
মারুফ বাবু, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
মোংলা উপজেলার ০৬ নং চিলা ইউনিয়নে ০১ নং ওয়ার্ডের গা ঘেঁষা গ্রাম দক্ষিণ হলদিবুনিয়া মোঃ মোস্তফা সরদার’র ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম। ব্যাবসার পাশাপাশি বাড়িতে বসেই রোজগারের সিদ্ধান্ত নেন। মা ও স্ত্রীর সহযোগিতায় নিয়ে মোংলা উপজেলায় চিলা ইউনিয়নে বৈদ্যমারী বাজারে দক্ষিণ হলদিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের পাশে ছোট্ট একটি ঘরের আঙ্গিনায় উপজেলা কৃষি অফিস এর পরামর্শ ও সহযোগিতায় ১বছর আগে শুরু করেন ভার্মি কম্পোস্ট ও মাশরুম চাষ,যার নামকরণ করা হয় ফিউচার ডেভলপমেন্ট অব বাংলাদেশ মাশরুম & এগ্রো সেন্টার।
বৈদ্যমারী টু জিউধারা প্রধান সড়কের পাশে মাশরুম সেন্টারের অবস্থান। তাই প্রতি মাসে এই সেন্টার হতে যে ভার্মি কম্পোস্ট ও মাশরুম উৎপাদন হয় বিক্রির জন্য কোনো হাটবাজারে যাওয়া লাগে না। সড়কে চলাচলরত পথচারী,স্থানীয়রা এবং বিভিন্ন এনজিও কর্মীরা তার মাশরুম কিনে নিয়ে যায়।
মাশরুম সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, তরুণ উদ্যোক্তা রবিউল ইসলাম তার মাশরুম সেন্টারে কাজ করছেন। পিপি ব্যাগে রোপণ করা মাশরুমে তিনি পানি স্প্রে করছেন। এ সময় কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, রবিউল ইসলাম ঢাকার সাভারের জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র হতে চাষ পদ্ধতি এর ব্যবহার এবং পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে জেনে আসেন। মাশরুম চাষ সম্পর্কে তিনি বলেন, সামান্য জায়গা, অল্প পুঁজি আর ইচ্ছা শক্তি হলেই এটি সম্ভব।যা দ্বারা নিজ পরিবারের তথা সমগ্র জাতির পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব।
চাষের জন্য পিপি ব্যাগ দরকার, এরপর ওই ব্যাগে পরিমাণ মত গমের ভূষি, কাঠের গুড়া, ধানের তুষ, পরিমাণমত চুন, সমপরিমাণ পানি দিয়ে মিশ্রনটি প্যাকেট করে মুখ বেঁধে বাষ্প আকারে ১২০ ডিগ্রি তাপে ১.৫ কেজি চাপে ০৪ ঘন্টা তাপ দিয়ে জীবাণু মুক্ত করতে হয়। এরপর উঠিয়ে ১২ ঘন্টা ঠান্ডা স্থানে রাখতে হয় তারপর এই বানিজ্যিক স্পুন প্যাকেটের মধ্যে মাশরুমের মূল উপাদান (মাদার) প্রতিটি ব্যাগে ঢুকিয়ে ব্যাগটি নির্দিষ্ট একটি স্থানে ৩০দিন রেখে দিতে হবে।৩০দিন পর তা মাইসিলিয়াম পূর্ন হলে ব্যাগের দুই কাঁধে উল্টো D কেটে পানি স্প্রে করতে হয়। কিছু দিন পরেই ওই ছিদ্র দিয়ে মাশরুম বের হতে শুরু করে। একটি ব্যাগ হতে আড়াই শ গ্রাম মাশরুম পাওয়া যায়। ওই ধরনের চারটি ব্যাগ হতে ১ কেজি মাশরুম হয় যার বাজার দর আনুমানিক ৩শ টাকা।
মাশরুম চাষে কোনো সার কীটনাশক বা মাটি লাগে না, এর একমাত্র খাদ্য হচ্ছে পানি, দিনে তিনবার পানি স্প্রে করতে হয়। ব্যাগ হতে মাশরুম বের হলে চার পাঁচ দিনের মধ্যেই তা বাজারজাত শুরু করা যায়। তিনি বলেন, এই সেন্টারে ওয়েস্টার জাতের মাশরুমের চাষ করা হয়। বর্তমানে তার সেন্টারে শতাদিক মাশরুম স্পুন প্যাকেট আছে, মাশরুম চাষের পাশাপাশি ভার্মি কম্পোস্ট স্যার তৈরী করেন,যা তৈরী করতে অস্ট্রেলিয়ান এপিজি জাতের কেঁচো ব্যাবহার করেন,এই স্যার থেকেও মোটামুটি ভাল উপার্জন করা সম্ভব বর্তমানে ১০০০ কেজি স্যার মজুত আছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত হাওলাদার বলেন, মোংলা উপজেলায় ব্যাপক ভাবে ভার্মি কম্পোস্ট মাশরুমের চাষ শুরু হয়নি। অল্প কিছু ব্যক্তি এই ভার্মি কম্পোস্ট ও মাশরুম চাষ শুরু করেছেন এবং তারা লাভবান হচ্ছেন বলে খবর পেয়েছি।
প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য মাশরুম ও ভার্মি কম্পোস্ট উদ্যোক্তা মোঃ রবিউল ইসলাম এর মোবাইল নাম্বারঃ ০১৯২৫-৩৮২০০৭.
মারুফ বাবু, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ 






































