শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকদের ওপর হামলা, জিহ্বা কেটে ফেলার হুমকি

তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি
সরকারি তিতুমীর কলেজে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর হামলা চালিয়েছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। মেধার ভিত্তিতে হলের সিট বরাদ্দের দাবিতে চলমান এক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সোমবার (২৬ মে) সকালে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানোর সময় কিছু সাংবাদিক সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। তখন ছাত্রদলের কর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। তারা সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলে এবং মারধর করে। এ সময় এক নারী সাংবাদিককেও হুমকি ও হেনস্তা করা হয়। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের জিহ্বা ছিঁড়ে ফেলার হুমকিও দেয়।
হামলায় গুরুতর আহত হন ডেইলি ক্যাম্পাসের নিজস্ব প্রতিবেদক ও সরকারি তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক আমান উল্লাহ আলভি। তিনি জানান, নায়ক নূর নামে একজনকে ছাত্রদলের পক্ষের লোকজন রিকশায় করে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে দেয়। তার সঙ্গে থাকা সাংবাদিক মাহমুদা আক্তার (এশিয়ান টিভি) ও উম্মে হাফসা (রাইজিংবিডি) একইভাবে হেনস্তার শিকার হন।
আক্রান্ত অন্য সাংবাদিকরা হলেন—সারাবাংলা ডটনেটের সাত কলেজ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ মজুমদার রাব্বি, ডেইলি ক্যাম্পাসের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি আল-আমিন মৃধা, এশিয়ান টিভির কলেজ প্রতিনিধি মাহমুদা আক্তার, রাইজিংবিডির কলেজ প্রতিনিধি উম্মে হাফসা প্রমুখ। হামলার শিকার সাংবাদিকদের সবাই সরকারি তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির সদস্য।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আলী আহমেদ জানান, হলের সিট তালিকা প্রকাশ না করায় তারা অধ্যক্ষের কক্ষে যান। অধ্যক্ষ না থাকায় তার কক্ষের সামনে অবস্থান নেন। তখন ছাত্রদলের সদস্য সচিব সেলিম রেজা ও আহ্বায়ক ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রদল কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ তাদের বিশৃঙ্খলাকারী আখ্যা দিয়ে ছাত্রদলের হাতে তুলে দেন এবং হামলায় উসকানি দেন।
হামলার ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো—ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ মোল্লা, রিমু, খাজা মাইনুদ্দিন, হারুনুর রশীদ, সোহাগ, মেহেদী চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, নুর উদ্দিন জিসান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাশেদুজ্জামান হৃদয়, বাইজিদ হাসান সাকিব, আল আমিন, আক্কাসুর রহমান আঁখি হলের সভাপতি তোহা প্রমুখ।
তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ ড. ছদরউদ্দিন আহমেদ জানান, ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন সাংবাদিকদের ওপর হামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। জড়িতদের তালিকা কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে।
জনপ্রিয়

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সামনে অনশনে গণঅধিকারের প্রার্থী

সাংবাদিকদের ওপর হামলা, জিহ্বা কেটে ফেলার হুমকি

প্রকাশের সময় : ০৮:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি
সরকারি তিতুমীর কলেজে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর হামলা চালিয়েছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। মেধার ভিত্তিতে হলের সিট বরাদ্দের দাবিতে চলমান এক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সোমবার (২৬ মে) সকালে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানোর সময় কিছু সাংবাদিক সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। তখন ছাত্রদলের কর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। তারা সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলে এবং মারধর করে। এ সময় এক নারী সাংবাদিককেও হুমকি ও হেনস্তা করা হয়। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের জিহ্বা ছিঁড়ে ফেলার হুমকিও দেয়।
হামলায় গুরুতর আহত হন ডেইলি ক্যাম্পাসের নিজস্ব প্রতিবেদক ও সরকারি তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক আমান উল্লাহ আলভি। তিনি জানান, নায়ক নূর নামে একজনকে ছাত্রদলের পক্ষের লোকজন রিকশায় করে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে দেয়। তার সঙ্গে থাকা সাংবাদিক মাহমুদা আক্তার (এশিয়ান টিভি) ও উম্মে হাফসা (রাইজিংবিডি) একইভাবে হেনস্তার শিকার হন।
আক্রান্ত অন্য সাংবাদিকরা হলেন—সারাবাংলা ডটনেটের সাত কলেজ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ মজুমদার রাব্বি, ডেইলি ক্যাম্পাসের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি আল-আমিন মৃধা, এশিয়ান টিভির কলেজ প্রতিনিধি মাহমুদা আক্তার, রাইজিংবিডির কলেজ প্রতিনিধি উম্মে হাফসা প্রমুখ। হামলার শিকার সাংবাদিকদের সবাই সরকারি তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির সদস্য।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আলী আহমেদ জানান, হলের সিট তালিকা প্রকাশ না করায় তারা অধ্যক্ষের কক্ষে যান। অধ্যক্ষ না থাকায় তার কক্ষের সামনে অবস্থান নেন। তখন ছাত্রদলের সদস্য সচিব সেলিম রেজা ও আহ্বায়ক ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রদল কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ তাদের বিশৃঙ্খলাকারী আখ্যা দিয়ে ছাত্রদলের হাতে তুলে দেন এবং হামলায় উসকানি দেন।
হামলার ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো—ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ মোল্লা, রিমু, খাজা মাইনুদ্দিন, হারুনুর রশীদ, সোহাগ, মেহেদী চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, নুর উদ্দিন জিসান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাশেদুজ্জামান হৃদয়, বাইজিদ হাসান সাকিব, আল আমিন, আক্কাসুর রহমান আঁখি হলের সভাপতি তোহা প্রমুখ।
তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ ড. ছদরউদ্দিন আহমেদ জানান, ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন সাংবাদিকদের ওপর হামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। জড়িতদের তালিকা কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে।