শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গত ১৬ বছরে ছাত্র ইউনিয়নও নিজস্ব পরিচয়ে রাজনীতি করেনি: ইবি ছাত্রদল নেতা

হারুন-অর-রশিদ, ইবি প্রতিনিধি:

‘যারা ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারে চোখে চোখ রেখে রাজনীতি করেছে, খুন হয়েছে, গুম হয়েছে, নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? একদিনও তো শুনিনি আপনারা বলেছেন  ‘আমরা ছাত্র ইউনিয়ন করি, আমরা ছাত্র মৈত্রী করি, আমরা শিবির করি । একদিনও তো এসব পরিচয় দিয়ে হাসিনার টুটি চেপে ধরার কথা বলেননি। তখন শুধু আমরাই হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আমরাই সবক্ষেত্রে সর্বপ্রথম কথা বলেছি। আমরাই ছাত্রদল পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছি’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ন- আহ্বায়ক রুকন উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকাল ৫টার সময় শাখা ছাত্রদল কতৃক  ‘ঢাবি ছাত্র ও ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য’র হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরাপদ শিক্ষা অঙ্গনের দাবিতে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন ‘ আমরা কখনো ভাবিনি যে ৫ আগষ্টের পর এরকম একজন ছাত্রদল বা সাধারণ শিক্ষার্থী হত্যার দাবিতে আমাদের এখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে হবে। আমরা এমন একটা দেশ চেয়েছিলাম যে দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড থাকবে না। কিন্তু এখন দেখা যায় যে যখনই কোনো লোক বা ছাত্রদল হত্যা হয় তখন ই একটা গ্রুপ বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা ছড়াতে থাকে। তারা বলতে শুরু করে যে ছাত্রদল চাঁদাবাজি করে, এটা করে, সেটা করে। আরে ভাই আপনাদের একটা মরা মানুষের নামে এসব কথা বলতে লজ্জা করে না? মানুষ মারা গেলে যেখানে এরা দোয়া করবে সেটা না করে এরা লাশ নিয়ে রাজনীতি শুরু করে। আবার এরাই বলে যে ছাত্রদল নাকি লাশ নিয়ে রাজনীতি করে না। ছাত্রদল কবে লাশ নিয়ে রাজনীতি করল?

এইযে জুলাই আন্দোলনে আবু সাঈদ মরার পর সর্বপ্রথম কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলো ছাত্রদল। এতো সহজে ভুলে যায়েন না। কোনো রাজনৈতিক সংগঠন সেদিন কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। ওয়াসিম মারা গেছে কিন্তু তার নাম কোথাও নেওয়া হয় না। কিন্তু আবু সাইদ আমাদের কর্মী না হলেও আমরা তাকে ধারণ করেছি। কিন্তু আমাদের ওয়াসিম এর সাথে বৈষম্য করা হয়েছে।  আমরা মেনে নিয়েছি। কারণ ছাত্রদল এমন এক সংগঠন যার নেতাকর্মী দেশের প্রতিটা পাড়া মহল্লার অন্তরঙ্গে মিশে আছে। ছাত্রদলকে এভাবে বৈষম্যের শিকার করে ভ্যানিশ করা সম্ভব না। ছোট খাটো বিষয় হাইলাইট করে ছাত্রদলকে আপনি ভ্যানিশ করতে পারবেন না। বাংলাদেশের মানুষ কি ফিডার খায়? বরং দেশের মানুষ সচেতন। আপনারা মানুষরে এতো ভুল বোঝাতে পারবেন না। আপনারা ইসলামের নাম নিয়ে, অমুক নাম নিয়ে, বাম নাম নিয়ে ছাত্রদলের সংগঠনের কিছুই করতে পারবেন না। আমরা অন্তবর্তীকালীন সরকারকে বলব যে সাম্য হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না করলে এ আন্দোলন আপনাদের পতনের আন্দোলনে রুপ নিতে পারে।

এছাড়াও তিনি বৈষম্য বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে বলেন ‘ আজকে অনেক সমন্বয়ক আছেন যারা আন্দোলনে আমাদের অবদানকে অস্বীকার করতে চান। বন্ধু একটা কথা মনে রাখবেন আপনারা যখন হলে ছাত্রলীগের ভয়ে বসে থাকতেন, তখন আমরা মেইন গেইটে বসে থাকতাম যে কখন আপনারা আসবেন আর আমরা আপনাদের সাহায্য করব। আর সুইট ভাই, নাম আপনার মিষ্টি। আপনি মনে হয় ঐদিনগুলো ভুলে গেছেন। এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে হবেনা ভাই। কথা বলার আগে একটু ভাববেন যে ছাত্রদল আপনার সাথে প্রকাশ্যে ছিলো। আমরা বৈষম্য বিরোধীদের পক্ষে ছিলাম, থাকব। জীবনের শেষ বিন্দু দিয়ে ৫ই আগষ্ট পর্যন্ত  আমরা লড়াই করেছি । ২২ তারিখে আন্দোলন আপনারাই বন্ধ করেছিলেন, কিন্তু তার পরে আন্দোলন চালিয়েছিলাম আমরা। রাজপথে কখন কোথায় কীভাবে আমরা ছিলাম তার সব প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। আর যেই হাসিনা চলে গেলো তখনই আপনারা মনে করা শুরু করলেন যে আপনিই হিরো। আরে আপনি তো রুম থেকেই বের হইতে পারতেন না। আপনারে আমরাই ডেকেছি যে আপনারা এখানে আসেন, কুষ্টিয়া চলেন। কারণ আমাদের ব্যানার ছিলোনা। আপনাদের ব্যানারে আমরা ছিলাম। কিন্তু আপনারা আসেননি বরং ভয়ে লেজ গুটিয়ে ছিলেন। এ অঞ্চল সবসময় আওয়ামী বিরোধী ছিলো, আপনারা সে সুযোগ নিয়েছেন।  আমরা আপনাদের সে সুযোগ করে দিয়েছি। আপনাদের আঙুল ঝাকিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ আমরা করে দিয়েছিলাম। আর আমাদেরই যদি অস্বীকার করেন তাহলে ভুল করবেন ভাই। এই দিন দিন না, আরো দিন আছে।  আপনাদের কেউ মরলে আমরা আন্দোলন করি, আর আমাদের ভাই মরল কিন্তু আপনারা আন্দোলন করলেননা। কই আপনারাতো সাম্য হত্যার বিচারের আন্দোলনে আপনারা যুক্ত হলেননা।

শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আনোয়ার পারভেজের সঞ্চালনায় এসময়  উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ,  যুগ্ন আহবায়ক রুকনউদ্দীন, আনোয়ারুল ইসলাম, আহসান হাবীবসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী।

জনপ্রিয়

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সামনে অনশনে গণঅধিকারের প্রার্থী

গত ১৬ বছরে ছাত্র ইউনিয়নও নিজস্ব পরিচয়ে রাজনীতি করেনি: ইবি ছাত্রদল নেতা

প্রকাশের সময় : ০৭:০০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ মে ২০২৫

হারুন-অর-রশিদ, ইবি প্রতিনিধি:

‘যারা ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারে চোখে চোখ রেখে রাজনীতি করেছে, খুন হয়েছে, গুম হয়েছে, নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? একদিনও তো শুনিনি আপনারা বলেছেন  ‘আমরা ছাত্র ইউনিয়ন করি, আমরা ছাত্র মৈত্রী করি, আমরা শিবির করি । একদিনও তো এসব পরিচয় দিয়ে হাসিনার টুটি চেপে ধরার কথা বলেননি। তখন শুধু আমরাই হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আমরাই সবক্ষেত্রে সর্বপ্রথম কথা বলেছি। আমরাই ছাত্রদল পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছি’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ন- আহ্বায়ক রুকন উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকাল ৫টার সময় শাখা ছাত্রদল কতৃক  ‘ঢাবি ছাত্র ও ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য’র হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরাপদ শিক্ষা অঙ্গনের দাবিতে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন ‘ আমরা কখনো ভাবিনি যে ৫ আগষ্টের পর এরকম একজন ছাত্রদল বা সাধারণ শিক্ষার্থী হত্যার দাবিতে আমাদের এখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে হবে। আমরা এমন একটা দেশ চেয়েছিলাম যে দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড থাকবে না। কিন্তু এখন দেখা যায় যে যখনই কোনো লোক বা ছাত্রদল হত্যা হয় তখন ই একটা গ্রুপ বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা ছড়াতে থাকে। তারা বলতে শুরু করে যে ছাত্রদল চাঁদাবাজি করে, এটা করে, সেটা করে। আরে ভাই আপনাদের একটা মরা মানুষের নামে এসব কথা বলতে লজ্জা করে না? মানুষ মারা গেলে যেখানে এরা দোয়া করবে সেটা না করে এরা লাশ নিয়ে রাজনীতি শুরু করে। আবার এরাই বলে যে ছাত্রদল নাকি লাশ নিয়ে রাজনীতি করে না। ছাত্রদল কবে লাশ নিয়ে রাজনীতি করল?

এইযে জুলাই আন্দোলনে আবু সাঈদ মরার পর সর্বপ্রথম কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলো ছাত্রদল। এতো সহজে ভুলে যায়েন না। কোনো রাজনৈতিক সংগঠন সেদিন কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। ওয়াসিম মারা গেছে কিন্তু তার নাম কোথাও নেওয়া হয় না। কিন্তু আবু সাইদ আমাদের কর্মী না হলেও আমরা তাকে ধারণ করেছি। কিন্তু আমাদের ওয়াসিম এর সাথে বৈষম্য করা হয়েছে।  আমরা মেনে নিয়েছি। কারণ ছাত্রদল এমন এক সংগঠন যার নেতাকর্মী দেশের প্রতিটা পাড়া মহল্লার অন্তরঙ্গে মিশে আছে। ছাত্রদলকে এভাবে বৈষম্যের শিকার করে ভ্যানিশ করা সম্ভব না। ছোট খাটো বিষয় হাইলাইট করে ছাত্রদলকে আপনি ভ্যানিশ করতে পারবেন না। বাংলাদেশের মানুষ কি ফিডার খায়? বরং দেশের মানুষ সচেতন। আপনারা মানুষরে এতো ভুল বোঝাতে পারবেন না। আপনারা ইসলামের নাম নিয়ে, অমুক নাম নিয়ে, বাম নাম নিয়ে ছাত্রদলের সংগঠনের কিছুই করতে পারবেন না। আমরা অন্তবর্তীকালীন সরকারকে বলব যে সাম্য হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না করলে এ আন্দোলন আপনাদের পতনের আন্দোলনে রুপ নিতে পারে।

এছাড়াও তিনি বৈষম্য বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে বলেন ‘ আজকে অনেক সমন্বয়ক আছেন যারা আন্দোলনে আমাদের অবদানকে অস্বীকার করতে চান। বন্ধু একটা কথা মনে রাখবেন আপনারা যখন হলে ছাত্রলীগের ভয়ে বসে থাকতেন, তখন আমরা মেইন গেইটে বসে থাকতাম যে কখন আপনারা আসবেন আর আমরা আপনাদের সাহায্য করব। আর সুইট ভাই, নাম আপনার মিষ্টি। আপনি মনে হয় ঐদিনগুলো ভুলে গেছেন। এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে হবেনা ভাই। কথা বলার আগে একটু ভাববেন যে ছাত্রদল আপনার সাথে প্রকাশ্যে ছিলো। আমরা বৈষম্য বিরোধীদের পক্ষে ছিলাম, থাকব। জীবনের শেষ বিন্দু দিয়ে ৫ই আগষ্ট পর্যন্ত  আমরা লড়াই করেছি । ২২ তারিখে আন্দোলন আপনারাই বন্ধ করেছিলেন, কিন্তু তার পরে আন্দোলন চালিয়েছিলাম আমরা। রাজপথে কখন কোথায় কীভাবে আমরা ছিলাম তার সব প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। আর যেই হাসিনা চলে গেলো তখনই আপনারা মনে করা শুরু করলেন যে আপনিই হিরো। আরে আপনি তো রুম থেকেই বের হইতে পারতেন না। আপনারে আমরাই ডেকেছি যে আপনারা এখানে আসেন, কুষ্টিয়া চলেন। কারণ আমাদের ব্যানার ছিলোনা। আপনাদের ব্যানারে আমরা ছিলাম। কিন্তু আপনারা আসেননি বরং ভয়ে লেজ গুটিয়ে ছিলেন। এ অঞ্চল সবসময় আওয়ামী বিরোধী ছিলো, আপনারা সে সুযোগ নিয়েছেন।  আমরা আপনাদের সে সুযোগ করে দিয়েছি। আপনাদের আঙুল ঝাকিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ আমরা করে দিয়েছিলাম। আর আমাদেরই যদি অস্বীকার করেন তাহলে ভুল করবেন ভাই। এই দিন দিন না, আরো দিন আছে।  আপনাদের কেউ মরলে আমরা আন্দোলন করি, আর আমাদের ভাই মরল কিন্তু আপনারা আন্দোলন করলেননা। কই আপনারাতো সাম্য হত্যার বিচারের আন্দোলনে আপনারা যুক্ত হলেননা।

শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আনোয়ার পারভেজের সঞ্চালনায় এসময়  উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ,  যুগ্ন আহবায়ক রুকনউদ্দীন, আনোয়ারুল ইসলাম, আহসান হাবীবসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী।