সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দাম্পত্য জীবন সুখময় করতে ইসলামের নির্দেশনা

  • ধর্ম ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:২৩:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
  • ৩০

ছবি-সংগৃহীত

বিবাহের মাধ্যমে একটি পরিবার গঠন হয়। নতুন একটি পরিবার সৃষ্টি হয়। একজন পুরুষ এবং একজন নারী একটি পরিবার তৈরি করেন। যুগে যুগে বিবাহ হচ্ছে, বিবাহের মাধ্যমে বংশ বিস্তার হচ্ছে। বিবাহের মাধ্যমে সারাবিশ্বে মানুষ ছড়িয়ে পড়েছে। আর সেই বিবাহ শুরু হয়।

হযরত আদম (আ.) ও হযরত হাওয়া (আ.)  এর বিবাহের মাধ্যমে মানবসভ্যতার সূচনা হয়েছিল। বিয়ে মানুষের জীবনে প্রাচুর্য আনে। আল্লাহ বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা ‘আইয়িম’ (সঙ্গীহীন নারী-পুরুষ) তাদের বিয়ে সম্পাদন কোরো এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।  (সুরা নুর, আয়াত : ৩২)

বিবাহের আরবি শব্দ হলো নিকাহ। নিকাহ এর শাব্দিক অর্থ হলো, একত্রিত হওয়া, নারী পুরুষ মিলিত হওয়া। পারিভাষিক অর্থে নিকাহ বা বিবাহ বলা হয়। ইসলামী শরীয়াহ আইন অনুযায়ী, বিবাহ হল একজন নারী ও একজন পুরুষের মধ্যে নিষ্পন্ন বৈধ বন্ধন ও সামাজিক চুক্তি। 
 
ইসলামে বিবাহ হল একটি সুন্নাহ বা হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর আদর্শ। আল্লাহ বলেন, হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক উৎস থেকে। আর তা থেকে তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন। এরপর তা থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চাও। আর ভয় কর রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক। (সূরা নিসা, আয়াত ০১)
মূলত বিবাহ সামাজিক জীবন ব্যবস্থার প্রথম অবকাঠামো। কয়েকজন মানুষকে নিয়ে গঠিত হয় পরিবার। আমরা পরিবার বলতে মা বাবা ভাই বোনসহ বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনকে নিয়ে গঠিত একটি কাঠামোকে বুঝি। সামাজিকতার মাধ্যমে একটি দাম্পত্য জীবন শুরু হয়। 
 
দাম্পত্য জীবন শুরু করার আগে কেউ পারিবারিক ভাবে বিবাহ করে, কেউ পছন্দ করে বিবাহ করে। বিবাহের  প্রথম সময় নতুন দাম্পত্য আনন্দ উল্লাস করে ও খুশিতে দিন পার করে, পরেবর্তীতে এই আনন্দ এই উল্লাস আর থাকে না। বিবাহের মধ্যে বিচ্ছেদ ও তালাক হয়। অনেক অপরাধের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ ও তালাক হয়। প্রথমে দাম্পত্য জীবন ইসলামের পথে পরিচালনায় করে না, ও কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনব্যবস্থা অনুসরণ করে না।
 
যদি করতো, তাহলে দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ বা তালাকের ঘটনা করতো না। দেখা যায় বিবাহের কিছুদিন পরে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্ধ সৃষ্টি হয়। এই দ্বন্ধের কারণে শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ বা তালাক হয়ে যায়। একটি দাম্পত্য জীবন ভেঙ্গে যায় ও অনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এই বিচ্ছেদ ও তালাকের কারণে অনেক বাচ্ছার সুখ ও স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যায়। বাচ্ছাগুলো তাদের মা বাবাকে একসাথে আর দেখে না।  এই কষ্ট তাদের বুকে সারাজীবন থেকে যায়।
 
কিন্তু কেন এই বিচ্ছেদ বা তালাক হচ্ছে? অনেক শাশুড়ি তার ছেলের বউ কে সহ্য করতে পারে না, ও ছেলের বউ কে কাজের ভুয়া মনে করে। ছেলের বউ কে মানসিক ও শারিরিক অত্যচার করে। ছেলের মা নিজেকে রাজা মনে করে আর ছেলের বউ কে কর্মচারী মনে করে। শাশুড়িরা  ছেলের বউ এর ভুল ধরতে ব্যস্ত থাকে আর তার সমালোচনায় মগ্ন থাকে। 
 
এই সমস্যার কারণে বিচ্ছেদ বা তালাক হয়ে যায়। শাশুড়িরা কখন ও ছেলের বউকে নিজের মেয়ে মনে করে না, যদি নিজের মেয়ে মনে করতো তাহলে বিচ্ছেদ বা তালাকের ঘটনা করতো না। আবার দেখা যায় ছেলের মা বাবা ভাই বোন সহ সবাই মিলে ছেলের বউকে অত্যচার করে। অনেক দাম্পত্য জীবনে বউরা শ্বশুর শাশুড়িকে অবহেলা করে ও খাবার দেয় না। এই কারণেও বিচ্ছেদ বা তালাক হয়। 
 
অনেক দাম্পত্য জীবনে স্বামীরা মদে আসক্ত ও জুড়া খেলে। সারা দিন জুড়া খেলে ও রাতে মদ পান করে ঘরে এসে নিজের বউকে অত্যচার করে। এই সমস্যার কারণে বিচ্ছেদ বা তালাক হয়। অনেক স্বামী যৌতুকের টাকার জন্য নিজের স্ত্রীকে নির্যাতন করে। অনেক স্বামী জুড়া খেলে সব সম্পত্তী হারিয়ে নিজের স্ত্রীকে মানসিক ও শারিরিকভাবে নির্যাতন করে। এই সব অপরাধের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক হয়।
আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদারগণ, নিশ্চয় মদ, জুয়া, মূর্তিপূজা, লটারী খেলা নিতান্ত গর্হিত কাজ, অতএব তোমরা তা পরিহার কর, তাহলে কামিয়াব হতে পারবে। (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৯০)
অনেক স্বামী আছে দাম্পত্য জীবনে তাদের কাছে নিজের স্ত্রী ভাল লাগে না, কারণ তারা অন্যের বউ এর সাথে সুসম্পর্ক ও পরকিয়া লিপ্ত। অনেক বিবাহিত পুরুষ অবিবাহিত মেয়েদের সাথে ফ্রিসম্পর্ক ও একসাথে ঘুরাঘরি করে। অনেক স্বামীরা তাদের অফিসের মেয়ে সহকর্মী ও বিভিন্ন পরিচিতি মেয়েদের সাথে হট সম্পর্ক রাখে। 
 
অনেক স্ত্রীরা অন্য পুরুষের সাথে সুসম্পর্ক রাখে ও পরকিয়া ব্যস্ত থাকে। তারা নিজের স্বামীর সাথে ভাল ব্যবহার করে না ও সাজিয়ে গুছিয়ে দেখায় না, কিন্তু অন্য পুরুষদের সাথে মধুর সুরে কথা বলে ও সাজিয়ে  গুছিয়ে দেখায়। অনেক স্বামী বিদেশে থাকে আর তাদের স্ত্রীগণ পরকিয়া ব্যস্ত থাকে ও অনেক পুরুষের সাথে সুসম্পর্ক রাখে। এই সব অপরাধের কারণে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টি হয় ও বিবাহ বিচ্ছে হয়ে যায়। অনেক স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়  এবং স্ত্রী স্বামী কে বিচ্ছেদ করে। দাম্পত্য জীবন নিয়ে সামাজিক ভাবে অনেক বিচার হয় এবং থানায় মামলা হয়। কোর্ট আদালতে বিচার হয়। সামাজিক বিচার ও কোর্ট আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
 
দাম্পত্য জীবনে স্বামী  স্ত্রী যদি আল্লাহে ভয় করে ও কুরআন হাদীসের পথে জীবনব্যবস্থা গঠন করে তাহলে কোন বিচ্ছেদ বা তালাক হবে না। স্বামী স্ত্রীর উচিত একে অপরের সাথে ভাল ব্যবহার করা ও ভালবাসা সৃষ্টি করা। কুরআনে দাম্পত্য জীবনকে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 
 
সুতরাং মুমিনের উচিত দাম্পত্য জীবনের ব্যাপারে সতর্ক ও যত্নবান হওয়া। আল্লাহ বলেন, এবং তার নিদর্শনাবলির মধ্যে আছে যে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের স্ত্রীদের, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য তাতে অবশ্যই বহু নিদর্শন আছে।  (সুরা রুম, আয়াত : ২১)
 
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। যে সম্পর্কের মধ্যে কোনো পর্দা থাকে না। আল্লাহ বলেন, তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের জন্য পোশাক স্বরূপ এবং তোমরা তাদের জন্য পর্দাস্বরূপ।  (সুরা বাকারা, আয়াত : ১০) দাম্পত্য জীবনে সৃষ্টি হোক সুখ শান্তি আর ভালবাসা। —সময় সংবাদ
জনপ্রিয়

যশোরে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

দাম্পত্য জীবন সুখময় করতে ইসলামের নির্দেশনা

প্রকাশের সময় : ০৬:২৩:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫

বিবাহের মাধ্যমে একটি পরিবার গঠন হয়। নতুন একটি পরিবার সৃষ্টি হয়। একজন পুরুষ এবং একজন নারী একটি পরিবার তৈরি করেন। যুগে যুগে বিবাহ হচ্ছে, বিবাহের মাধ্যমে বংশ বিস্তার হচ্ছে। বিবাহের মাধ্যমে সারাবিশ্বে মানুষ ছড়িয়ে পড়েছে। আর সেই বিবাহ শুরু হয়।

হযরত আদম (আ.) ও হযরত হাওয়া (আ.)  এর বিবাহের মাধ্যমে মানবসভ্যতার সূচনা হয়েছিল। বিয়ে মানুষের জীবনে প্রাচুর্য আনে। আল্লাহ বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা ‘আইয়িম’ (সঙ্গীহীন নারী-পুরুষ) তাদের বিয়ে সম্পাদন কোরো এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।  (সুরা নুর, আয়াত : ৩২)

বিবাহের আরবি শব্দ হলো নিকাহ। নিকাহ এর শাব্দিক অর্থ হলো, একত্রিত হওয়া, নারী পুরুষ মিলিত হওয়া। পারিভাষিক অর্থে নিকাহ বা বিবাহ বলা হয়। ইসলামী শরীয়াহ আইন অনুযায়ী, বিবাহ হল একজন নারী ও একজন পুরুষের মধ্যে নিষ্পন্ন বৈধ বন্ধন ও সামাজিক চুক্তি। 
 
ইসলামে বিবাহ হল একটি সুন্নাহ বা হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর আদর্শ। আল্লাহ বলেন, হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক উৎস থেকে। আর তা থেকে তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন। এরপর তা থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চাও। আর ভয় কর রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক। (সূরা নিসা, আয়াত ০১)
মূলত বিবাহ সামাজিক জীবন ব্যবস্থার প্রথম অবকাঠামো। কয়েকজন মানুষকে নিয়ে গঠিত হয় পরিবার। আমরা পরিবার বলতে মা বাবা ভাই বোনসহ বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনকে নিয়ে গঠিত একটি কাঠামোকে বুঝি। সামাজিকতার মাধ্যমে একটি দাম্পত্য জীবন শুরু হয়। 
 
দাম্পত্য জীবন শুরু করার আগে কেউ পারিবারিক ভাবে বিবাহ করে, কেউ পছন্দ করে বিবাহ করে। বিবাহের  প্রথম সময় নতুন দাম্পত্য আনন্দ উল্লাস করে ও খুশিতে দিন পার করে, পরেবর্তীতে এই আনন্দ এই উল্লাস আর থাকে না। বিবাহের মধ্যে বিচ্ছেদ ও তালাক হয়। অনেক অপরাধের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ ও তালাক হয়। প্রথমে দাম্পত্য জীবন ইসলামের পথে পরিচালনায় করে না, ও কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনব্যবস্থা অনুসরণ করে না।
 
যদি করতো, তাহলে দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ বা তালাকের ঘটনা করতো না। দেখা যায় বিবাহের কিছুদিন পরে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্ধ সৃষ্টি হয়। এই দ্বন্ধের কারণে শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ বা তালাক হয়ে যায়। একটি দাম্পত্য জীবন ভেঙ্গে যায় ও অনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এই বিচ্ছেদ ও তালাকের কারণে অনেক বাচ্ছার সুখ ও স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যায়। বাচ্ছাগুলো তাদের মা বাবাকে একসাথে আর দেখে না।  এই কষ্ট তাদের বুকে সারাজীবন থেকে যায়।
 
কিন্তু কেন এই বিচ্ছেদ বা তালাক হচ্ছে? অনেক শাশুড়ি তার ছেলের বউ কে সহ্য করতে পারে না, ও ছেলের বউ কে কাজের ভুয়া মনে করে। ছেলের বউ কে মানসিক ও শারিরিক অত্যচার করে। ছেলের মা নিজেকে রাজা মনে করে আর ছেলের বউ কে কর্মচারী মনে করে। শাশুড়িরা  ছেলের বউ এর ভুল ধরতে ব্যস্ত থাকে আর তার সমালোচনায় মগ্ন থাকে। 
 
এই সমস্যার কারণে বিচ্ছেদ বা তালাক হয়ে যায়। শাশুড়িরা কখন ও ছেলের বউকে নিজের মেয়ে মনে করে না, যদি নিজের মেয়ে মনে করতো তাহলে বিচ্ছেদ বা তালাকের ঘটনা করতো না। আবার দেখা যায় ছেলের মা বাবা ভাই বোন সহ সবাই মিলে ছেলের বউকে অত্যচার করে। অনেক দাম্পত্য জীবনে বউরা শ্বশুর শাশুড়িকে অবহেলা করে ও খাবার দেয় না। এই কারণেও বিচ্ছেদ বা তালাক হয়। 
 
অনেক দাম্পত্য জীবনে স্বামীরা মদে আসক্ত ও জুড়া খেলে। সারা দিন জুড়া খেলে ও রাতে মদ পান করে ঘরে এসে নিজের বউকে অত্যচার করে। এই সমস্যার কারণে বিচ্ছেদ বা তালাক হয়। অনেক স্বামী যৌতুকের টাকার জন্য নিজের স্ত্রীকে নির্যাতন করে। অনেক স্বামী জুড়া খেলে সব সম্পত্তী হারিয়ে নিজের স্ত্রীকে মানসিক ও শারিরিকভাবে নির্যাতন করে। এই সব অপরাধের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক হয়।
আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদারগণ, নিশ্চয় মদ, জুয়া, মূর্তিপূজা, লটারী খেলা নিতান্ত গর্হিত কাজ, অতএব তোমরা তা পরিহার কর, তাহলে কামিয়াব হতে পারবে। (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৯০)
অনেক স্বামী আছে দাম্পত্য জীবনে তাদের কাছে নিজের স্ত্রী ভাল লাগে না, কারণ তারা অন্যের বউ এর সাথে সুসম্পর্ক ও পরকিয়া লিপ্ত। অনেক বিবাহিত পুরুষ অবিবাহিত মেয়েদের সাথে ফ্রিসম্পর্ক ও একসাথে ঘুরাঘরি করে। অনেক স্বামীরা তাদের অফিসের মেয়ে সহকর্মী ও বিভিন্ন পরিচিতি মেয়েদের সাথে হট সম্পর্ক রাখে। 
 
অনেক স্ত্রীরা অন্য পুরুষের সাথে সুসম্পর্ক রাখে ও পরকিয়া ব্যস্ত থাকে। তারা নিজের স্বামীর সাথে ভাল ব্যবহার করে না ও সাজিয়ে গুছিয়ে দেখায় না, কিন্তু অন্য পুরুষদের সাথে মধুর সুরে কথা বলে ও সাজিয়ে  গুছিয়ে দেখায়। অনেক স্বামী বিদেশে থাকে আর তাদের স্ত্রীগণ পরকিয়া ব্যস্ত থাকে ও অনেক পুরুষের সাথে সুসম্পর্ক রাখে। এই সব অপরাধের কারণে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টি হয় ও বিবাহ বিচ্ছে হয়ে যায়। অনেক স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়  এবং স্ত্রী স্বামী কে বিচ্ছেদ করে। দাম্পত্য জীবন নিয়ে সামাজিক ভাবে অনেক বিচার হয় এবং থানায় মামলা হয়। কোর্ট আদালতে বিচার হয়। সামাজিক বিচার ও কোর্ট আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
 
দাম্পত্য জীবনে স্বামী  স্ত্রী যদি আল্লাহে ভয় করে ও কুরআন হাদীসের পথে জীবনব্যবস্থা গঠন করে তাহলে কোন বিচ্ছেদ বা তালাক হবে না। স্বামী স্ত্রীর উচিত একে অপরের সাথে ভাল ব্যবহার করা ও ভালবাসা সৃষ্টি করা। কুরআনে দাম্পত্য জীবনকে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 
 
সুতরাং মুমিনের উচিত দাম্পত্য জীবনের ব্যাপারে সতর্ক ও যত্নবান হওয়া। আল্লাহ বলেন, এবং তার নিদর্শনাবলির মধ্যে আছে যে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের স্ত্রীদের, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য তাতে অবশ্যই বহু নিদর্শন আছে।  (সুরা রুম, আয়াত : ২১)
 
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। যে সম্পর্কের মধ্যে কোনো পর্দা থাকে না। আল্লাহ বলেন, তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের জন্য পোশাক স্বরূপ এবং তোমরা তাদের জন্য পর্দাস্বরূপ।  (সুরা বাকারা, আয়াত : ১০) দাম্পত্য জীবনে সৃষ্টি হোক সুখ শান্তি আর ভালবাসা। —সময় সংবাদ