
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ার বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে পরিণত হয় সামরিক শক্তির প্রদর্শনী মঞ্চে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ মহাকুচকাওয়াজে প্রদর্শন করা হয় চীনের সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, ট্যাংক, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও স্টেলথ ফাইটার জেট।
চীনের প্রেসিডেন্ট এবং দেশটির সেনাবাহিনী ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শি জিনপিং কুচকাওয়াজের নেতৃত্ব দেন। তিনি অনুষ্ঠানে আগত বিদেশি অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান। বিশেষভাবে অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। খবর আল জাজিরার
শি জিনপিং প্রথমে চীনা যুদ্ধবীরদের স্বাগত জানান এবং পরে তিয়ানআনমেন স্কয়ারের গেট অব হেভেনলি পিস থেকে সেনাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। প্রায় ১০ হাজার সেনাসদস্যের সামনে তিনি বলেন, ‘চীন শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে চলতে থাকবে।’
তার ভাষণে শি বলেন, ‘মানবজাতি আবারও শান্তি না যুদ্ধ, সংলাপ না সংঘাত, এবং পারস্পরিক জয়ের বদলে শূন্য যোগফলের খেলায় দাঁড়িয়ে আছে। চীনের জনগণ শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে অটল থাকবে এবং বিশ্ববাসীর সঙ্গে মিলে মানবতার অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।
এ সময় ঐতিহ্যবাহী ধূসর মাও স্যুট পরে খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট। এর পরেই শুরু হয় বিশাল সামরিক মহড়া, যা বেইজিংয়ের প্রধান সড়ক চাং’আন অ্যাভিনিউজুড়ে বিস্তৃত ছিল।
কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত হয় চীনের সবচেয়ে উন্নতমানের ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধাস্ত্র। বিশেষভাবে নজর কাড়ে পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম ডিএফ–৫ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কুচকাওয়াজের মাধ্যমে শি জিনপিং দেখাতে চাইছেন যে, তার নেতৃত্বে চীন বিশ্বশক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের নেতাদের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চীনকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়।
সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান চং বলেন, ‘এ আয়োজনের মূল বার্তা হলো— চীন এখন বিশ্বশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য কারও চাপ বা হুমকি তাদের বিচলিত করতে পারবে না।’
বেইজিংয়ের এই সামরিক প্রদর্শনী শুধু চীনের শক্তি নয়, বরং বিশ্বরাজনীতিতে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করার একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

























