বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মেঘনা নদীতে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ, স্বপ্ন বুনছে দুইপারের মানুষ

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধিঃ

ভৌগোলিক কারণে রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগের চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা কয়েক লক্ষ মানুষকে গজারিয়া হয়ে যাতায়াত করতে হয়। মাঝখানে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার প্রস্থ্য মেঘনা নদী থাকায় এতোদিন উপজেলা দুটিতে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি। তবে সম্প্রতি সেখানে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার এতেই স্বপ্ন বুনছে দুই পারের মানুষ।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর-গজারিয়া সড়কে মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সংযোগ সড়ক ও নির্মাণ স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও প্রকল্প মনিটরিং টিমের আহ্বায়ক।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দিনব্যাপী এ পরিদর্শনে অংশ নেন সেতু বিভাগের প্রশাসন অধিশাখার উপসচিব ড. ভেনিসা রড্রিক্স, সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ভিখারউদ্দৌলা চৌধুরী ভূলু, প্রকল্প পরিচালক, মনিটরিং টিমের সদস্যবৃন্দ, প্রকৌশলীরা, সংশ্লষ্ট কর্মকর্তারা এবং এনজিও প্রতিনিধিরা।
পরিদর্শনকালে প্রকল্পের সংযোগ সড়কের অ্যালাইনমেন্ট, নদীর ওপর মূল সেতুর অবস্থান, ভূমি অধিগ্রহণ এলাকা ও পরিবেশগত বিষয়াদি ঘুরে দেখা হয়। পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তারা ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে চাঁদপুরের মতলব উত্তর থেকে সরাসরি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া হয়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষীপুর ও শরিয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের লোকজন রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত অনেক সহজ ও স্বল্পসময়ে সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়, এই সেতু চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীসহ বৃহত্তর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর দূরত্ব অনেক কমিয়ে আনবে। এতে করে কৃষি, ব্যবসা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এছাড়াও মতলব উত্তরে নির্মিত হতে যাওয়া অর্থনৈতিক জোনসহ চাঁদপুরের কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতের বিকাশেও সেতুটির অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।
এই সেতু প্রকল্পকে চাঁদপুরবাসী ও মতলববাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ে সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করা হবে।
সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকার এই প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নে কাজ করছে, যা দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
জানা যায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির) অধীনে মেঘনা নদীর গজারিয়া অংশের কালিপুরা ঘাট থেকে মতলব পর্যন্ত ১.৫ কিলোমিটার অংশে নির্মিত হবে এই সেতু। প্রাথমিক পর্যবেক্ষন শেষে মাটি পরীক্ষার কাজও করা হয়েছে। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই শুরু হতে পারে সেতুটির নির্মান কাজ।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া জানাতে কথা হয় ট্রলার চালক  জসিম উদ্দিন ,আঃ ছামাদ প্রধান ও তোফাজ্হোজল হোসেনের সাথে তারা বলেন সেতু নির্মান হলে তাদের ট্রলারে কে উঠবে। তার পরও তারা খুশি। এলাকাবাসী খুশির কথা চিন্তা করে প্রয়োজন পরলে পেশা বদল করিতেও রাজি তারা। এপথে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজনের সাথে কথা হলে তাদের মধ্যে ডাঃ ওবায়দুর রহমান সবুজ, বারিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর মালিক দেলোয়ার হোসেন, মোঃ মামুন জানান শীত মৌসুমে যখন কুয়াশার তীব্রতা বেশি থাকে তখন এই নৌ-রুটে নিয়মিত ঢাকাতীর ঘটনা ঘটে। এছাড়াও ঝরের সময় বা সন্ধার পর ট্রলার পাওয়া যায় না। সেতুটি নির্মান হলে তাদের অনেক উপকার হবে। রাজধানী শহর ঢাকার সাথে সড়ক যোগাযোগ সহজতর পণ্য পরিবহন আমদানি রপ্তানী বাণিজ্য বেপক উন্নতি সাধিত হবে।
জনপ্রিয়

প্রশাসনে কোন দলের লোক থাকবে না উপদেষ্টা রিজওয়ান হাসান

মেঘনা নদীতে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ, স্বপ্ন বুনছে দুইপারের মানুষ

প্রকাশের সময় : ১০:৪৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধিঃ

ভৌগোলিক কারণে রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগের চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা কয়েক লক্ষ মানুষকে গজারিয়া হয়ে যাতায়াত করতে হয়। মাঝখানে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার প্রস্থ্য মেঘনা নদী থাকায় এতোদিন উপজেলা দুটিতে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি। তবে সম্প্রতি সেখানে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার এতেই স্বপ্ন বুনছে দুই পারের মানুষ।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর-গজারিয়া সড়কে মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সংযোগ সড়ক ও নির্মাণ স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও প্রকল্প মনিটরিং টিমের আহ্বায়ক।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দিনব্যাপী এ পরিদর্শনে অংশ নেন সেতু বিভাগের প্রশাসন অধিশাখার উপসচিব ড. ভেনিসা রড্রিক্স, সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ভিখারউদ্দৌলা চৌধুরী ভূলু, প্রকল্প পরিচালক, মনিটরিং টিমের সদস্যবৃন্দ, প্রকৌশলীরা, সংশ্লষ্ট কর্মকর্তারা এবং এনজিও প্রতিনিধিরা।
পরিদর্শনকালে প্রকল্পের সংযোগ সড়কের অ্যালাইনমেন্ট, নদীর ওপর মূল সেতুর অবস্থান, ভূমি অধিগ্রহণ এলাকা ও পরিবেশগত বিষয়াদি ঘুরে দেখা হয়। পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তারা ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে চাঁদপুরের মতলব উত্তর থেকে সরাসরি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া হয়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষীপুর ও শরিয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের লোকজন রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত অনেক সহজ ও স্বল্পসময়ে সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়, এই সেতু চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীসহ বৃহত্তর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর দূরত্ব অনেক কমিয়ে আনবে। এতে করে কৃষি, ব্যবসা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এছাড়াও মতলব উত্তরে নির্মিত হতে যাওয়া অর্থনৈতিক জোনসহ চাঁদপুরের কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতের বিকাশেও সেতুটির অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।
এই সেতু প্রকল্পকে চাঁদপুরবাসী ও মতলববাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ে সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করা হবে।
সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকার এই প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নে কাজ করছে, যা দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
জানা যায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির) অধীনে মেঘনা নদীর গজারিয়া অংশের কালিপুরা ঘাট থেকে মতলব পর্যন্ত ১.৫ কিলোমিটার অংশে নির্মিত হবে এই সেতু। প্রাথমিক পর্যবেক্ষন শেষে মাটি পরীক্ষার কাজও করা হয়েছে। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই শুরু হতে পারে সেতুটির নির্মান কাজ।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া জানাতে কথা হয় ট্রলার চালক  জসিম উদ্দিন ,আঃ ছামাদ প্রধান ও তোফাজ্হোজল হোসেনের সাথে তারা বলেন সেতু নির্মান হলে তাদের ট্রলারে কে উঠবে। তার পরও তারা খুশি। এলাকাবাসী খুশির কথা চিন্তা করে প্রয়োজন পরলে পেশা বদল করিতেও রাজি তারা। এপথে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজনের সাথে কথা হলে তাদের মধ্যে ডাঃ ওবায়দুর রহমান সবুজ, বারিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর মালিক দেলোয়ার হোসেন, মোঃ মামুন জানান শীত মৌসুমে যখন কুয়াশার তীব্রতা বেশি থাকে তখন এই নৌ-রুটে নিয়মিত ঢাকাতীর ঘটনা ঘটে। এছাড়াও ঝরের সময় বা সন্ধার পর ট্রলার পাওয়া যায় না। সেতুটি নির্মান হলে তাদের অনেক উপকার হবে। রাজধানী শহর ঢাকার সাথে সড়ক যোগাযোগ সহজতর পণ্য পরিবহন আমদানি রপ্তানী বাণিজ্য বেপক উন্নতি সাধিত হবে।