মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কেরানীগঞ্জে দুদকের অভিযান নিরাপত্তারক্ষী দ্বারা পরিচালিত হয় উপজেলা খাদ্য গুদামে

দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা ব্যুরো।।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে দুর্ণিতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার বেলা ১২ টার দিকে কেরানীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। অভিযানে দেখা যায় কোন কর্মকর্তা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে খাদ্য গুদামটি। গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতে গুদামের নিরাপত্তারক্ষীরা শ্রমিক দিয়ে ট্রাকে গুদামের চাল লোড-আনলোড করার দায়িত্ব পালন করছে। এমনকি চাল লোড আনলোডের দায়িত্বে থাকা শ্রমিকেরা ঐসব নিরাপত্তারক্ষীদের “স্যার” বলেও সম্বোধন করছে। এছাড়া যেসব ট্রাকে চাল লোড করা হচ্ছে ডিও লেটারে সেসব ট্রাকের রেজিঃ নাম্বারের গড়মিলও লক্ষ্য করা গেছে। তবে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কোন সদত্তর দিতে পারেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের সহকারী পরিচালক ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ। এসময় তাকে সহযোগীতা করেন উপসহকারী পরিচালক উজ্জল কুমার রায় এবং কোর্ট সহকারী (এএসআই) মো আব্দুর রহিম।
দুদকের সহকারী পরিচালক ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ বলেন, সকাল থেকে আমরা উপজেলা খাদ্য গুদামে অভিযান পরিচালনা করেছি। সেখানে গিয়ে দেখি কোন কর্মকর্তার উপস্থিতি ছাড়াই একটি ট্রাকে চাল লোড করা হচ্ছে। পরবর্তিতে ডিও লেটার চেক করে দেখি আগের দিনেই ডিও লেটার স্বাক্ষর করা। এবং ডিও লেটারে যেই ট্রাকের নাম্বার উল্লেখ করা আছে বাস্তকের ট্রাকের নাম্বারের সাথে তার কোন মিল নেই। এছাড়া বেশ কয়েকটি ডিও লেটারে কোন কর্মকর্তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি, অথচ সেসব ডিওতে ইতিমধ্যে চাল গুদাম থেকে বের হয়ে গেছে। ফলে আমরা ঐসব ডিও লেটারের কপি ও অন্যান্য কিছু কাগজপত্র তলব করেছি। পরবর্তিতে সেসব যাচাইবাছাই শেষে বলা যাবে আসলে ঘটনা কি ঘটেছে। তবে অভিযানে এটা প্রতিয়মান হয়েছে যে গুদাম থেকে মালামাল লোড আনলোডে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে। এবং এসব কাজ এখানকার নিরাপত্তারক্ষিদের দিয়ে করানো হয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কেরানীঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ রানা উল করিম বলেন, খাদ্য গুদামের জন্য আমার একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রয়েছেন সে এবিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। তবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতে লোড-আনলোডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা অনিয়ম হয়েছে, এবিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আদম বলেন, আমি আজকে একটি ট্রেনিংয়ে ছিলাম, তবে সকালে আমি নিজে মাল লোড চালু করে দিয়ে গিয়েছি। এছাড়া ট্রাক নাম্বারটি ভুল হয়ে গিয়েছিলো সেটি সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে।
জনপ্রিয়

জনগণ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে রায় দিয়েছে- বাবার স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানালেন সাঈদ আল নোমান

কেরানীগঞ্জে দুদকের অভিযান নিরাপত্তারক্ষী দ্বারা পরিচালিত হয় উপজেলা খাদ্য গুদামে

প্রকাশের সময় : ০৬:৫০:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫
দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা ব্যুরো।।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে দুর্ণিতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার বেলা ১২ টার দিকে কেরানীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। অভিযানে দেখা যায় কোন কর্মকর্তা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে খাদ্য গুদামটি। গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতে গুদামের নিরাপত্তারক্ষীরা শ্রমিক দিয়ে ট্রাকে গুদামের চাল লোড-আনলোড করার দায়িত্ব পালন করছে। এমনকি চাল লোড আনলোডের দায়িত্বে থাকা শ্রমিকেরা ঐসব নিরাপত্তারক্ষীদের “স্যার” বলেও সম্বোধন করছে। এছাড়া যেসব ট্রাকে চাল লোড করা হচ্ছে ডিও লেটারে সেসব ট্রাকের রেজিঃ নাম্বারের গড়মিলও লক্ষ্য করা গেছে। তবে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কোন সদত্তর দিতে পারেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের সহকারী পরিচালক ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ। এসময় তাকে সহযোগীতা করেন উপসহকারী পরিচালক উজ্জল কুমার রায় এবং কোর্ট সহকারী (এএসআই) মো আব্দুর রহিম।
দুদকের সহকারী পরিচালক ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ বলেন, সকাল থেকে আমরা উপজেলা খাদ্য গুদামে অভিযান পরিচালনা করেছি। সেখানে গিয়ে দেখি কোন কর্মকর্তার উপস্থিতি ছাড়াই একটি ট্রাকে চাল লোড করা হচ্ছে। পরবর্তিতে ডিও লেটার চেক করে দেখি আগের দিনেই ডিও লেটার স্বাক্ষর করা। এবং ডিও লেটারে যেই ট্রাকের নাম্বার উল্লেখ করা আছে বাস্তকের ট্রাকের নাম্বারের সাথে তার কোন মিল নেই। এছাড়া বেশ কয়েকটি ডিও লেটারে কোন কর্মকর্তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি, অথচ সেসব ডিওতে ইতিমধ্যে চাল গুদাম থেকে বের হয়ে গেছে। ফলে আমরা ঐসব ডিও লেটারের কপি ও অন্যান্য কিছু কাগজপত্র তলব করেছি। পরবর্তিতে সেসব যাচাইবাছাই শেষে বলা যাবে আসলে ঘটনা কি ঘটেছে। তবে অভিযানে এটা প্রতিয়মান হয়েছে যে গুদাম থেকে মালামাল লোড আনলোডে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে। এবং এসব কাজ এখানকার নিরাপত্তারক্ষিদের দিয়ে করানো হয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কেরানীঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ রানা উল করিম বলেন, খাদ্য গুদামের জন্য আমার একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রয়েছেন সে এবিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। তবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতে লোড-আনলোডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা অনিয়ম হয়েছে, এবিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আদম বলেন, আমি আজকে একটি ট্রেনিংয়ে ছিলাম, তবে সকালে আমি নিজে মাল লোড চালু করে দিয়ে গিয়েছি। এছাড়া ট্রাক নাম্বারটি ভুল হয়ে গিয়েছিলো সেটি সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে।