বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাবতলীতে বউ মেলায় নারীদের উপচে পড়া ভীড় 

আমিনুল আকন্দ, গাবতলী (বগুড়া)
বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় পূর্ব বগুড়া তথা গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলার পর ১৩ফেব্রুয়ারী/২৫ বৃহস্পতিবার মহিষাবান দেবউত্তর মধ্যপাড়া গ্রামে বউ মেলা সম্পন্ন হয়েছে। এই মেলায় শুধু তরুণী, গৃহবধুসহ সব বয়সের মেয়েরা কেনাকাটা করে থাকে। পুরুষদের প্রবেশ নিষেধ থাকায় সব বয়সের মেয়েরা স্বাচ্ছন্দে মতে কেনাকাটা করেছে। মহিষাবান দেবউত্তর মধ্যপাড়ায় প্রায় ২৫বছর পূর্বে থেকে ব্যক্তি মালিকায় স্বল্প পরিসরে জমিতে বউ মেলা হয়ে আসছে। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান আড়ৎদারের নেতৃত্বে মহিষাবানে এই বউ মেলাটি হয়। তিনি (শাহজাহান) মৃত্যুর পর অন্যান্যরা মেলাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তাছাড়াও এলাকার কিছু ব্যক্তিবর্গ বউ মেলা পরিচালনায় সহযোগিতা করে থাকেন। তবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পোড়াদহ মেলার লাইসেন্স হলেও বউ মেলার কোন লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়াই হচ্ছে। বউ মেলায় আসা গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলা সদরের তরুনী আরেফা খাতুন, বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচী গ্রামের রেমী বানু, সোনাতলা উপজেলার ঠাকুরপাড়া এলাকার তরুনী শিল্পী খাতুন ও গাবতলীর বালিয়াদীঘি গ্রামের গৃহবধু উম্মে কুলছুম বেগম জানান, এই মেলায় পুরুষদের প্রবেশ নিষেধ থাকায় আমরা স্বাচ্ছন্দে মতে কেনাকাটা করেছি। উপজেলার সোনাকানিয়া গ্রামের রানী আক্তার জানান, আমরা প্রতি বছরই এই মেলায় এসে কেনাকাটা করে থাকি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এ মেলায় গৃহবধু, তরুনী ও শিশুদের ছিল উপচেপড়া ভীড়। এই মেলায় বিভিন্ন ধরনের শতাধিক দোকানপাট ছিল। মেলার মূল আকর্ষণ ছিলো তরুনীদের জন্য কসমেটিকস, গৃহবধূদের জন্য সাংসারিক জিসিনপত্র আর শিশুদের জন্য নাগরদোলা ও বিভিন্ন খেলনা। মূলত পোড়াদহ মেলাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় উৎসবের আমেজ বইছে। যা মেলার আগে এবং পরে সপ্তাহব্যাপী এই আমেজ থাকে। এবার মহিষাবানে বউ মেলার দায়িত্বে রয়েছে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মশিউর রহমান সুমন।
তবে রানিরপাড়ায় এবার বউ মেলা বসানো হয়নি। যুবদল নেতা মশিউর রহমান সুমন জানান, ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মেলাটি বসানো হয়েছে। এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিক ইকবাল এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, পোড়াদহ জামাই মেলার পরেরদিন দীর্ঘ কয়েক বছর হলে বউ মেলা হয়ে আসছে। স্থানীয়রা এই ঐতিহ্য ধরে রাখছেন। তবে আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মানুষের জান মালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল, রয়েছে এবং থাকবে। মেলার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান সুমন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ন আহবায়ক আরাফাত, খোকন, শাহীনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও এলাকার অনেকে।
জনপ্রিয়

টাকা দিয়ে ভোট কেনা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও আচরণবিধির লঙ্ঘন: মাহদী আমিন

গাবতলীতে বউ মেলায় নারীদের উপচে পড়া ভীড় 

প্রকাশের সময় : ০৮:২০:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
আমিনুল আকন্দ, গাবতলী (বগুড়া)
বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় পূর্ব বগুড়া তথা গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলার পর ১৩ফেব্রুয়ারী/২৫ বৃহস্পতিবার মহিষাবান দেবউত্তর মধ্যপাড়া গ্রামে বউ মেলা সম্পন্ন হয়েছে। এই মেলায় শুধু তরুণী, গৃহবধুসহ সব বয়সের মেয়েরা কেনাকাটা করে থাকে। পুরুষদের প্রবেশ নিষেধ থাকায় সব বয়সের মেয়েরা স্বাচ্ছন্দে মতে কেনাকাটা করেছে। মহিষাবান দেবউত্তর মধ্যপাড়ায় প্রায় ২৫বছর পূর্বে থেকে ব্যক্তি মালিকায় স্বল্প পরিসরে জমিতে বউ মেলা হয়ে আসছে। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান আড়ৎদারের নেতৃত্বে মহিষাবানে এই বউ মেলাটি হয়। তিনি (শাহজাহান) মৃত্যুর পর অন্যান্যরা মেলাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তাছাড়াও এলাকার কিছু ব্যক্তিবর্গ বউ মেলা পরিচালনায় সহযোগিতা করে থাকেন। তবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পোড়াদহ মেলার লাইসেন্স হলেও বউ মেলার কোন লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়াই হচ্ছে। বউ মেলায় আসা গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলা সদরের তরুনী আরেফা খাতুন, বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচী গ্রামের রেমী বানু, সোনাতলা উপজেলার ঠাকুরপাড়া এলাকার তরুনী শিল্পী খাতুন ও গাবতলীর বালিয়াদীঘি গ্রামের গৃহবধু উম্মে কুলছুম বেগম জানান, এই মেলায় পুরুষদের প্রবেশ নিষেধ থাকায় আমরা স্বাচ্ছন্দে মতে কেনাকাটা করেছি। উপজেলার সোনাকানিয়া গ্রামের রানী আক্তার জানান, আমরা প্রতি বছরই এই মেলায় এসে কেনাকাটা করে থাকি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এ মেলায় গৃহবধু, তরুনী ও শিশুদের ছিল উপচেপড়া ভীড়। এই মেলায় বিভিন্ন ধরনের শতাধিক দোকানপাট ছিল। মেলার মূল আকর্ষণ ছিলো তরুনীদের জন্য কসমেটিকস, গৃহবধূদের জন্য সাংসারিক জিসিনপত্র আর শিশুদের জন্য নাগরদোলা ও বিভিন্ন খেলনা। মূলত পোড়াদহ মেলাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় উৎসবের আমেজ বইছে। যা মেলার আগে এবং পরে সপ্তাহব্যাপী এই আমেজ থাকে। এবার মহিষাবানে বউ মেলার দায়িত্বে রয়েছে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মশিউর রহমান সুমন।
তবে রানিরপাড়ায় এবার বউ মেলা বসানো হয়নি। যুবদল নেতা মশিউর রহমান সুমন জানান, ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মেলাটি বসানো হয়েছে। এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিক ইকবাল এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, পোড়াদহ জামাই মেলার পরেরদিন দীর্ঘ কয়েক বছর হলে বউ মেলা হয়ে আসছে। স্থানীয়রা এই ঐতিহ্য ধরে রাখছেন। তবে আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মানুষের জান মালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল, রয়েছে এবং থাকবে। মেলার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান সুমন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ন আহবায়ক আরাফাত, খোকন, শাহীনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও এলাকার অনেকে।