শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের পক্ষে যেভাবে গুপ্তচরবৃত্তি করতেন এই তরুণী

ছবি: সংগৃহীত

পাহালগাম হামলার পর পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন ভারতীয় ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রা। তিন মাস তদন্তের পর জ্যোতির বিরুদ্ধে আড়াই হাজার পৃষ্ঠার একটি চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য তিনি পাকিস্তানে পাচার করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তরুণীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার জোরদার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, পাকিস্তানের হাইকমিশনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল জ্যোতির। এছাড়া তিনি কমপক্ষে দু’বার পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। পাহালগামে জঙ্গি হামলার পর অপারেশন সিঁদুর পরিচালনার পরই তদন্তকারীদের স্ক্যানারে আসেন জ্যোতি।

জ্যোতির বিরুদ্ধে চার্জশিটে হিসার পুলিশ জানায়, এই তরুণী দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের আইএসআই এজেন্ট সাকির, হাসান আলি এবং নাসিক ধিলোঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।

তদন্তকারীরা জানান, পাকিস্তানি এজেন্টরা প্রথমে জ্যোতির সঙ্গে অনলাইনে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়। এভাবেই পাকিস্তান হাইকমিশনে কর্মরত এহসান-উর-রহিম ওরফে দানিশ নামের সেই কর্মকর্তার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়।

পরে জ্যোতিকে অর্থের বিনিময়ে ধীরে ধীরে তথ্য জোগাড়ে নামানো হয়। চার্জশিটে উল্লেখ আছে, নিয়মিত ‘এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম’-এর মাধ্যমে তিনি তথ্য পাঠাতেন। আরও উদ্বেগের বিষয়, তার কাছ থেকে পাওয়া ডিজিটাল ডিভাইসে সেনাবাহিনী এবং সীমান্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিস্তারিত ছবি ও নথি উদ্ধার করা হয়েছে।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, জ্যোতি মালহোত্রা গত বছর ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। ভারতে ফিরে এসেছিলেন ১৫ মে। তার ২৫ দিন পরে ১০ জুন তিনি চীনে গিয়েছিলেন এবং জুলাই পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন। চীন থেকে ফিরেই আবার নেপালে গিয়েছিলেন জ্যোতি।

পুলিশের একটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, জ্যোতি যখন কর্তারপুর করিডর দিয়ে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন, তখন তিনি পাকিস্তানের পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ও সাবেক পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ শরিফের সঙ্গে দেখা করে তার সাক্ষাৎকারও নেন। তবে সেনাবাহিনীর কোনও অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে জ্যোতির কাছে সরাসরি কোনও তথ্য ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

গত এপ্রিলে পেহেলগাম হামলার জেরে পাকিস্তানি হাইকমিশনের প্রতিরক্ষা বা সামরিক কর্মকর্তাদের (নৌ ও বিমান) ‘পার্সোনা নন গ্রাটা’ বা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ভারত। এরপর গত ১ মে দুই দেশের হাইকমিশনের কর্মী সংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০ জনে আনা হয়। অবাঞ্ছিত এসব কর্মীর মধ্যে একজন ছিলেন এহসান-উর-রহিম।

ভারতের রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান সংস্থা (এনআইএ) জানিয়েছে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে ভারতে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবশালী মুখদের টার্গেট করছে। বিশেষত তরুণদের ব্যবহার করে ‘ডিজিটাল গুপ্তচক্র’ তৈরি করা হচ্ছে। জ্যোতি মালহোত্রার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে, কারণ তিনি নিজের অনুসারীদের ব্যবহার করে প্রভাব বাড়াতে পেরেছিলেন। ফলে সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহ অনেকটাই সহজ হয়েছিল।

চার্জশিটে আরো বলা হয়, পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগের বিনিময়ে তিনি কেবল টাকাই পাননি, বরং বিদেশ সফরের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রলোভনেই তিনি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন।

জনপ্রিয়

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র খুব ভালো আলোচনা হয়েছে: ট্রাম্প

পাকিস্তানের পক্ষে যেভাবে গুপ্তচরবৃত্তি করতেন এই তরুণী

প্রকাশের সময় : ১২:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

পাহালগাম হামলার পর পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন ভারতীয় ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রা। তিন মাস তদন্তের পর জ্যোতির বিরুদ্ধে আড়াই হাজার পৃষ্ঠার একটি চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য তিনি পাকিস্তানে পাচার করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তরুণীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার জোরদার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, পাকিস্তানের হাইকমিশনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল জ্যোতির। এছাড়া তিনি কমপক্ষে দু’বার পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। পাহালগামে জঙ্গি হামলার পর অপারেশন সিঁদুর পরিচালনার পরই তদন্তকারীদের স্ক্যানারে আসেন জ্যোতি।

জ্যোতির বিরুদ্ধে চার্জশিটে হিসার পুলিশ জানায়, এই তরুণী দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের আইএসআই এজেন্ট সাকির, হাসান আলি এবং নাসিক ধিলোঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।

তদন্তকারীরা জানান, পাকিস্তানি এজেন্টরা প্রথমে জ্যোতির সঙ্গে অনলাইনে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়। এভাবেই পাকিস্তান হাইকমিশনে কর্মরত এহসান-উর-রহিম ওরফে দানিশ নামের সেই কর্মকর্তার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়।

পরে জ্যোতিকে অর্থের বিনিময়ে ধীরে ধীরে তথ্য জোগাড়ে নামানো হয়। চার্জশিটে উল্লেখ আছে, নিয়মিত ‘এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম’-এর মাধ্যমে তিনি তথ্য পাঠাতেন। আরও উদ্বেগের বিষয়, তার কাছ থেকে পাওয়া ডিজিটাল ডিভাইসে সেনাবাহিনী এবং সীমান্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিস্তারিত ছবি ও নথি উদ্ধার করা হয়েছে।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, জ্যোতি মালহোত্রা গত বছর ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। ভারতে ফিরে এসেছিলেন ১৫ মে। তার ২৫ দিন পরে ১০ জুন তিনি চীনে গিয়েছিলেন এবং জুলাই পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন। চীন থেকে ফিরেই আবার নেপালে গিয়েছিলেন জ্যোতি।

পুলিশের একটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, জ্যোতি যখন কর্তারপুর করিডর দিয়ে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন, তখন তিনি পাকিস্তানের পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ও সাবেক পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ শরিফের সঙ্গে দেখা করে তার সাক্ষাৎকারও নেন। তবে সেনাবাহিনীর কোনও অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে জ্যোতির কাছে সরাসরি কোনও তথ্য ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

গত এপ্রিলে পেহেলগাম হামলার জেরে পাকিস্তানি হাইকমিশনের প্রতিরক্ষা বা সামরিক কর্মকর্তাদের (নৌ ও বিমান) ‘পার্সোনা নন গ্রাটা’ বা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ভারত। এরপর গত ১ মে দুই দেশের হাইকমিশনের কর্মী সংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০ জনে আনা হয়। অবাঞ্ছিত এসব কর্মীর মধ্যে একজন ছিলেন এহসান-উর-রহিম।

ভারতের রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান সংস্থা (এনআইএ) জানিয়েছে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে ভারতে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবশালী মুখদের টার্গেট করছে। বিশেষত তরুণদের ব্যবহার করে ‘ডিজিটাল গুপ্তচক্র’ তৈরি করা হচ্ছে। জ্যোতি মালহোত্রার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে, কারণ তিনি নিজের অনুসারীদের ব্যবহার করে প্রভাব বাড়াতে পেরেছিলেন। ফলে সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহ অনেকটাই সহজ হয়েছিল।

চার্জশিটে আরো বলা হয়, পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগের বিনিময়ে তিনি কেবল টাকাই পাননি, বরং বিদেশ সফরের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রলোভনেই তিনি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন।