
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য বর্তমানে ভিসা প্রাপ্তি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ অনিয়মের কারণে বিভিন্ন দেশ নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। এর ফলে শিক্ষার্থী, কর্মসংস্থানপ্রত্যাশী ও পর্যটকরা ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতায় পড়ছেন।
নতুন ভিসা বাধা : অনেক দেশ বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করেছে। কিছু দেশ একেবারেই ভিসা প্রদান বন্ধ রেখেছে, আবার কিছু দেশ সীমিত করছে।
সীমিতকরণ ও নিষেধাজ্ঞা : পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ বাংলাদেশিদের ভিসা সীমিত করেছে বা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিদেশে কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ অনেকাংশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কর্মসংস্থানের সুযোগে বাধা : বিদেশে কাজের সুযোগ খুঁজছেন এমন প্রার্থীদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ায় বিদেশগামী শ্রমিকদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর নীতি : ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার কঠোর হয়েছে। এখনো সেই কড়াকড়ি কার্যকর রয়েছে, বিশেষ করে ভিসা সাক্ষাৎকার ও যাচাই প্রক্রিয়ায়।
পর্যটন ও চিকিৎসা ভিসার জটিলতা : কিছু দেশ পর্যটন ও চিকিৎসা ভিসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করছে। অনেকে ভিসা নিয়ে বিদেশে থেকে যাওয়ায় কিংবা জাল নথি ব্যবহারের কারণে এ ধরনের কড়াকড়ি তৈরি হয়েছে।
ইউরোপীয় দেশের সতর্কতা : মাল্টা, স্লোভেনিয়া ও আরও কিছু ইউরোপীয় দেশ শিক্ষা ভিসা প্রদানে কঠোর হয়েছে। অতীতে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা ভিসায় গিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ায় এসব কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
ভিসা বাতিলের বৃদ্ধি : ভুয়া কাগজপত্র, ভুল তথ্য এবং নীতিমালা পরিবর্তনের কারণে ভিসা বাতিলের হার বেড়েছে।
আবেদনকারীর অসততা : কিছু আবেদনকারীর অনিয়ম ও অসততা সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশিদের ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন দূতাবাসকে সক্রিয় করেছে। বিশেষ করে নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করার দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।
ভিসা সংকটের কারণে অনেকেই সমস্যায় পড়লেও বাংলাদেশের মানুষ উচ্চশিক্ষা, পর্যটন ও কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ হারাচ্ছেন না। তবে ভিসা পেতে হলে এখন আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং সব ধরনের নিয়ম মেনে আবেদন করাই হবে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
বার্তাকণ্ঠ ডেস্ক 



















