
হারুন অর রশিদ, ইবি প্রতিনিধি:
শহী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে ‘স্বৈরশাসক’ বলা সাংবাদিকের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সহ সমন্বয়ক ও ছাত্রদল কর্মী তৌহিদুল ইসলাম। এমনকি সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিক সাকিব আসলামকে বাঁধা প্রদান করেন এবং হুমকি দেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এছাড়া ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ওই সাংবাদিকের পক্ষে এখনও অনলাইনে সোচ্চার আছেন ছাত্রদল কর্মী তৌহিদ। তৌহিদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজের অনুসারী বলে জানা গেছে।
জানা যায়, বুধবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রলীগের কার্যালয় ভাঙ্গার পর জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘দুর্বৃত্ত’ আখ্যা, ছাত্রলীগ ও সংশ্লিষ্টতা ও হলে অবৈধভাবে অবস্থান করার অভিযোগে শাহ আজিজুর রহমান হলে মারধরের শিকার হন ডেইলি ক্যাম্পাসের সাংবাদিক ওয়াসিফ আল আবরার। এসময় তার বিরুদ্ধে কলেজে থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয় এবং আবরারের ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট বেশকিছু ছবি ও পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
আবরার বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন এন্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনার পর ওই সাংবাদিককে চিকিৎসার জন্য ইবি মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হলে সংবাদ সংগ্রহের জন্য মেডিকেলে যান সাংবাদিক সাকিব আসলাম। এসময় তাকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
হেনস্তার শিকার সাংবাদিক সাকিব আসলাম বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমি সংবাদ সংগ্রহের জন্য মেডিকেলে গিয়েছিলাম ডাক্তারের বক্তব্য নেওয়ার জন্য। এসময় ছাত্রদল কর্মী তৌহিদসহ বেশকয়েক জন সহ সমন্বয়ক আমার দিকে তেড়ে এসে নানা ভাবে আমাকে হুমকি ও গায়ে হাত তোলে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আমাকে হেনস্তা করেন তারা এবং লাঞ্চনা ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরবর্তীতে আমাকে মেডিকেল অফিসার এর বক্তব্য নিতে দেয়নি তারা। একই সাথে আমরা ‘কিভাবে চলবো তা দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তারা। আমি এমন অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে প্রক্টর স্যার না থাকায় এই ঘটনার প্রেক্ষিতে লিখিত অভিযোগ দেয়ার সুযোগ হয়নি। তবে স্যারের সাথে কথা বলেছি। আগামীকাল অভিযোগ নিবেন বলেছেন।’
তথ্য সংগ্রহকালে শাখা ছাত্রদলের কর্মী তৌহিদুল ইসলাম সাংবাদিক সাকিব আসলামকে বলেন, ‘তোর নেতৃত্বে এই মারামারি হয়েছে। তোমার নেতৃত্বে হত্যার উদ্দেশ্যে হমলা করা হয়েছে। তুই ছাত্রলীগের দোসর।’
এসময় ওই সাংবাদিককে হেনস্তা ও গায়ে হাত তুলার ধারণকৃত ভিডিও প্রতিনিধির কাছে সংরক্ষিত আছে।
সাংবাদিক হেনস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল কর্মী তৌহিদুল ইসলাম বলেন,’ ওর (সাকিব আসলাম) সাখে তর্কাতর্কি করার কোন ইচ্ছে ছিল না। আবার ওর সাথে আমার সম্পর্ক খারাপ এমনও না। ডাক্তারের কাছে যখন আবরারকে নিয়ে যাওয়া হয় আমরা সকলেই ভিতরে ছিলাম। ডাক্তার বলেন সবাইকে বের হয়ে যেতে,আমরা সকলে বের হয়ে যায়। ঠিক এই সময়ে সাকিব আসলাম চলে আসে। এই ঘটনা যে হয়েছে ওর নিজের রুমে হয়েছে। আর যখন হামলা করা হয় ও নিজেই লাইট অফ করে দিছে। এ ঘটনা শোনার পর রাগান্বিত হয়ে যায়। আর সবাই ওর প্রতি ক্ষিপ্ত ছিল কারণ ওর রুমেই এ ঘটনা ঘটেছে।
সে যেহেতু লাইট অফ করে দিছে তার ইন্ধনও থাকতে পারে। আবরার যতই অপরাধ করুক। সে লাইট অফ করেছে এসময় কিছু হয়ে গেলে দায়বদ্ধতা নিতে হতো।
তিনি আরো বলেন,’আমি অস্বীকার করবো না তার সাথে আমি উচ্চস্বরে কথাও বলেছি। তুমি এখন রুমে ঢুকো না। তোমার রুমে এসব হয়েছে। এর দায়ভাব তো তোমাকে নিতে হবে। তুমি ও হয়তো এই পরিকল্পনার সাথে জড়িত। আমি ঠান্ডা মাথায় এগুলো বলতে পারতাম। জোরে বলাটা আমার ভুল।’
এ বিষয়ে ইবি শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন,’ আমি যতটুকু জানি সাংবাদিককে হুমকি দামকি দিয়েছে এমন তথ্য আমার কাছে নেই। তৌহিদুর একজন সাধারণ শিক্ষার্থী বা হলের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে যায়। সাংবাদিক হেনস্থা এমন কোন ঘটনা যদি ঘটে থাকে আমরা সামগ্রিক বিবেচনা করে কথা বলবো।’
হারুন অর রশিদ, ইবি প্রতিনিধি: 







































