শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ কেন, মালয়েশিয়ার সংসদে প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের পর্যটকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সময় কেন অতিরিক্ত প্রশ্ন, ব্যাপক তল্লাশি ও যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির বিরোধী দলীয় একজন সংসদ সদস্য। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, মালয়েশিয়ার প্রবেশপথে কিছু দেশের পর্যটকদের ভিন্নধরনের আচরণের শিকার হতে হচ্ছে।

বুধবার মালয়েশিয়ার সংসদে আলোচনার সময় দেশটির পিএন-আরাউ আসনের সংসদ সদস্য দাতুক সেরি শাহিদান কাসিম মালয়েশিয়া বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সির (এমবিসিপিএ) মহাপরিচালক দাতুক সেরি শুহাইলি মোহাম্মদ জইনের কাছে ওই প্রশ্ন তোলেন। এ সময় তিনি বলেন, চীনা পর্যটকদের তুলনায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান এমনকি ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা পর্যটকদের কঠিন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়।

এমবিসিপিএর মহাপরিচালকের উদ্দেশে ওই সংসদ সদস্য বলেন, ‘‘আমি জানতে চাই, কেন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার পর্যটকদের ব্যাপক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। অথচ চীন থেকে আসা পর্যটকদের সহজেই দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়?

গত ৩ জুন দেশটির রাজধানীর কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (কেএলআইএ) টার্মিনাল ১ ও ২-এ ২৭৯ জন বিদেশিকে প্রবেশে বাধা দেয় এমবিসিপিএ। যা দেশটি থেকে এই সংস্থার একদিনে সর্বোচ্চসংখ্যক বিদেশিকে ফেরত পাঠানোর রেকর্ড। তাদের মধ্যে ২৪০ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন পাকিস্তানি এবং ছয়জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন।

গত ১৫ জুলাই কেএলআইএর টার্মিনাল ২-এ ট্রানজিট সুবিধার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে ১৪১ বিদেশিকে আটক করে সংস্থাটি। তাদের মধ্যে ৯৪ জন ভারতীয়, ৪১ জন ইন্দোনেশীয় এবং শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের তিনজন করে নাগরিক ছিলেন।

এরপর গত ২৫ জুলাই কেএলআইএ বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ১৯৮ জন বিদেশি নাগরিককে মালয়েশিয়ায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এই বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ থেকে ১২৮ বিদেশিকে আটক করে সংস্থাটি। তাদের মধ্যে ১২৩ জনই বাংলাদেশি (১২০ জন পুরুষ ও তিনজন নারী)। এছাড়া তাদের মধ্যে দু’জন পাকিস্তানি, একজন সিরীয় এবং দু’জন ইন্দোনেশীয় নাগরিক ছিলেন। তারা বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান থেকে ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছিলেন।

একই দিনে মালয়েশিয়ায় অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ এ আরও ৭০ জন যাত্রীকে দেশটিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৫১ জন ইন্দোনেশীয়, ১৩ জন ভারতীয়, চারজন পাকিস্তানি এবং দু’জন ভিয়েতনামী।

৩০ জুলাই মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল বলেন, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ১০ হাজার ৬৭৮ জন পর্যটককে দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। সূত্র: নিউ স্ট্রেইটস টাইমস

জনপ্রিয়

টাকা দিয়ে ভোট কেনা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও আচরণবিধির লঙ্ঘন: মাহদী আমিন

বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ কেন, মালয়েশিয়ার সংসদে প্রশ্ন

প্রকাশের সময় : ০৬:৫১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের পর্যটকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সময় কেন অতিরিক্ত প্রশ্ন, ব্যাপক তল্লাশি ও যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির বিরোধী দলীয় একজন সংসদ সদস্য। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, মালয়েশিয়ার প্রবেশপথে কিছু দেশের পর্যটকদের ভিন্নধরনের আচরণের শিকার হতে হচ্ছে।

বুধবার মালয়েশিয়ার সংসদে আলোচনার সময় দেশটির পিএন-আরাউ আসনের সংসদ সদস্য দাতুক সেরি শাহিদান কাসিম মালয়েশিয়া বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সির (এমবিসিপিএ) মহাপরিচালক দাতুক সেরি শুহাইলি মোহাম্মদ জইনের কাছে ওই প্রশ্ন তোলেন। এ সময় তিনি বলেন, চীনা পর্যটকদের তুলনায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান এমনকি ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা পর্যটকদের কঠিন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়।

এমবিসিপিএর মহাপরিচালকের উদ্দেশে ওই সংসদ সদস্য বলেন, ‘‘আমি জানতে চাই, কেন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার পর্যটকদের ব্যাপক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। অথচ চীন থেকে আসা পর্যটকদের সহজেই দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়?

গত ৩ জুন দেশটির রাজধানীর কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (কেএলআইএ) টার্মিনাল ১ ও ২-এ ২৭৯ জন বিদেশিকে প্রবেশে বাধা দেয় এমবিসিপিএ। যা দেশটি থেকে এই সংস্থার একদিনে সর্বোচ্চসংখ্যক বিদেশিকে ফেরত পাঠানোর রেকর্ড। তাদের মধ্যে ২৪০ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন পাকিস্তানি এবং ছয়জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন।

গত ১৫ জুলাই কেএলআইএর টার্মিনাল ২-এ ট্রানজিট সুবিধার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে ১৪১ বিদেশিকে আটক করে সংস্থাটি। তাদের মধ্যে ৯৪ জন ভারতীয়, ৪১ জন ইন্দোনেশীয় এবং শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের তিনজন করে নাগরিক ছিলেন।

এরপর গত ২৫ জুলাই কেএলআইএ বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ১৯৮ জন বিদেশি নাগরিককে মালয়েশিয়ায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এই বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ থেকে ১২৮ বিদেশিকে আটক করে সংস্থাটি। তাদের মধ্যে ১২৩ জনই বাংলাদেশি (১২০ জন পুরুষ ও তিনজন নারী)। এছাড়া তাদের মধ্যে দু’জন পাকিস্তানি, একজন সিরীয় এবং দু’জন ইন্দোনেশীয় নাগরিক ছিলেন। তারা বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান থেকে ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছিলেন।

একই দিনে মালয়েশিয়ায় অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ এ আরও ৭০ জন যাত্রীকে দেশটিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৫১ জন ইন্দোনেশীয়, ১৩ জন ভারতীয়, চারজন পাকিস্তানি এবং দু’জন ভিয়েতনামী।

৩০ জুলাই মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল বলেন, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ১০ হাজার ৬৭৮ জন পর্যটককে দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। সূত্র: নিউ স্ট্রেইটস টাইমস