সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে হাত হারানো কবির শেখের সংগ্রামী জীবন

সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাট জেলার সোনাতলা গ্রামের ডালির গোপ এলাকার বাসিন্দা মোঃ কবির শেখের জীবন বদলে যায় ২০০৮ সালে, যখন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে তিনি ভয়ংকর এক বাঘের আক্রমণের শিকার হন। পাঁচ মিনিটের এক ভয়াবহ লড়াইয়ের পর, বাঘের ধারালো দাঁত ও নখের আঘাতে তার হাত-পা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়।

বনের সঙ্গীদের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় কবির শেখকে উদ্ধার করে বাগেরহাটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার পর কিছুদিন তিনি সুস্থ থাকলেও, তার হাতে পচন ধরে। চিকিৎসকরা শেষ পর্যন্ত তার একটি হাত কেটে ফেলতে বাধ্য হন।

এ এক দুঃস্বপ্নের মতো সময় ছিল তার জন্য। শারীরিক ও মানসিক কষ্টের পাশাপাশি পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্বও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। একসময় সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেই জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি, কিন্তু হাত হারানোর পর এখন আর সে কাজ সম্ভব নয়। জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যেতে হচ্ছে মানুষের সহযোগিতা নিয়ে।

মোঃ কবির শেখের মতো অনেকেই সুন্দরবনের আশপাশে জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে প্রবেশ করেন, কেউ বাঘের শিকার হন, কেউ বনের গভীরে হারিয়ে যান। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে কবির শেখ সরকারি কিংবা বেসরকারি সহায়তা পেলে হয়তো কিছুটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। তার মতো বিপদে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব।

জনপ্রিয়

চৌগাছার ইজিবাইক–প্রাইভেটকার মুখোমুখি সংঘর্ষ, শিক্ষার্থীসহ আহত ৭

সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে হাত হারানো কবির শেখের সংগ্রামী জীবন

প্রকাশের সময় : ০৮:০০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫

সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাট জেলার সোনাতলা গ্রামের ডালির গোপ এলাকার বাসিন্দা মোঃ কবির শেখের জীবন বদলে যায় ২০০৮ সালে, যখন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে তিনি ভয়ংকর এক বাঘের আক্রমণের শিকার হন। পাঁচ মিনিটের এক ভয়াবহ লড়াইয়ের পর, বাঘের ধারালো দাঁত ও নখের আঘাতে তার হাত-পা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়।

বনের সঙ্গীদের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় কবির শেখকে উদ্ধার করে বাগেরহাটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার পর কিছুদিন তিনি সুস্থ থাকলেও, তার হাতে পচন ধরে। চিকিৎসকরা শেষ পর্যন্ত তার একটি হাত কেটে ফেলতে বাধ্য হন।

এ এক দুঃস্বপ্নের মতো সময় ছিল তার জন্য। শারীরিক ও মানসিক কষ্টের পাশাপাশি পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্বও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। একসময় সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেই জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি, কিন্তু হাত হারানোর পর এখন আর সে কাজ সম্ভব নয়। জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যেতে হচ্ছে মানুষের সহযোগিতা নিয়ে।

মোঃ কবির শেখের মতো অনেকেই সুন্দরবনের আশপাশে জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে প্রবেশ করেন, কেউ বাঘের শিকার হন, কেউ বনের গভীরে হারিয়ে যান। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে কবির শেখ সরকারি কিংবা বেসরকারি সহায়তা পেলে হয়তো কিছুটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। তার মতো বিপদে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব।