সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চবি’র ৫ শিক্ষার্থী অপহরণ: ১৮৩ আদিবাসী শিক্ষার্থীর তীব্র নিন্দা ও মুক্তির দাবি

শুভ তংচংগ্যা, সরকারি তিতুমীর কলেজ ঢাকা।। 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন আদিবাসী শিক্ষার্থী অপহৃত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যয়নরত ১৮৩ জন আদিবাসী শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার ( ১৭ এপ্রিল) যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা অপহৃত শিক্ষার্থীদের দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ১৬ এপ্রিল সকাল ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গিরিফুল এলাকা থেকে পাঁচ শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়। অপহৃতরা হলেন—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের মৈত্রীময় চাকমা ও অলড্রিন ত্রিপুরা, নাট্যকলা বিভাগের দিব্যি চাকমা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের রিশন চাকমা এবং প্রাণীবিদ্যা বিভাগের লংঙি ম্রো। তাঁরা সবাই ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভুবন চাকমা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিঝু উৎসব শেষে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি থেকে ফেরার পথে তাঁরা খাগড়াছড়ি সদরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাতযাপন করেন। পরদিন সকালে টমটমযোগে শহরের দিকে রওনা হলে গিরিফুল এলাকায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাঁদের গাড়ি থামিয়ে পাঁচ শিক্ষার্থীসহ চালককে অপহরণ করে। পরে চালককে ছেড়ে দিলেও শিক্ষার্থীদের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই অপহরণের সঙ্গে পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) জড়িত থাকতে পারে।
১৮৩ জন আদিবাসী শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি জাতির ভবিষ্যৎ। তাঁদের অপহরণ মানবাধিকার, শিক্ষার নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের পরিপন্থী। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং অপহৃতদের অবিলম্বে সুস্থ ও নিরাপদভাবে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।”
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা দেশের নিম্নোক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত: জাতীয় ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোপালগঞ্জ), রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়: বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
সরকারি কলেজ: সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা কলেজ, বান্দরবান সরকারি কলেজ, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি, পিপলস ইউনিভার্সিটি, পোর্টসিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে অপহৃতদের মুক্তি নিশ্চিত করা হোক।
জনপ্রিয়

যশোর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তৃপ্তি -হাসান ঐক্যবদ্ধ

চবি’র ৫ শিক্ষার্থী অপহরণ: ১৮৩ আদিবাসী শিক্ষার্থীর তীব্র নিন্দা ও মুক্তির দাবি

প্রকাশের সময় : ০৭:২০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
শুভ তংচংগ্যা, সরকারি তিতুমীর কলেজ ঢাকা।। 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন আদিবাসী শিক্ষার্থী অপহৃত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যয়নরত ১৮৩ জন আদিবাসী শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার ( ১৭ এপ্রিল) যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা অপহৃত শিক্ষার্থীদের দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ১৬ এপ্রিল সকাল ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গিরিফুল এলাকা থেকে পাঁচ শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়। অপহৃতরা হলেন—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের মৈত্রীময় চাকমা ও অলড্রিন ত্রিপুরা, নাট্যকলা বিভাগের দিব্যি চাকমা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের রিশন চাকমা এবং প্রাণীবিদ্যা বিভাগের লংঙি ম্রো। তাঁরা সবাই ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভুবন চাকমা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিঝু উৎসব শেষে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি থেকে ফেরার পথে তাঁরা খাগড়াছড়ি সদরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাতযাপন করেন। পরদিন সকালে টমটমযোগে শহরের দিকে রওনা হলে গিরিফুল এলাকায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাঁদের গাড়ি থামিয়ে পাঁচ শিক্ষার্থীসহ চালককে অপহরণ করে। পরে চালককে ছেড়ে দিলেও শিক্ষার্থীদের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই অপহরণের সঙ্গে পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) জড়িত থাকতে পারে।
১৮৩ জন আদিবাসী শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি জাতির ভবিষ্যৎ। তাঁদের অপহরণ মানবাধিকার, শিক্ষার নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের পরিপন্থী। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং অপহৃতদের অবিলম্বে সুস্থ ও নিরাপদভাবে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।”
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা দেশের নিম্নোক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত: জাতীয় ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোপালগঞ্জ), রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়: বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
সরকারি কলেজ: সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা কলেজ, বান্দরবান সরকারি কলেজ, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি, পিপলস ইউনিভার্সিটি, পোর্টসিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে অপহৃতদের মুক্তি নিশ্চিত করা হোক।