
শুভ তংচংগ্যা।।
পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাঁদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব উপলক্ষে চার দফা দাবি উত্থাপন করে সোমবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা তাঁদের সাংস্কৃতিক অধিকার সংরক্ষণ, উৎসবকালীন ছুটি প্রদান এবং সামগ্রিক উন্নয়নের দাবি তুলে ধরেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায় প্রতি বছর এপ্রিল মাসে তাঁদের প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব উদযাপন করে থাকে, যার মধ্যে চাংক্রান, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংগ্রাইং, থানগ্রেন ও বিঝু অন্যতম। এসব উৎসব কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং এটি তাঁদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠী সামাজিকভাবে সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে, যা তাঁদের সাংস্কৃতিক অধিকারকেও সংকুচিত করছে। এই বাস্তবতায় আদিবাসী বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁদের চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষে বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অনন্ত তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের প্রধান সামাজিক উৎসবটি আমাদের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও এই উৎসবকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, এমনকি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যালেন্ডারেও ছুটির ব্যবস্থা রাখা হয়নি।”
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রুমেন চাকমা বলেন, “চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার রুটিন উৎসবের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে আদিবাসী ছাত্র সংগঠনগুলোর স্মারকলিপির পরিপ্রেক্ষিতে তা সংশোধন করা হয়। কিন্তু শুধু একটি দিন সংশোধন করলেই হবে না। সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ শিল্প কারখানার আদিবাসী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য উৎসবকালীন ছুটি নিশ্চিত করতে হবে।”
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের যুগ্ম আহবায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “প্রতি বছর আমার সামাজিক প্রধান উৎসবের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি না থাকায় আমাকে ব্যক্তিগতভাবে ছুটি নিতে হয়। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, যেন জাতীয় ক্যালেন্ডারে এই উৎসবকে যথাযথভাবে স্থান দিয়ে ছুটি ঘোষণা করা হয়।”
হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি শান্তিদেবী তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আদিবাসী শিক্ষক ও কর্মচারীরা এবং শিল্প কারখানার শ্রমিকরা বছরের পর বছর উৎসবে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে শহরে বসবাসকারী আদিবাসী তরুণ প্রজন্ম তাঁদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারছে না।”
চার দফা দাবিসমূহ:
১. ১২ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা। ২. উৎসবের সময় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা না রাখা। ৩. উৎসবের সময় সরকারি-বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আদিবাসী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি প্রদান করা।
৪. শিল্প কারখানায় কর্মরত আদিবাসী শ্রমিকদের উৎসবকালীন ছুটি নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সকলে তাঁদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
শুভ তংচংগ্যা।। 


























