বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোংলায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গোৎসব

মারুফ বাবু, মোংলা প্রতিনিধিঃ
মোংলায় বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বিসর্জনকে কেন্দ্র করে মোংলার নদীর পাড় ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশ, নৌ-বাহিনী ও কোস্টগার্ড মোতায়ন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে বিদায় জানানো হয় দেবী দুর্গাকে। পরে সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। ঢাকের বাদ্য আর গান-বাজনায় বিদায়ের করুণ ছায়ায় মোংলার নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয় প্রতিমা। এর আগে মন্ডপে মন্ডপে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের আসুরিক প্রবৃত্তি কাম, ক্রোধ, হিংসা, লালসা বিসর্জন দেওয়াই মূলত বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এ প্রবৃত্তিগুলোকে বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।
চন্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠী তিথিতে ‘আনন্দময়ীর’ আগমনে গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরবর্তী ৫ দিন পূজামণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনার মধ্যদিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়।
সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী ফিরে গেলেন স্বর্গলোকের কৈলাসে স্বামীর ঘরে। পরের বছর শরতে আবার তিনি আসবেন এই ধরণীতে যা তার বাবার গৃহ। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। ছিলো নৌবাহিনী,পুলিশ ও কোষ্ট গার্ডের যৌথ পাহারা।
শাস্ত্রমতে, এ বছর দেবী দুর্গা কৈলাস থেকে গজে (হাতি) চড়ে মর্ত্যে এসেছিলেন। ফিরে যাচ্ছেন দোলায় (পালকি) করে। বিশ্বাস অনুযায়ী, গজে আগমন শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল বয়ে আনে। তবে দোলায় গমন মহামারি বা অন্য কোনো বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কার ইঙ্গিত বহন করে। মহালয়ার দিন দেবীপক্ষের সূচনা হয় ২১ সেপ্টেম্বর। আগামী ৬ অক্টোবর কোজাগরী পূর্ণিমার মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটবে।
প্রথা অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জনের পর সেখান থেকে জল এনে (শান্তিজল) মঙ্গল ঘটে নিয়ে তা আবার হৃদয়ে ধারণ করা হয়। আগামী বছর আবার এ শান্তিজল হৃদয় থেকে ঘটে, ঘট থেকে প্রতিমায় রেখে পূজা করা হবে। রামকৃষ্ণ মিশনে সন্ধ্যাদ আরতির পর মিশনের পুকুরে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এরপর ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণ করেন ও মিষ্টিমুখ করেন।
জনপ্রিয়

যশোরে পেটভর্তি ইয়াবাসহ যুবক আটক

মোংলায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গোৎসব

প্রকাশের সময় : ১১:২৩:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
মারুফ বাবু, মোংলা প্রতিনিধিঃ
মোংলায় বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বিসর্জনকে কেন্দ্র করে মোংলার নদীর পাড় ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশ, নৌ-বাহিনী ও কোস্টগার্ড মোতায়ন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে বিদায় জানানো হয় দেবী দুর্গাকে। পরে সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। ঢাকের বাদ্য আর গান-বাজনায় বিদায়ের করুণ ছায়ায় মোংলার নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয় প্রতিমা। এর আগে মন্ডপে মন্ডপে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের আসুরিক প্রবৃত্তি কাম, ক্রোধ, হিংসা, লালসা বিসর্জন দেওয়াই মূলত বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এ প্রবৃত্তিগুলোকে বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।
চন্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠী তিথিতে ‘আনন্দময়ীর’ আগমনে গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরবর্তী ৫ দিন পূজামণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনার মধ্যদিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়।
সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী ফিরে গেলেন স্বর্গলোকের কৈলাসে স্বামীর ঘরে। পরের বছর শরতে আবার তিনি আসবেন এই ধরণীতে যা তার বাবার গৃহ। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। ছিলো নৌবাহিনী,পুলিশ ও কোষ্ট গার্ডের যৌথ পাহারা।
শাস্ত্রমতে, এ বছর দেবী দুর্গা কৈলাস থেকে গজে (হাতি) চড়ে মর্ত্যে এসেছিলেন। ফিরে যাচ্ছেন দোলায় (পালকি) করে। বিশ্বাস অনুযায়ী, গজে আগমন শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল বয়ে আনে। তবে দোলায় গমন মহামারি বা অন্য কোনো বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কার ইঙ্গিত বহন করে। মহালয়ার দিন দেবীপক্ষের সূচনা হয় ২১ সেপ্টেম্বর। আগামী ৬ অক্টোবর কোজাগরী পূর্ণিমার মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটবে।
প্রথা অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জনের পর সেখান থেকে জল এনে (শান্তিজল) মঙ্গল ঘটে নিয়ে তা আবার হৃদয়ে ধারণ করা হয়। আগামী বছর আবার এ শান্তিজল হৃদয় থেকে ঘটে, ঘট থেকে প্রতিমায় রেখে পূজা করা হবে। রামকৃষ্ণ মিশনে সন্ধ্যাদ আরতির পর মিশনের পুকুরে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এরপর ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণ করেন ও মিষ্টিমুখ করেন।