শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়ায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

রুকন উদ্দিন, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় কেন্দুয়ায় পালন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ মে) কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একাংশের আয়োজনে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন (ভার্চুয়ালি) বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া’র উপদেষ্টা ড. সৈয়দ আলমগীর।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যেয় (ভার্চুয়ালী) বলেন- আজ আমরা এক গৌরবময় অথচ বেদনাদায়ক উপলক্ষে একত্র হয়েছি- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এঁর শাহাদাৎ বার্ষিকী। এ দিনটি শুধুমাত্র একজন মহান নেতার জীবনাবসানের স্মরণ নয়, বরং এ জাতির ইতিহাসের এক গভীর ক্ষতের প্রতীক, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পথে তাঁর অসামান্য অবদানের স্মারক।

জিয়াউর রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, যিনি ১৯৭১ সালে ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’- এই ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূচনা করেছিলেন। তাঁর সাহসিকতা, নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেম আজও আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি বিশ্বাস করতেন স্বাধীনতা মানে শুধু রাজনৈতিক মুক্তি নয়, এর সাথে জড়িত অর্থনৈতিক মুক্তি, আত্মনির্ভরশীলতা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।

রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর কর্মদক্ষতা, দূরদর্শিতা এবং আত্মত্যাগ আজও আমাদের কাছে এক আদর্শ। তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন, বহুদলীয় রাজনীতি চালু করেছেন এবং মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছেন যে, এ দেশ একদিন উন্নত হবে, সমৃদ্ধ হবে।
কিন্তু কতটা নির্মমতা, কতটা ষড়যন্ত্র হলে এমন একজন নেতাকে জীবন দিতে হয় স্বদেশের মাটিতে! ১৯৮১ সালের ৩০ মে গভীর রাতে চট্টগ্রামে ঘাতকের বুলেটে তাঁর প্রাণপ্রদীপ নিভে যায়, কিন্তু নিভে যায়নি তাঁর আদর্শ। আমরা আজও তাঁর দেখানো পথেই চলতে চাই, আমরা আজও তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছি।

আমাদের দায়িত্ব এখন, এই প্রজন্মের মাঝে জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশপ্রেমের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া। তাঁর সাহস, সততা এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা আমাদের পথচলার পাথেয় হোক।

আমি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করি। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- নেত্রকোণা জেলা বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. মজনু রহমান খন্দকার।

শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে মজনু রহমান খন্দকার বলেন- “শহীদ জিয়াউর রহমান এই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। তিনি একটি আধুনিক, আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন। আজ তাঁর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন- শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।

কেন্দুয়া পৌর ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কাশেম খন্দকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- কেন্দুয়া ওলামা দলের সভাপতি মো. মাওলানা হুমায়ুন কবির খান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান, কেন্দুয়া উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মো. আতাউল হক মিন্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এমদাদুল হক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন- কেন্দুয়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আশরাফুল ইসলাম।

এসময় উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি এবং সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়

টাকা দিয়ে ভোট কেনা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও আচরণবিধির লঙ্ঘন: মাহদী আমিন

কেন্দুয়ায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

প্রকাশের সময় : ০৪:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

রুকন উদ্দিন, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় কেন্দুয়ায় পালন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ মে) কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একাংশের আয়োজনে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন (ভার্চুয়ালি) বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া’র উপদেষ্টা ড. সৈয়দ আলমগীর।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যেয় (ভার্চুয়ালী) বলেন- আজ আমরা এক গৌরবময় অথচ বেদনাদায়ক উপলক্ষে একত্র হয়েছি- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এঁর শাহাদাৎ বার্ষিকী। এ দিনটি শুধুমাত্র একজন মহান নেতার জীবনাবসানের স্মরণ নয়, বরং এ জাতির ইতিহাসের এক গভীর ক্ষতের প্রতীক, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পথে তাঁর অসামান্য অবদানের স্মারক।

জিয়াউর রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, যিনি ১৯৭১ সালে ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’- এই ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূচনা করেছিলেন। তাঁর সাহসিকতা, নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেম আজও আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি বিশ্বাস করতেন স্বাধীনতা মানে শুধু রাজনৈতিক মুক্তি নয়, এর সাথে জড়িত অর্থনৈতিক মুক্তি, আত্মনির্ভরশীলতা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।

রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর কর্মদক্ষতা, দূরদর্শিতা এবং আত্মত্যাগ আজও আমাদের কাছে এক আদর্শ। তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন, বহুদলীয় রাজনীতি চালু করেছেন এবং মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছেন যে, এ দেশ একদিন উন্নত হবে, সমৃদ্ধ হবে।
কিন্তু কতটা নির্মমতা, কতটা ষড়যন্ত্র হলে এমন একজন নেতাকে জীবন দিতে হয় স্বদেশের মাটিতে! ১৯৮১ সালের ৩০ মে গভীর রাতে চট্টগ্রামে ঘাতকের বুলেটে তাঁর প্রাণপ্রদীপ নিভে যায়, কিন্তু নিভে যায়নি তাঁর আদর্শ। আমরা আজও তাঁর দেখানো পথেই চলতে চাই, আমরা আজও তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছি।

আমাদের দায়িত্ব এখন, এই প্রজন্মের মাঝে জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশপ্রেমের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া। তাঁর সাহস, সততা এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা আমাদের পথচলার পাথেয় হোক।

আমি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করি। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- নেত্রকোণা জেলা বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. মজনু রহমান খন্দকার।

শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে মজনু রহমান খন্দকার বলেন- “শহীদ জিয়াউর রহমান এই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। তিনি একটি আধুনিক, আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন। আজ তাঁর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন- শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।

কেন্দুয়া পৌর ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কাশেম খন্দকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- কেন্দুয়া ওলামা দলের সভাপতি মো. মাওলানা হুমায়ুন কবির খান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান, কেন্দুয়া উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মো. আতাউল হক মিন্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এমদাদুল হক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন- কেন্দুয়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আশরাফুল ইসলাম।

এসময় উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি এবং সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।