সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সিপাহি পদে চাকরির প্রলোভন

টেকনাফে পোস্টিং, রাজশাহীতে প্রশিক্ষণ, অবশেষে ভুয়া নিয়োগপত্রের প্রতারণা ফাঁস

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সিপাহি পদে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র ও পুলিশ ভেরিফিকেশন তৈরি করে এক যুবকের কাছ থেকে ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বেতকান্দি গ্রামের আব্দুল মালেক এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতারণার সঙ্গে জড়িত দুজন হলেন—ফিরোজ উদ্দিন ও রাশিদুল ইসলাম। তারা সম্পর্কে শালা–দুলাভাই। ফিরোজ ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসে কমান্ড স্টাফ কলেজে অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে কর্মরত এবং রাশিদুল ঢাকার মধ্য বাড্ডায় প্রবাসী এজেন্সি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাদের স্থায়ী ঠিকানা সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চরটেংরাইল গ্রামে।
প্রথমে মালেককে জানানো হয় যে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সিপাহি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। একাধিকবার নগদ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার পর তাকে নিয়োগপত্র ও পুলিশ ভেরিফিকেশন সরবরাহ করা হয়। জানানো হয়, তার পোস্টিং হবে কক্সবাজারের টেকনাফে এবং প্রশিক্ষণ নিতে হবে রাজশাহীতে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রশিক্ষণে যোগ দিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, নিয়োগপত্র ও ভেরিফিকেশন দুটোই ভুয়া।
আব্দুল মালেক অভিযোগে উল্লেখ করেন, ফিরোজ ও রাশিদুল তার কাছ থেকে ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, কয়েকটি স্ট্যাম্প ও চেক নিয়েছেন। টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি মিরপুর সেনানিবাস কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগীর দাবিকৃত চেকগুলো ব্যাংক থেকে ভুয়া স্বাক্ষরের কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ব্যাংকের নথিতেও ফিরোজের বিরুদ্ধে পূর্বে প্রতারণার অভিযোগ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
আদালত থেকে একাধিকবার হাজিরার নোটিশ পাঠানো হলেও ফিরোজ ও রাশিদুল হাজির হননি। বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাশিদুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে শ্যালকের কথায় মালেকের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা তিনি গ্রহণ করেছিলেন এবং পরে সেই টাকা ফিরোজকে দিয়েছেন। তবে পুরো টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ফিরোজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনামিকা নজরুল জানান, অভিযোগের পর উভয় পক্ষকে নোটিশ পাঠানো হলেও তারা হাজির হননি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে এবং ফিরোজ সেনানিবাসে কর্মরত থাকায় যথাযথ কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হচ্ছে।
জনপ্রিয়

গোগার গোপালপুরে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সিপাহি পদে চাকরির প্রলোভন

টেকনাফে পোস্টিং, রাজশাহীতে প্রশিক্ষণ, অবশেষে ভুয়া নিয়োগপত্রের প্রতারণা ফাঁস

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সিপাহি পদে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র ও পুলিশ ভেরিফিকেশন তৈরি করে এক যুবকের কাছ থেকে ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বেতকান্দি গ্রামের আব্দুল মালেক এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতারণার সঙ্গে জড়িত দুজন হলেন—ফিরোজ উদ্দিন ও রাশিদুল ইসলাম। তারা সম্পর্কে শালা–দুলাভাই। ফিরোজ ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসে কমান্ড স্টাফ কলেজে অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে কর্মরত এবং রাশিদুল ঢাকার মধ্য বাড্ডায় প্রবাসী এজেন্সি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাদের স্থায়ী ঠিকানা সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চরটেংরাইল গ্রামে।
প্রথমে মালেককে জানানো হয় যে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সিপাহি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। একাধিকবার নগদ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার পর তাকে নিয়োগপত্র ও পুলিশ ভেরিফিকেশন সরবরাহ করা হয়। জানানো হয়, তার পোস্টিং হবে কক্সবাজারের টেকনাফে এবং প্রশিক্ষণ নিতে হবে রাজশাহীতে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রশিক্ষণে যোগ দিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, নিয়োগপত্র ও ভেরিফিকেশন দুটোই ভুয়া।
আব্দুল মালেক অভিযোগে উল্লেখ করেন, ফিরোজ ও রাশিদুল তার কাছ থেকে ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, কয়েকটি স্ট্যাম্প ও চেক নিয়েছেন। টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি মিরপুর সেনানিবাস কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগীর দাবিকৃত চেকগুলো ব্যাংক থেকে ভুয়া স্বাক্ষরের কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ব্যাংকের নথিতেও ফিরোজের বিরুদ্ধে পূর্বে প্রতারণার অভিযোগ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
আদালত থেকে একাধিকবার হাজিরার নোটিশ পাঠানো হলেও ফিরোজ ও রাশিদুল হাজির হননি। বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাশিদুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে শ্যালকের কথায় মালেকের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা তিনি গ্রহণ করেছিলেন এবং পরে সেই টাকা ফিরোজকে দিয়েছেন। তবে পুরো টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ফিরোজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনামিকা নজরুল জানান, অভিযোগের পর উভয় পক্ষকে নোটিশ পাঠানো হলেও তারা হাজির হননি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে এবং ফিরোজ সেনানিবাসে কর্মরত থাকায় যথাযথ কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হচ্ছে।