বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতির চুক্তি ইচ্ছাকৃত ভঙ্গ করছেন, অভিযোগ হামাসের

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ভঙ্গ করার অভিযোগ এনেছে হামাস। শত শত ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি স্থগিত করার পর এমন অভিযোগ করেছেন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম।

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গত সোমবার বাসেম নাইম বলেন, ‘ইসরায়েল যদি ৬২০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি না দেয়, তাহলে হামাস যুদ্ধবিরতির আর কোনো আলোচনায় যাবে না। পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে, আগের ধাপ অর্থাৎ ৬২০ বন্দির মুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অথচ গত শনিবার ওই বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো মুক্তি দেয়নি ইসরায়েল।’ নাইমের অভিযোগ, নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করার চেষ্টা করছেন এবং ফের যুদ্ধ শুরুর জন্য পরিবেশ প্রস্তুত করছেন।

গত রবিবার ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছে, তারা ছয় জিম্মির বিনিময়ে যেসব ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি দেওয়ার কথা বলেছে তা স্থগিত করেছে। নেতানিয়াহুর অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামাসের অপমানজনক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জিম্মিদের অসম্মান করা এবং অপপ্রচারের জন্য জিম্মিদের নিন্দনীয়ভাবে ব্যবহার করার কারণে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল।

এদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় যেতে উভয়পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা। সেই সঙ্গে তারা জানতে চেয়েছেন, নেতানিয়াহু এ আলোচনায় যেতে ইচ্ছুক কি না। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম লোকাল কলের সম্পাদক মেরন রাপোর্ট আল-জাজিরাকে সোমবার বলেছেন, নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধ ফের শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। তবে এই পদক্ষেপের জন্য ইসরায়েলি জনগণের কঠোর প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে পারেন তিনি। কারণ, সব জিম্মির মুক্তির দাবি জানিয়েছে তাদের পরিবার।

যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হামাসের এই সপ্তাহের শেষের দিকে চার জিম্মির মরদেহ হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এই চুক্তির ভবিষ্যৎ এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে নাইম বলেন, ‘সব ধরনের বিকল্প টেবিলেই রয়েছে। হামাসের এই কর্মকর্তার প্রশ্ন, নেতানিয়াহু যদি ওই চার মরদেহ গ্রহণ করেন এবং আবারও চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত ফিলিস্তিনি বন্দিদের পাশাপাশি ৬২০ বন্দিকে মুক্তি না দেন, তাহলে তার নিশ্চয়তা কী? সূত্র: আল-জাজিরা

জনপ্রিয়

শাহজালালের মাজার জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতির চুক্তি ইচ্ছাকৃত ভঙ্গ করছেন, অভিযোগ হামাসের

প্রকাশের সময় : ০৯:২৯:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ভঙ্গ করার অভিযোগ এনেছে হামাস। শত শত ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি স্থগিত করার পর এমন অভিযোগ করেছেন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম।

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গত সোমবার বাসেম নাইম বলেন, ‘ইসরায়েল যদি ৬২০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি না দেয়, তাহলে হামাস যুদ্ধবিরতির আর কোনো আলোচনায় যাবে না। পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে, আগের ধাপ অর্থাৎ ৬২০ বন্দির মুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অথচ গত শনিবার ওই বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো মুক্তি দেয়নি ইসরায়েল।’ নাইমের অভিযোগ, নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করার চেষ্টা করছেন এবং ফের যুদ্ধ শুরুর জন্য পরিবেশ প্রস্তুত করছেন।

গত রবিবার ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছে, তারা ছয় জিম্মির বিনিময়ে যেসব ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি দেওয়ার কথা বলেছে তা স্থগিত করেছে। নেতানিয়াহুর অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামাসের অপমানজনক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জিম্মিদের অসম্মান করা এবং অপপ্রচারের জন্য জিম্মিদের নিন্দনীয়ভাবে ব্যবহার করার কারণে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল।

এদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় যেতে উভয়পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা। সেই সঙ্গে তারা জানতে চেয়েছেন, নেতানিয়াহু এ আলোচনায় যেতে ইচ্ছুক কি না। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম লোকাল কলের সম্পাদক মেরন রাপোর্ট আল-জাজিরাকে সোমবার বলেছেন, নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধ ফের শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। তবে এই পদক্ষেপের জন্য ইসরায়েলি জনগণের কঠোর প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে পারেন তিনি। কারণ, সব জিম্মির মুক্তির দাবি জানিয়েছে তাদের পরিবার।

যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হামাসের এই সপ্তাহের শেষের দিকে চার জিম্মির মরদেহ হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এই চুক্তির ভবিষ্যৎ এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে নাইম বলেন, ‘সব ধরনের বিকল্প টেবিলেই রয়েছে। হামাসের এই কর্মকর্তার প্রশ্ন, নেতানিয়াহু যদি ওই চার মরদেহ গ্রহণ করেন এবং আবারও চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত ফিলিস্তিনি বন্দিদের পাশাপাশি ৬২০ বন্দিকে মুক্তি না দেন, তাহলে তার নিশ্চয়তা কী? সূত্র: আল-জাজিরা