বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজায় নিহত ছাড়াল ৬৬ হাজার ২০০

ছবি-সংগৃহীত

ইসরায়েল গাজা সিটিতে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি। তাঁর এই সতর্কবার্তার মধ্যেই গাজায় চলছে নির্বিচারে ইসরায়েলি হত্যাকাণ্ড। এরই মধ্যে অঞ্চলটিতে নিহতের সংখ্যা ৬৬ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই—এর খবরে বলা হয়েছে, ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, গাজা সিটিতে আটকে থাকা আড়াই লাখ ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েল ‘সন্ত্রাসী বা সন্ত্রাসীদের সমর্থক’ আখ্যা দিচ্ছে। এর আড়ালে তাদের ‘পাইকারি বা একযোগে হত্যার পরিকল্পনা চলছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লাজারিনি লিখেন, ‘এই বক্তব্য আসলে বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। এতে আরও নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষ, যারা সরে যেতে অক্ষম, তারা প্রাণ হারাবে।

তিনি আরও বলেন, ‘কেউই বেসামরিক মানুষ হত্যার লাইসেন্স পায় না। গাজায় চলমান আন্তর্জাতিক অপরাধকে আর নীরবে মেনে নেওয়া যায় না। নিষ্ক্রিয়তা বাড়তে থাকলে তা হবে সরাসরি সহযোগিতা। জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন ইতিমধ্যেই যেটিকে গণহত্যা বলে আখ্যা দিয়েছে। এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।’

এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৬ হাজার ২২৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৭ জনের মৃতদেহ হাসপাতালগুলোতে আনা হয়েছে। আহত হয়েছেন ২২২ জন। এ নিয়ে ইসরায়েলি হামলায় মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬৮ হাজার ৯৩৮ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সহায়তা সংগ্রহের চেষ্টা করতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৪৪ জন। এর ফলে, গত ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত সহায়তা নিতে গিয়ে প্রাণ হারানো ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৮২ জনে। আহত হয়েছেন ১৮ হাজার ৯৭৪ জন।

ইসরায়েলি সেনারা গত ১৮ মার্চ থেকে আবারও গাজায় হামলা শুরু করে। জানুয়ারিতে হওয়া যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময় চুক্তি ভেঙে ওই সময় থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ১৩ হাজার ৩৫৭ জনকে হত্যা করেছে। আহত হয়েছে ৫৬ হাজার ৮৯৭ জন।

এর আগে, গত নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। একই সঙ্গে গাজায় চালানো যুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) মামলা চলছে।

জনপ্রিয়

পেশাদারিত্বের বিষয়ে সাংবাদিকদের আপসহীন হতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

গাজায় নিহত ছাড়াল ৬৬ হাজার ২০০

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

ইসরায়েল গাজা সিটিতে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি। তাঁর এই সতর্কবার্তার মধ্যেই গাজায় চলছে নির্বিচারে ইসরায়েলি হত্যাকাণ্ড। এরই মধ্যে অঞ্চলটিতে নিহতের সংখ্যা ৬৬ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই—এর খবরে বলা হয়েছে, ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, গাজা সিটিতে আটকে থাকা আড়াই লাখ ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েল ‘সন্ত্রাসী বা সন্ত্রাসীদের সমর্থক’ আখ্যা দিচ্ছে। এর আড়ালে তাদের ‘পাইকারি বা একযোগে হত্যার পরিকল্পনা চলছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লাজারিনি লিখেন, ‘এই বক্তব্য আসলে বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। এতে আরও নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষ, যারা সরে যেতে অক্ষম, তারা প্রাণ হারাবে।

তিনি আরও বলেন, ‘কেউই বেসামরিক মানুষ হত্যার লাইসেন্স পায় না। গাজায় চলমান আন্তর্জাতিক অপরাধকে আর নীরবে মেনে নেওয়া যায় না। নিষ্ক্রিয়তা বাড়তে থাকলে তা হবে সরাসরি সহযোগিতা। জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন ইতিমধ্যেই যেটিকে গণহত্যা বলে আখ্যা দিয়েছে। এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।’

এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৬ হাজার ২২৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৭ জনের মৃতদেহ হাসপাতালগুলোতে আনা হয়েছে। আহত হয়েছেন ২২২ জন। এ নিয়ে ইসরায়েলি হামলায় মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬৮ হাজার ৯৩৮ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সহায়তা সংগ্রহের চেষ্টা করতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৪৪ জন। এর ফলে, গত ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত সহায়তা নিতে গিয়ে প্রাণ হারানো ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৮২ জনে। আহত হয়েছেন ১৮ হাজার ৯৭৪ জন।

ইসরায়েলি সেনারা গত ১৮ মার্চ থেকে আবারও গাজায় হামলা শুরু করে। জানুয়ারিতে হওয়া যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময় চুক্তি ভেঙে ওই সময় থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ১৩ হাজার ৩৫৭ জনকে হত্যা করেছে। আহত হয়েছে ৫৬ হাজার ৮৯৭ জন।

এর আগে, গত নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। একই সঙ্গে গাজায় চালানো যুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) মামলা চলছে।