বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুর ২৯ বছর পরও ভক্তদের হৃদয়ে সালমান শাহ

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৪:২৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৭

ছবি-সংগৃহীত

বাংলার সিনেমাপ্রেমীদের কাছে আজকের দিনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই দিনটিতেই দর্শক হারিয়েছে বাংলা সিনেমার ‘একচ্ছত্র রাজপুত্র’ নায়ক সালমান শাহকে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আজকের দিনেই হঠাৎ দর্শকদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলা চলচ্চিত্রের এ জনপ্রিয় নায়ক। মাত্র ২৫ বছর বয়সে স্বপ্নের নায়ককে হারিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।

ঢালিউডে তার ক্যারিয়ার ছিল মাত্র ৪ বছরের। ১৯৯৩ সালে‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’সিনেমায় প্রথম অভিনয় করেই রুপালি জগতে আর আত্মপ্রকাশ। প্রথম এ সিনেমা দিয়েই দর্শক হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি।
 
তার অভিনীত সিনেমার সংখ্যা মাত্র ২৭টি। কিন্তু সবকটি সিনেমাই ছিল দুর্দান্ত ব্যবসা সফল। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘জীবন সংসার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম প্রিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বুকের ভেতর আগুন’ ইত্যাদি।
 
এসব সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নয়ের দশকে চলচ্চিত্রে রোমান্টিক ঘরানার এক ভিন্ন ধারা তৈরি করেন সালমান। সিনেমায় অভিনয়ের আগে টেলিভিশন নাটক দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন। সালমান শাহ অভিনীত নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘আকাশ ছোঁয়া’, ‘সব পাখি ঘরে ফিরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’, ‘ইতিকথা’, বিশেষ টেলিফিল্ম ‘স্বপ্নের পৃথিবী’।
 
১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের দাড়িয়াপাড়ায় এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তার আসল নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। তবে চলচ্চিত্রে সালমান শাহ নামেই পরিচিতি পান তিনি।
 
সালমানই একমাত্র নায়ক, সর্বমহলে যিনি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে এবং তরুণদের স্টাইল আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছিলেন। শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির দর্শকদের হলে গিয়ে ছবি দেখার অনভ্যাস দূর করেছিলেন।
 
দক্ষ অভিনয়, সুদর্শন চেহারা আর বিশেষ স্টাইলের জন্য রাতারাতি দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন এ স্বপ্নের নায়ক। ছেলে ভক্তদের পাশাপাশি প্রচুর মেয়ে ভক্ত পান নব্বই দশকের এ ড্রিম বয়।
 
কিন্তু হঠাৎই অঘটন ঘটে ১৯৯৬ সালের আজকের এ দিনে। এদিন ঢাকার ইস্কাটনে নিজ বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করা হলেও তার মৃত্যু নিয়ে এখনো রহস্য রয়ে গেছে।
 
কালের স্রোতে‘স্বপ্নের নায়ক’কে হারানোর ২৯ বছর কেটে গেছে। তবে তার মৃত্যু আজও কাঁদায় ভক্তদের। সিনেপ্রেমীদের হৃদয়ে আজও ‘শাহেনশাহ’ হয়ে অমর রয়েছেন ক্ষণজন্মা এ তারকা। 
জনপ্রিয়

সমুদ্রের নিচে থাকা ‘ক্ষেপণাস্ত্র টানেল’ উন্মোচন করলো ইরান

মৃত্যুর ২৯ বছর পরও ভক্তদের হৃদয়ে সালমান শাহ

প্রকাশের সময় : ০৪:২৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলার সিনেমাপ্রেমীদের কাছে আজকের দিনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই দিনটিতেই দর্শক হারিয়েছে বাংলা সিনেমার ‘একচ্ছত্র রাজপুত্র’ নায়ক সালমান শাহকে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আজকের দিনেই হঠাৎ দর্শকদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলা চলচ্চিত্রের এ জনপ্রিয় নায়ক। মাত্র ২৫ বছর বয়সে স্বপ্নের নায়ককে হারিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।

ঢালিউডে তার ক্যারিয়ার ছিল মাত্র ৪ বছরের। ১৯৯৩ সালে‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’সিনেমায় প্রথম অভিনয় করেই রুপালি জগতে আর আত্মপ্রকাশ। প্রথম এ সিনেমা দিয়েই দর্শক হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি।
 
তার অভিনীত সিনেমার সংখ্যা মাত্র ২৭টি। কিন্তু সবকটি সিনেমাই ছিল দুর্দান্ত ব্যবসা সফল। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘জীবন সংসার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম প্রিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বুকের ভেতর আগুন’ ইত্যাদি।
 
এসব সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নয়ের দশকে চলচ্চিত্রে রোমান্টিক ঘরানার এক ভিন্ন ধারা তৈরি করেন সালমান। সিনেমায় অভিনয়ের আগে টেলিভিশন নাটক দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন। সালমান শাহ অভিনীত নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘আকাশ ছোঁয়া’, ‘সব পাখি ঘরে ফিরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’, ‘ইতিকথা’, বিশেষ টেলিফিল্ম ‘স্বপ্নের পৃথিবী’।
 
১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের দাড়িয়াপাড়ায় এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তার আসল নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। তবে চলচ্চিত্রে সালমান শাহ নামেই পরিচিতি পান তিনি।
 
সালমানই একমাত্র নায়ক, সর্বমহলে যিনি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে এবং তরুণদের স্টাইল আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছিলেন। শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির দর্শকদের হলে গিয়ে ছবি দেখার অনভ্যাস দূর করেছিলেন।
 
দক্ষ অভিনয়, সুদর্শন চেহারা আর বিশেষ স্টাইলের জন্য রাতারাতি দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন এ স্বপ্নের নায়ক। ছেলে ভক্তদের পাশাপাশি প্রচুর মেয়ে ভক্ত পান নব্বই দশকের এ ড্রিম বয়।
 
কিন্তু হঠাৎই অঘটন ঘটে ১৯৯৬ সালের আজকের এ দিনে। এদিন ঢাকার ইস্কাটনে নিজ বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করা হলেও তার মৃত্যু নিয়ে এখনো রহস্য রয়ে গেছে।
 
কালের স্রোতে‘স্বপ্নের নায়ক’কে হারানোর ২৯ বছর কেটে গেছে। তবে তার মৃত্যু আজও কাঁদায় ভক্তদের। সিনেপ্রেমীদের হৃদয়ে আজও ‘শাহেনশাহ’ হয়ে অমর রয়েছেন ক্ষণজন্মা এ তারকা।