মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পানামার হোটেলে বন্দি অভিবাসীদের আর্তনাদ, ‘আমাদের বাঁচান’

ছবি: সংগৃহীত

পানামার এক হোটেলের জানালা দিয়ে অসহায়ভাবে সাহায্য চাইছেন কয়েকজন অবৈধ অভিবাসী। এদের মধ্যে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা, ভারত, ইরান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক আছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩০০ জনকে পানামায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানামা সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির আওতায় তারা বর্তমানে পানামার একটি হোটেলে অবস্থান করছেন। এসব অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে অন্তত ৪০ শতাংশ নিজ দেশে ফিরে যেতে চান না।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় ১৭১ জনের ফেরার ব্যবস্থা করা হলেও ১২৮ জন এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। যারা যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, তাদের পানামার দারিয়েন প্রদেশের এক সুরক্ষিত কেন্দ্রে রাখা হবে।
 
পানামার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্র্যাঙ্ক আবরেগো জানিয়েছেন, হোটেলে রাখা হয়েছে অবৈধবাসীদের। তাদের খাওয়া-দাওয়া এবং চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
 
তবে অবৈধ অভিবাসীদের হোটেল থেকে তাদের বাইরে বার হওয়ার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। হোটেল থেকেই অবৈধবাসীদের অধিকাংশের কাতর আর্জি, ‘আমাদের বাঁচান’।
 
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প শিগগিরই অবৈধ অভিবাসীদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তহবিল নিষিদ্ধ করতে একটি নির্বাহী আদেশ সই করবেন।
 
নতুন আদেশের মাধ্যমে জনগণের পরিশোধিত করের অর্থ থেকে অবৈধ অভিবাসীদের দেয়া আথিক সহায়তা, পরিষেবা বন্ধ করা হবে। এসব ফেডারেল সুবিধা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা বা নির্দিষ্ট অভিবাসীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। এই আদেশ অনুযায়ী, ফেডারেল সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেয়া হবে, তারা যেন অভিবাসীদের জন্য আর্থিক সুবিধা প্রদানকারী সব কর্মসূচি চিহ্নিত করে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।
 
ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, অবৈধ অভিবাসন বাড়তে থাকায় বাজেটে বাড়তি চাপ পড়ছে, যা নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সুবিধাকে সংকটের মুখে ফেলছে।
 
হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, অবৈধ অভিবাসীদের সেবা দিতে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের দেয়া প্রায় ১৮ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে। এদিকে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ব্যয় ৪৫ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে বলে দাবি হাউস হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির।
জনপ্রিয়

বকশীগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

পানামার হোটেলে বন্দি অভিবাসীদের আর্তনাদ, ‘আমাদের বাঁচান’

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৪:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

পানামার এক হোটেলের জানালা দিয়ে অসহায়ভাবে সাহায্য চাইছেন কয়েকজন অবৈধ অভিবাসী। এদের মধ্যে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা, ভারত, ইরান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক আছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩০০ জনকে পানামায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানামা সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির আওতায় তারা বর্তমানে পানামার একটি হোটেলে অবস্থান করছেন। এসব অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে অন্তত ৪০ শতাংশ নিজ দেশে ফিরে যেতে চান না।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় ১৭১ জনের ফেরার ব্যবস্থা করা হলেও ১২৮ জন এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। যারা যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, তাদের পানামার দারিয়েন প্রদেশের এক সুরক্ষিত কেন্দ্রে রাখা হবে।
 
পানামার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্র্যাঙ্ক আবরেগো জানিয়েছেন, হোটেলে রাখা হয়েছে অবৈধবাসীদের। তাদের খাওয়া-দাওয়া এবং চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
 
তবে অবৈধ অভিবাসীদের হোটেল থেকে তাদের বাইরে বার হওয়ার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। হোটেল থেকেই অবৈধবাসীদের অধিকাংশের কাতর আর্জি, ‘আমাদের বাঁচান’।
 
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প শিগগিরই অবৈধ অভিবাসীদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তহবিল নিষিদ্ধ করতে একটি নির্বাহী আদেশ সই করবেন।
 
নতুন আদেশের মাধ্যমে জনগণের পরিশোধিত করের অর্থ থেকে অবৈধ অভিবাসীদের দেয়া আথিক সহায়তা, পরিষেবা বন্ধ করা হবে। এসব ফেডারেল সুবিধা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা বা নির্দিষ্ট অভিবাসীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। এই আদেশ অনুযায়ী, ফেডারেল সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেয়া হবে, তারা যেন অভিবাসীদের জন্য আর্থিক সুবিধা প্রদানকারী সব কর্মসূচি চিহ্নিত করে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।
 
ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, অবৈধ অভিবাসন বাড়তে থাকায় বাজেটে বাড়তি চাপ পড়ছে, যা নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সুবিধাকে সংকটের মুখে ফেলছে।
 
হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, অবৈধ অভিবাসীদের সেবা দিতে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের দেয়া প্রায় ১৮ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে। এদিকে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ব্যয় ৪৫ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে বলে দাবি হাউস হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির।