বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
জাপান সাগরে

চীন-রাশিয়ার যৌথ নৌ-মহড়া শুরু

ছবি: সংগৃহীত

চীন ও রাশিয়া রোববার (৩ আগস্ট) থেকে জাপান সাগরে শুরু করেছে তিনদিনব্যাপী যৌথ নৌ-মহড়া ‘জয়েন্ট সি-২০২৫’। কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে ভারসাম্যপূর্ণ করা এই মহড়ার মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্টক বন্দরের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় শুরু হওয়া এই মহড়ায় দুই দেশ একসঙ্গে সাবমেরিন উদ্ধার, সাবমেরিন-বিধ্বংসী অভিযান, বিমান প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ও সমুদ্রযুদ্ধের অনুশীলন পরিচালনা করবে।

চীনের চারটি যুদ্ধজাহাজ—যার মধ্যে রয়েছে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার শাওক্সিং এবং উরুমকি—রাশিয়ান জাহাজের সঙ্গে এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।

মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ঘনিষ্ঠতা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের মধ্যে ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করা।’

মহড়া শেষে চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনী প্রশান্ত মহাসাগরের প্রাসঙ্গিক অংশে যৌথ টহল পরিচালনা করবে।

২০১২ সাল থেকে শুরু হওয়া ‘জয়েন্ট সি’ মহড়ার অংশ হিসেবে চীন ও রাশিয়া নিয়মিতভাবে এই ধরনের বার্ষিক সামরিক মহড়া পরিচালনা করছে। গত বছরের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল চীনের দক্ষিণ উপকূলে।

এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এবার জাপান সাগরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘জয়েন্ট সি-২০২৫’, যা দুই দেশের সমুদ্র সক্ষমতা এবং সামরিক সমন্বয়কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে চীন পরোক্ষভাবে রাশিয়াকে সমর্থন দিচ্ছে। বেইজিং কখনও ইউক্রেন যুদ্ধের সরাসরি সমালোচনা করেনি বা রাশিয়ার সৈন্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়নি।

তবে চীন বরাবরই নিজেদের নিরপেক্ষ পক্ষ হিসেবে দাবি করে এসেছে এবং নিয়মিতভাবে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোকে ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার অভিযোগও করেছে বেইজিং।

জনপ্রিয়

টাকা দিয়ে ভোট কেনা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও আচরণবিধির লঙ্ঘন: মাহদী আমিন

জাপান সাগরে

চীন-রাশিয়ার যৌথ নৌ-মহড়া শুরু

প্রকাশের সময় : ০৪:০৯:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

চীন ও রাশিয়া রোববার (৩ আগস্ট) থেকে জাপান সাগরে শুরু করেছে তিনদিনব্যাপী যৌথ নৌ-মহড়া ‘জয়েন্ট সি-২০২৫’। কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে ভারসাম্যপূর্ণ করা এই মহড়ার মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্টক বন্দরের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় শুরু হওয়া এই মহড়ায় দুই দেশ একসঙ্গে সাবমেরিন উদ্ধার, সাবমেরিন-বিধ্বংসী অভিযান, বিমান প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ও সমুদ্রযুদ্ধের অনুশীলন পরিচালনা করবে।

চীনের চারটি যুদ্ধজাহাজ—যার মধ্যে রয়েছে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার শাওক্সিং এবং উরুমকি—রাশিয়ান জাহাজের সঙ্গে এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।

মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ঘনিষ্ঠতা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের মধ্যে ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করা।’

মহড়া শেষে চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনী প্রশান্ত মহাসাগরের প্রাসঙ্গিক অংশে যৌথ টহল পরিচালনা করবে।

২০১২ সাল থেকে শুরু হওয়া ‘জয়েন্ট সি’ মহড়ার অংশ হিসেবে চীন ও রাশিয়া নিয়মিতভাবে এই ধরনের বার্ষিক সামরিক মহড়া পরিচালনা করছে। গত বছরের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল চীনের দক্ষিণ উপকূলে।

এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এবার জাপান সাগরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘জয়েন্ট সি-২০২৫’, যা দুই দেশের সমুদ্র সক্ষমতা এবং সামরিক সমন্বয়কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে চীন পরোক্ষভাবে রাশিয়াকে সমর্থন দিচ্ছে। বেইজিং কখনও ইউক্রেন যুদ্ধের সরাসরি সমালোচনা করেনি বা রাশিয়ার সৈন্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়নি।

তবে চীন বরাবরই নিজেদের নিরপেক্ষ পক্ষ হিসেবে দাবি করে এসেছে এবং নিয়মিতভাবে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোকে ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার অভিযোগও করেছে বেইজিং।