শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভয়াবহ পানি সংকটে ফিলিস্তিনিরা

ছবি-সংগৃহীত

ইসরায়েলি দখলকৃত পশ্চিম তীরে ভয়াবহ পানি সংকটে ভুগছেন ফিলিস্তিনিরা। তাদের অভিযোগ, চরমপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা বারবার পানি সরবরাহ ও অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে সংকট আরও ঘনীভূত করছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রামাল্লাহসহ বিভিন্ন শহরে এখন ঘরোয়া কল শুকনো, কৃষি জমিও সেচের পানিশূন্য। বাধ্য হয়ে অনেকেই পাবলিক ট্যাপ থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা উম্ম জিয়াদ বলেন, ‘বাড়িতে সপ্তাহে মাত্র দু’দিন পানি আসে। তাই সবাই এখানে বোতল নিয়ে লাইন দেয়।’

জাতিসংঘ জানিয়েছে, শুধু চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই বসতি স্থাপনকারীরা অন্তত ৬২ বার কূপ, পাইপলাইন ও পানি সরবরাহ কেন্দ্র ভাঙচুর করেছে। এর মধ্যে রামাল্লাহর কাছে আইন সামিয়া এলাকার একটি ঝরনা ও পানি বিতরণ কেন্দ্র বারবার টার্গেট হয়েছে। এই কেন্দ্র থেকে আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রাম ও কিছু শহরতলিতে পানি যেত।

৬০ বছর বয়সী আবদুল্লাহ বাইরাত বলেন, ‘বসতি স্থাপনকারীরা আসে, স্টেশন ভেঙে ফেলে, ক্যামেরা খুলে নেয়, আর ঘন্টার পর ঘন্টা পানি বন্ধ রাখে।’

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি অবৈধ এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথে বড় বাধা। তবে বসতি স্থাপনকারীরা বছরের পর বছর ধরে ফিলিস্তিনিদের প্রাকৃতিক পানির উৎস দখল করে নিয়েছে বলে জানায় ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বেতসেলেম।

সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক কারিম জুবরান জানান, প্রায় সব প্রাকৃতিক ঝরনা বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ফিলিস্তিনিদের জন্য পানি যেন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অক্টোবর ২০২৩-এ হামাসের ইসরায়েল হামলার পর থেকে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়েছে বলে ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ। জাতিসংঘ বলছে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে এমন সহিংসতার ঘটনা ৯২৫-এ দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি।

এদিকে, কয়েকজন ইসরায়েলি রাজনীতিক পশ্চিম তীর দখলকৃত অংশ সরাসরি সংযুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফ্রান্সসহ কিছু পশ্চিমা দেশ যখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, তখন ইসরায়েল এ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের পানি অবকাঠামো উন্নয়নে ইসরায়েলের অনুমতি দরকার হয়, যা সচরাচর দেওয়া হয় না। বেতসেলেমের মতে, পশ্চিম তীরের পানির সংকট আসলে ইসরায়েলের বৈষম্যমূলক নীতির ফল, যেখানে বসতি স্থাপনকারীরা পর্যাপ্ত পানি সুবিধা পায় অথচ ফিলিস্তিনিরা বঞ্চিত হয়।

অনেক পরিবার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ বা ট্যাংকার থেকে কেনা পানির ওপর নির্ভর করছে। তবে এসব সরবরাহ ব্যয়বহুল। রামাল্লাহর বাসিন্দা ওয়াফিক সেলিম বলেন, ‘যদি এভাবে হামলা চলতে থাকে, একদিন পানিকে ঘিরেই বড় সংঘাত হবে। পানি আমাদের সবচেয়ে জরুরি সম্পদ।’

জনপ্রিয়

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সামনে অনশনে গণঅধিকারের প্রার্থী

ভয়াবহ পানি সংকটে ফিলিস্তিনিরা

প্রকাশের সময় : ০৭:১৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ইসরায়েলি দখলকৃত পশ্চিম তীরে ভয়াবহ পানি সংকটে ভুগছেন ফিলিস্তিনিরা। তাদের অভিযোগ, চরমপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা বারবার পানি সরবরাহ ও অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে সংকট আরও ঘনীভূত করছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রামাল্লাহসহ বিভিন্ন শহরে এখন ঘরোয়া কল শুকনো, কৃষি জমিও সেচের পানিশূন্য। বাধ্য হয়ে অনেকেই পাবলিক ট্যাপ থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা উম্ম জিয়াদ বলেন, ‘বাড়িতে সপ্তাহে মাত্র দু’দিন পানি আসে। তাই সবাই এখানে বোতল নিয়ে লাইন দেয়।’

জাতিসংঘ জানিয়েছে, শুধু চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই বসতি স্থাপনকারীরা অন্তত ৬২ বার কূপ, পাইপলাইন ও পানি সরবরাহ কেন্দ্র ভাঙচুর করেছে। এর মধ্যে রামাল্লাহর কাছে আইন সামিয়া এলাকার একটি ঝরনা ও পানি বিতরণ কেন্দ্র বারবার টার্গেট হয়েছে। এই কেন্দ্র থেকে আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রাম ও কিছু শহরতলিতে পানি যেত।

৬০ বছর বয়সী আবদুল্লাহ বাইরাত বলেন, ‘বসতি স্থাপনকারীরা আসে, স্টেশন ভেঙে ফেলে, ক্যামেরা খুলে নেয়, আর ঘন্টার পর ঘন্টা পানি বন্ধ রাখে।’

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি অবৈধ এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথে বড় বাধা। তবে বসতি স্থাপনকারীরা বছরের পর বছর ধরে ফিলিস্তিনিদের প্রাকৃতিক পানির উৎস দখল করে নিয়েছে বলে জানায় ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বেতসেলেম।

সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক কারিম জুবরান জানান, প্রায় সব প্রাকৃতিক ঝরনা বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ফিলিস্তিনিদের জন্য পানি যেন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অক্টোবর ২০২৩-এ হামাসের ইসরায়েল হামলার পর থেকে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়েছে বলে ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ। জাতিসংঘ বলছে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে এমন সহিংসতার ঘটনা ৯২৫-এ দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি।

এদিকে, কয়েকজন ইসরায়েলি রাজনীতিক পশ্চিম তীর দখলকৃত অংশ সরাসরি সংযুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফ্রান্সসহ কিছু পশ্চিমা দেশ যখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, তখন ইসরায়েল এ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের পানি অবকাঠামো উন্নয়নে ইসরায়েলের অনুমতি দরকার হয়, যা সচরাচর দেওয়া হয় না। বেতসেলেমের মতে, পশ্চিম তীরের পানির সংকট আসলে ইসরায়েলের বৈষম্যমূলক নীতির ফল, যেখানে বসতি স্থাপনকারীরা পর্যাপ্ত পানি সুবিধা পায় অথচ ফিলিস্তিনিরা বঞ্চিত হয়।

অনেক পরিবার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ বা ট্যাংকার থেকে কেনা পানির ওপর নির্ভর করছে। তবে এসব সরবরাহ ব্যয়বহুল। রামাল্লাহর বাসিন্দা ওয়াফিক সেলিম বলেন, ‘যদি এভাবে হামলা চলতে থাকে, একদিন পানিকে ঘিরেই বড় সংঘাত হবে। পানি আমাদের সবচেয়ে জরুরি সম্পদ।’