বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন আতঙ্ক নিউমোনিক প্লেগ

ছবি-সংগৃহীত

মধ্যযুগে ইউরোপজুড়ে যে প্লেগ লাখো মানুষের প্রাণ নিয়েছিল, সেই ভয়াবহ রোগ আজও মাঝে মাঝে ফিরে আসে আর প্রতিবারই তা ভয় ধরিয়ে দেয় জনমনে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়ে একজন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে, যা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগেও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগটি এতটাই সংক্রামক ও মারাত্মক যে, সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এটি প্রাণনাশ ঘটাতে পারে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই।

চিকিৎসকরা বলছেন, এই রোগটি মূলত ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামক একটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়, যা মানুষের ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণ ঘটায়। নর্দার্ন অ্যারিজোনা হেলথকেয়ার (এনএএইচ) জানিয়েছে, ফ্ল্যাগস্টাফ মেডিকেল সেন্টারের জরুরি বিভাগে রোগীটিকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা যথাসময়ে সঠিক ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করলেও রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

নিউমোনিক প্লেগ: সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, প্লেগ একটি মারাত্মক ব্যাধি, যা সাধারণত মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ীদের আক্রান্ত করে। এই রোগ সাধারণত সংক্রামিত ইঁদুরের পোকা বা সংক্রামিত প্রাণীর সংস্পর্শ থেকে মানুষের দেহে প্রবেশ করে।

ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস ব্যাকটেরিয়াজনিত এই রোগে তিন ধরনের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। এগুলো হলো: বিউবোনিক, সেপটিসেমিক এবং নিউমোনিক। এর মধ্যে নিউমোনিক প্লেগ সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী, কারণ এটি বাতাসের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে আরেক জনের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

নিউমোনিক প্লেগের লক্ষণ: সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বলছে নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হলে রোগীর শরীরে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়। যেগুলো হলো:

  • হঠাৎ অতিমাত্রার জ্বর
  • মাথাব্যথা ও দুর্বলতা
  • শ্বাসকষ্ট
  • বুকে ব্যথা
  • কাশি, যার সঙ্গে রক্ত বা পানির মতো কফ নিঃসরণ হতে পারে

কতটা ভয়াবহ এই রোগ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিউবোনিক প্লেগে মৃত্যুহার ৩০ শতাংশ থেকে ৬০ শ তাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে নিউমোনিক প্লেগে মৃত্যু অনিবার্য হয়ে ওঠে যদি তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না দেয়া হয়। এই রোগটির আরও একটি বিপজ্জনক দিক হলো এটি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি সংক্রমণ ঘটাতে পারে, যার ফলে মারাত্মক মহামারির আশঙ্কাও থেকে যায়।

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা: চিকিৎসকরা জানিয়েছেন নিউমোনিক প্লেগ অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য, তবে এর জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি রোগী দেরি করেন তাহলেই বিপদ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যদি কোনো অঞ্চলে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়, তবে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে এবং সংক্রামিত প্রাণী বা পোকামাকড় থেকে দূরে থাকতে হবে।

অ্যারিজোনার এই মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয় পুরোনো রোগগুলোর হুমকি এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। নিউমোনিক প্লেগ যেমন দ্রুত ছড়াতে পারে, তেমনি সময়মতো চিকিৎসা না পেলে সেটি হয়ে উঠতে পারে মরণঘাতী। তাই জনসচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই ভালো। সূত্র: সিএনএন/হিন্দুস্তান টাইমস 

জনপ্রিয়

পেশাদারিত্বের বিষয়ে সাংবাদিকদের আপসহীন হতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

নতুন আতঙ্ক নিউমোনিক প্লেগ

প্রকাশের সময় : ০৪:০০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

মধ্যযুগে ইউরোপজুড়ে যে প্লেগ লাখো মানুষের প্রাণ নিয়েছিল, সেই ভয়াবহ রোগ আজও মাঝে মাঝে ফিরে আসে আর প্রতিবারই তা ভয় ধরিয়ে দেয় জনমনে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়ে একজন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে, যা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগেও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগটি এতটাই সংক্রামক ও মারাত্মক যে, সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এটি প্রাণনাশ ঘটাতে পারে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই।

চিকিৎসকরা বলছেন, এই রোগটি মূলত ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামক একটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়, যা মানুষের ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণ ঘটায়। নর্দার্ন অ্যারিজোনা হেলথকেয়ার (এনএএইচ) জানিয়েছে, ফ্ল্যাগস্টাফ মেডিকেল সেন্টারের জরুরি বিভাগে রোগীটিকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা যথাসময়ে সঠিক ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করলেও রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

নিউমোনিক প্লেগ: সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, প্লেগ একটি মারাত্মক ব্যাধি, যা সাধারণত মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ীদের আক্রান্ত করে। এই রোগ সাধারণত সংক্রামিত ইঁদুরের পোকা বা সংক্রামিত প্রাণীর সংস্পর্শ থেকে মানুষের দেহে প্রবেশ করে।

ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস ব্যাকটেরিয়াজনিত এই রোগে তিন ধরনের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। এগুলো হলো: বিউবোনিক, সেপটিসেমিক এবং নিউমোনিক। এর মধ্যে নিউমোনিক প্লেগ সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী, কারণ এটি বাতাসের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে আরেক জনের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

নিউমোনিক প্লেগের লক্ষণ: সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বলছে নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হলে রোগীর শরীরে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়। যেগুলো হলো:

  • হঠাৎ অতিমাত্রার জ্বর
  • মাথাব্যথা ও দুর্বলতা
  • শ্বাসকষ্ট
  • বুকে ব্যথা
  • কাশি, যার সঙ্গে রক্ত বা পানির মতো কফ নিঃসরণ হতে পারে

কতটা ভয়াবহ এই রোগ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিউবোনিক প্লেগে মৃত্যুহার ৩০ শতাংশ থেকে ৬০ শ তাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে নিউমোনিক প্লেগে মৃত্যু অনিবার্য হয়ে ওঠে যদি তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না দেয়া হয়। এই রোগটির আরও একটি বিপজ্জনক দিক হলো এটি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি সংক্রমণ ঘটাতে পারে, যার ফলে মারাত্মক মহামারির আশঙ্কাও থেকে যায়।

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা: চিকিৎসকরা জানিয়েছেন নিউমোনিক প্লেগ অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য, তবে এর জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি রোগী দেরি করেন তাহলেই বিপদ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যদি কোনো অঞ্চলে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়, তবে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে এবং সংক্রামিত প্রাণী বা পোকামাকড় থেকে দূরে থাকতে হবে।

অ্যারিজোনার এই মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয় পুরোনো রোগগুলোর হুমকি এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। নিউমোনিক প্লেগ যেমন দ্রুত ছড়াতে পারে, তেমনি সময়মতো চিকিৎসা না পেলে সেটি হয়ে উঠতে পারে মরণঘাতী। তাই জনসচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই ভালো। সূত্র: সিএনএন/হিন্দুস্তান টাইমস