শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
কেন্দুয়া পুবাইল বালিকা স্কুল

ঝুকিপূর্ণ ভবন, সুপেয় পানি ও শৌচাগারের সমস্যায় মেয়েদের শিক্ষা বিপন্ন

রুকন উদ্দিন, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের পুবাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন ঝুকিপূর্ণ ও ঝুকিপূর্ণ টিনসেন হাফ বিল্ডিং, সুপেয় পানি এবং পর্যাপ্ত শৌচাগারের অভাবের কারণে মেয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের বিপত্তির সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয়টি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, ৩০ বছর আগে নির্মিত একটিমাত্র টিনসেট জরাজীর্ণ হাফ বিল্ডিং ভবনটি ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলেই টিনের চাল দিয়ে শ্রেণিকক্ষে ও শিক্ষকদের রুমে টপটপ পানি পড়া বই খাতা সহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ ভিজে যায়। পুরোনো দেয়ালগুলো খসে খসে পরতাছে যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ভাঙা টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ার গর্ত ও জরাজীর্ণ দেয়ালের ফাটল শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপত্তাহীন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

পুবাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নারী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে এই অঞ্চলে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমদের বিদ্যালয়ের অবকাঠামো এত নোংরা যা আপনারা নিজেরাই (প্রতিবেদকগণ) দেখতে পাচ্ছেন ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। ক্লাসরুমের টিনের চাল দিয়ে টপটপ বৃষ্টির পানি পরে বইপত্র ভিজে যায়, এমনকি ফ্লোর মাটির থাকায় গর্ত হয়ে বৃষ্টির পানি জমে থাকে ক্লাস করাই তখন অসম্ভব হয়ে যায়। বিশুদ্ধ খাবার পানির নেই সঠিক ব্যবস্থা যেটুকু আছে নোংরা পরিবেশে। নারী শিক্ষার অন্যতম হলো মানসম্মত ও সুন্দর পরিবেশের শৌচাগারের ব্যবস্থা, কিন্তু আমাদের বিদ্যালয়ের শৌচাগারের পরিবেশ দেখলে যেকোন মানুষের দম বন্ধ হয়ে যাবে। আর খেলার মাঠের অবস্থাও শোচনীয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১০ সালে এমপিও ভুক্ত হয়। ৩০ বছর আগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের টিনের চালা বিশিষ্ট জরাজীর্ণ একটি হাফ বিল্ডিং ভবনই পাঠদানের একমাত্র ভরসা। এই একটিমাত্র জরাজীর্ণ ভাঙাচোরা ঘরেই ক্লাসরুম, শিক্ষক-স্টাফ রুম, প্রধান শিক্ষকের রুম, শৌচাগার সহ আরো অন্যান্য শিক্ষা সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। একটি বালিকা বিদ্যালয়ের মান এতো নাকুজ কল্পনাও করা যায়। কতৃপক্ষকে বারবার বিষয়টি অবগত করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি।

কেন্দুয়া উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শফিকুল বারী মুঠোফোনে জানান, আমার জানামতে পুবাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন (অবকাঠামোগত) উন্নয়নের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে আবেদনপত্র জমা দেয়া আছে এবং আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন। বিদ্যালয় কতৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলে আবেদনেপত্র বাস্তবায়নের সঠিক তথ্যটি জানতে পারবেন।

জনপ্রিয়

আলোচনায় থেকেও পরাজিত হলেন যে সব প্রার্থীরা

কেন্দুয়া পুবাইল বালিকা স্কুল

ঝুকিপূর্ণ ভবন, সুপেয় পানি ও শৌচাগারের সমস্যায় মেয়েদের শিক্ষা বিপন্ন

প্রকাশের সময় : ১২:৪৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫

রুকন উদ্দিন, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের পুবাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন ঝুকিপূর্ণ ও ঝুকিপূর্ণ টিনসেন হাফ বিল্ডিং, সুপেয় পানি এবং পর্যাপ্ত শৌচাগারের অভাবের কারণে মেয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের বিপত্তির সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয়টি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, ৩০ বছর আগে নির্মিত একটিমাত্র টিনসেট জরাজীর্ণ হাফ বিল্ডিং ভবনটি ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলেই টিনের চাল দিয়ে শ্রেণিকক্ষে ও শিক্ষকদের রুমে টপটপ পানি পড়া বই খাতা সহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ ভিজে যায়। পুরোনো দেয়ালগুলো খসে খসে পরতাছে যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ভাঙা টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ার গর্ত ও জরাজীর্ণ দেয়ালের ফাটল শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপত্তাহীন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

পুবাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নারী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে এই অঞ্চলে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমদের বিদ্যালয়ের অবকাঠামো এত নোংরা যা আপনারা নিজেরাই (প্রতিবেদকগণ) দেখতে পাচ্ছেন ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। ক্লাসরুমের টিনের চাল দিয়ে টপটপ বৃষ্টির পানি পরে বইপত্র ভিজে যায়, এমনকি ফ্লোর মাটির থাকায় গর্ত হয়ে বৃষ্টির পানি জমে থাকে ক্লাস করাই তখন অসম্ভব হয়ে যায়। বিশুদ্ধ খাবার পানির নেই সঠিক ব্যবস্থা যেটুকু আছে নোংরা পরিবেশে। নারী শিক্ষার অন্যতম হলো মানসম্মত ও সুন্দর পরিবেশের শৌচাগারের ব্যবস্থা, কিন্তু আমাদের বিদ্যালয়ের শৌচাগারের পরিবেশ দেখলে যেকোন মানুষের দম বন্ধ হয়ে যাবে। আর খেলার মাঠের অবস্থাও শোচনীয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১০ সালে এমপিও ভুক্ত হয়। ৩০ বছর আগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের টিনের চালা বিশিষ্ট জরাজীর্ণ একটি হাফ বিল্ডিং ভবনই পাঠদানের একমাত্র ভরসা। এই একটিমাত্র জরাজীর্ণ ভাঙাচোরা ঘরেই ক্লাসরুম, শিক্ষক-স্টাফ রুম, প্রধান শিক্ষকের রুম, শৌচাগার সহ আরো অন্যান্য শিক্ষা সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। একটি বালিকা বিদ্যালয়ের মান এতো নাকুজ কল্পনাও করা যায়। কতৃপক্ষকে বারবার বিষয়টি অবগত করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি।

কেন্দুয়া উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শফিকুল বারী মুঠোফোনে জানান, আমার জানামতে পুবাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন (অবকাঠামোগত) উন্নয়নের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে আবেদনপত্র জমা দেয়া আছে এবং আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন। বিদ্যালয় কতৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলে আবেদনেপত্র বাস্তবায়নের সঠিক তথ্যটি জানতে পারবেন।