
তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি
ঢাকার ছয়টি সরকারি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা অভিযোগ করেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ঐতিহ্যবাহী কলেজকে এই কাঠামোর আওতায় আনার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, যা তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
রোববার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ‘তিতুমীর ঐক্য’ নামের শিক্ষার্থীদের সংগঠন এক বিবৃতি পাঠিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে জানানো হয়, তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা সর্বসম্মতভাবে এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা হলে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিতুমীর কলেজের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত চারজন প্রতিনিধির মধ্যে তিনজন অকুণ্ঠচিত্তে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানান, শিক্ষার্থীদের মতামত ও সম্মতি ছাড়া কোনো ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না। তারা আরও বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু এই নতুন কাঠামোর প্রস্তাব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও অগ্রহণযোগ্য।
শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, সরকারি তিতুমীর কলেজের রয়েছে এক গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এটি দেশের অন্যতম শীর্ষ সরকারি কলেজ হিসেবে স্বীকৃত। তাই এই প্রতিষ্ঠানের স্বাতন্ত্র্য নষ্ট করে অন্য একটি কাঠামোর অধীনে নিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাদের আশঙ্কা, এই নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চাইছে, যা শিক্ষার্থীদের স্বার্থের বিপরীতে যাবে। এতে কলেজের শিক্ষার মান ও স্বায়ত্তশাসন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে এই প্রস্তাব অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি 



































