
তেলাপোকা শুধু বিরক্তিকর নয়, বরং এটি বিভিন্ন গুরুতর রোগের কারণও হতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। নিচে তেলাপোকার মাধ্যমে ছড়ানো পাঁচটি সাধারণ ও বিপজ্জনক রোগ নিয়ে আলোচনা করা হলো।
ফুড পয়জনিং
তেলাপোকার মাধ্যমে সবচেয়ে সাধারণভাবে ছড়ায় ফুড পয়জনিং। তেলাপোকা খাদ্য ও পানীয়কে দূষিত করে যার ফলে পেটে ব্যথা, বমি, ডায়ারিয়া ও জ্বর হতে পারে। এটি সাধারণত ওআরএস ও প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।
টাইফয়েড
তেলাপোকা ‘সালমোনেলা টাইফি’ নামক ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে সাহায্য করে, যা টাইফয়েডের কারণ। দূষিত পানি বা খাদ্যের মাধ্যমে এটি শরীরে প্রবেশ করে। লক্ষণগুলো হল জ্বর, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা ডায়ারিয়া। বিশ্রাম ও অ্যান্টিবায়োটিকেই এর চিকিৎসা সম্ভব।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে তেলাপোকার মাধ্যমে কলেরা ছড়াতে পারে। এর উপসর্গ হিসেবে পানির মতো ডায়ারিয়া ও বমি দেখা যায়। শরীরে পানির অভাব দেখা দিলে আইভি ফ্লুইড ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয়।
ডিসেন্ট্রি
ডিসেন্ট্রি, যা‘শিগেলা’ ব্যাকটেরিয়া বা অ্যামিবা দ্বারা হয়, তেলাপোকার মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এতে রক্তমিশ্রিত মলত্যাগ, পেট ব্যথা ও দীর্ঘস্থায়ী জ্বর হতে পারে। চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।
গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস, হাঁপানি ও অ্যালার্জি
তেলাপোকা গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিসেরও কারণ হতে পারে। এর চিকিৎসায় হালকা খাবার ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ জরুরি। তেলাপোকার লালা, মল ও দেহের অংশ থেকে হাঁপানি ও অ্যালার্জিও হতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। এতে হাঁচি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। চিকিৎসায় অ্যান্টিহিস্টামিন ও ইনহেলার ব্যবহৃত হয়।
প্রতিরোধে করণীয়
* বাড়ি পরিষ্কার রাখা
* খাদ্য ঢেকে রাখা
* নিয়মিত ডাস্টবিন পরিষ্কার করা
* প্রয়োজনে পেশাদার পেস্ট কন্ট্রোল করা
মনে রাখবেন, তেলাপোকা থেকে সৃষ্ট সমস্যা গুরুতর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
লাইফস্টাইল ডেস্ক 





































