শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদযাত্রার আগে মহাসড়কে বাড়ছে ডাকাতি: আতঙ্কে উত্তরের যাত্রীরা

ঢাকা-সিরাজগঞ্জ-রংপুর মহাসড়কসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে গত ছয় মাসে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও গরুবোঝাই ট্রাকসহ অন্তত সাতটি বড় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় লুটপাটের পাশাপাশি নারী যাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে আসন্ন ঈদুল আজহায় গ্রামের পথে রওনা হওয়া যাত্রীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা।
সর্বশেষ ২০ মে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় ঢাকা-রংপুরগামী ইমরান পরিবহনের একটি বাসে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় কয়েকজন নারী যাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠে। এর আগে, ২৪ এপ্রিল রাতে যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় দিয়ে উত্তরাঞ্চলমুখী একটি গরুবোঝাই ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম ট্রাকচাপায় নিহত হন।
মার্চ মাসে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে সাসেক প্রকল্প এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আকতারের বেস ক্যাম্পে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল নিরাপত্তা প্রহরীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুট করে নেয় ব্যাটারি ও যন্ত্রপাতি। অথচ পরে ভুক্তভোগী প্রহরীদেরই থানায় নিয়ে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে শুধু মহাসড়ক নয়—সিরাজগঞ্জের চৌহালী, কাজিপুর, কামারখন্দ ও শাহজাদপুরে গত কয়েক মাসে চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। চৌহালীর দুর্গম চরাঞ্চলে খামারে গরু লুট করতে গিয়ে খামার মালিককে হত্যা, কৃষকের হাত-পা বেঁধে গরু লুট, এমনকি শিশু নাতিকে বস্তাবন্দি করে ফেলে যাওয়া—এই সব ঘটনাও ঘটেছে।
এ অবস্থায় ঈদে পরিবার নিয়ে রাতে পথ চলার চিন্তায় রয়েছেন না অনেক যাত্রী। ঢাকার এক ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী রহমত আরা পারভীন বলেন, “আগে রাতে নাইটকোচে যেতাম, এবার মহাসড়কে এত ডাকাতির খবর শুনে দিনের টিকিট কেটেছি।”
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদকে সামনে রেখে ৫০০–এর বেশি পুলিশ সদস্য মাঠে কাজ করবেন। পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন বলেন, “চৌহালীসহ সাম্প্রতিক ঘটনার পর জেলাজুড়ে কড়া নজরদারি চলছে। নতুন কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।”
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. শহিদুল্লাহ জানান, “ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-রাজশাহী ও বগুড়া-মহাসড়কে ৬৩টি পয়েন্টে হাইওয়ে পুলিশের ৬০০ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। র‌্যাব ও সেনাবাহিনীও প্রস্তুত রয়েছে।”
পুলিশ বলছে, বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজনকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৭ ফেব্রুয়ারি ও ২০ মে বাস ডাকাতির ঘটনায় সিরাজগঞ্জের সাব্বির, সিহাব ও জাহাঙ্গীরসহ ছয়জন; ট্রাকচাপায় কনস্টেবল হত্যা মামলার আসামি নুর ইসলাম, এবং ৭৮ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় মিলন, মামুন ও শুটার সাগর।
তবে সাধারণ মানুষ বলছে, একের পর এক এমন দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটার পরও পুরোপুরি আস্থা ফিরে আসেনি। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জনপ্রিয়

তারেক রহমান সপরিবারে যমুনায়

ঈদযাত্রার আগে মহাসড়কে বাড়ছে ডাকাতি: আতঙ্কে উত্তরের যাত্রীরা

প্রকাশের সময় : ১১:১০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
ঢাকা-সিরাজগঞ্জ-রংপুর মহাসড়কসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে গত ছয় মাসে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও গরুবোঝাই ট্রাকসহ অন্তত সাতটি বড় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় লুটপাটের পাশাপাশি নারী যাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে আসন্ন ঈদুল আজহায় গ্রামের পথে রওনা হওয়া যাত্রীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা।
সর্বশেষ ২০ মে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় ঢাকা-রংপুরগামী ইমরান পরিবহনের একটি বাসে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় কয়েকজন নারী যাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠে। এর আগে, ২৪ এপ্রিল রাতে যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় দিয়ে উত্তরাঞ্চলমুখী একটি গরুবোঝাই ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম ট্রাকচাপায় নিহত হন।
মার্চ মাসে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে সাসেক প্রকল্প এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আকতারের বেস ক্যাম্পে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল নিরাপত্তা প্রহরীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুট করে নেয় ব্যাটারি ও যন্ত্রপাতি। অথচ পরে ভুক্তভোগী প্রহরীদেরই থানায় নিয়ে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে শুধু মহাসড়ক নয়—সিরাজগঞ্জের চৌহালী, কাজিপুর, কামারখন্দ ও শাহজাদপুরে গত কয়েক মাসে চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। চৌহালীর দুর্গম চরাঞ্চলে খামারে গরু লুট করতে গিয়ে খামার মালিককে হত্যা, কৃষকের হাত-পা বেঁধে গরু লুট, এমনকি শিশু নাতিকে বস্তাবন্দি করে ফেলে যাওয়া—এই সব ঘটনাও ঘটেছে।
এ অবস্থায় ঈদে পরিবার নিয়ে রাতে পথ চলার চিন্তায় রয়েছেন না অনেক যাত্রী। ঢাকার এক ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী রহমত আরা পারভীন বলেন, “আগে রাতে নাইটকোচে যেতাম, এবার মহাসড়কে এত ডাকাতির খবর শুনে দিনের টিকিট কেটেছি।”
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদকে সামনে রেখে ৫০০–এর বেশি পুলিশ সদস্য মাঠে কাজ করবেন। পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন বলেন, “চৌহালীসহ সাম্প্রতিক ঘটনার পর জেলাজুড়ে কড়া নজরদারি চলছে। নতুন কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।”
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. শহিদুল্লাহ জানান, “ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-রাজশাহী ও বগুড়া-মহাসড়কে ৬৩টি পয়েন্টে হাইওয়ে পুলিশের ৬০০ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। র‌্যাব ও সেনাবাহিনীও প্রস্তুত রয়েছে।”
পুলিশ বলছে, বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজনকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৭ ফেব্রুয়ারি ও ২০ মে বাস ডাকাতির ঘটনায় সিরাজগঞ্জের সাব্বির, সিহাব ও জাহাঙ্গীরসহ ছয়জন; ট্রাকচাপায় কনস্টেবল হত্যা মামলার আসামি নুর ইসলাম, এবং ৭৮ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় মিলন, মামুন ও শুটার সাগর।
তবে সাধারণ মানুষ বলছে, একের পর এক এমন দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটার পরও পুরোপুরি আস্থা ফিরে আসেনি। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।