
রুকন উদ্দিন, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের মনোবিজ্ঞান অঙ্গনের এবং প্রশাসনিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ড. ইমদাদুল হক তালুকদার বর্তমানে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে কর্মরত। একই সঙ্গে তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৮৭ সালে জামালপুর জেলার মোহনপুরে জন্মগ্রহণ করা ড. ইমদাদুল হক তালুকদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দম্পতি মো. শামছুল হক তালুকদার ও মাহফুজা খাতুনের সন্তান। শৈশবে মায়ের কর্মস্থল খুপিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি হয় তাঁর। মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন বাশচড়া এসবিজও মডার্ন উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন ঢাকা স্টেট কলেজ থেকে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি (সাইকোলজি), এমএসএস, ফিনল্যান্ডের Åbo Akademi University থেকে উন্নয়নমূলক মনোবিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি সুইডেনের Karolinska Institute থেকে হেলথ ইকনমিক্স, পলিসি ও ম্যানেজমেন্টে এমএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি বিতর্ক, রক্তদান, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি ও হল ডিবেটিং ক্লাবের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ফিল্ম ফর ফ্রিডম প্রকল্পে শর্ট ফিল্ম নির্মাণের মাধ্যমে জনসচেতনতায় ভূমিকা রাখেন।
ড. ইমদাদুল হক তালুকদারের গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ। পিএইচডি চলাকালে তিনি ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে “Young Investigator Award” অর্জন করেন, যা তাকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ তরুণ গবেষকের কাতারে স্থান দেয়। বর্তমানে তিনি International Society for Research on Aggression (ISRA)-এর একজন আন্তর্জাতিক ফেলো সদস্য।
প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সঙ্গীত জগতে সমানভাবে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “পরানপোড়া ছাই” (কবিতা), “শাখের করাত” (রম্য রচনা) এবং মরমী কবি জালাল উদ্দিন খাঁকে নিয়ে সম্পাদিত “ভাব তরঙ্গ” সহ ছোটগল্প, কবিতা, কলাম ও রম্য রচনায়ও তার রয়েছে সমৃদ্ধ অবদান।
সম্প্রতি তিনি জাপানের আমন্ত্রণে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সফর শেষে দেশে ফিরে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ কেন্দুয়া পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।
রুকন উদ্দিন, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: 







































