলাকে ঘিরে উপজেলার দুর্গাহাটা, বাইগুনি, সুবোধ বাজার, দাড়াইল বাজারসহ আরো কয়েকটি স্থানে মেলা বসানো হয়। মেলায় প্রসিদ্ধ হলো বড় বড় মাছ, হরেক রকম মিষ্টি, কাঠ বা ষ্ঠীলের র্ফানিচার, বড়ই (কুল), কৃষি সামগ্রীসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও খাদ্য দ্রব্য হাট-বাজারের ন্যায় কেনা-বেচা করা হয়। এ ছাড়া বিনোদনমূলক সার্কাস, নৌকা, মাইক্রো-কার খেলা, যাদু, ও নাগোরদোলার আয়োজন করা হয়। মেলাটি জন্মের পর থেকে মহিষাবান গ্রামের মন্ডল পরিবার পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মেলার লাইসেন্স দেয়া হয়।

বাংলার প্রতি বছরের মাঘ মাসের শেষ অথবা ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার মেলাটি হয়ে থাকে। মেলাটি আগামী ১২ফের্রুয়ারী বুধবার হলেও ইতিমধ্যে বেশকিছু দোকান ঘর স্থাপন করা হয়েছে। হরেক রকম হাজার হাজার মণ মিষ্টি তৈরী করার প্রস্তুতি চলছে।

এ ব্যাপারে মন্ডল পরিবারের সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ মন্ডলের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি নিকুঞ্জ কুমার পাল জানান, শতশত বছর আগে থেকে সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলা হয়ে আসছে। এর ধারা বাহিকতায় এবারও শান্তিপূর্ণভাবে ৪৫৩তম মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে মেলার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিক ইকবাল এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আয়োজকরা সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে মেলার অনুমতি পেলে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলায় আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।