বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন বন্দর নির্মাণের প্রস্তাব পাকিস্তানের

ছবি-সংগৃহীত

আরব সাগরের তীরে একটি নতুন বন্দর নির্মাণ ও পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের উপদেষ্টারা এই প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, পাকিস্তানের প্রস্তাবটি মূলত মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বেলুচিস্তান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ খাতে যুক্ত করার একটি অংশ। এই পরিকল্পনার অধীনে সাগর তীরবর্তী মাছের শহর পাশনি-কে একটি কৌশলগত টার্মিনাল শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশনি ইরান সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ মাইল এবং চীনের সহযোগিতায় নির্মিত গওয়াদর বন্দর থেকে মাত্র ৭০ মাইল দূরে অবস্থিত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তানের কর্মকর্তারা দক্ষিণ এশিয়ায় উদীয়মান ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলোকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চান। প্রস্তাবিত বন্দরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের খনিজসমৃদ্ধ পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার পেতে পারে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের দেখা এক পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা বেলুচিস্তানের গওয়াদার জেলায় একটি আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনা করতে পারে, যা রেলপথে দেশের অভ্যন্তরীণ খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। তবে পরিকল্পনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বন্দরটি সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হবে না; বরং এটি হবে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক প্রকল্প।

পাকিস্তান সেনাপ্রধানের উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, গত মাসের শেষ দিকে হোয়াইট হাউসে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেটি ট্রাম্পের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, “এই বিষয়ে ট্রাম্প বা তার উপদেষ্টারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা করেননি।”

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা যেসব কৌশলগত পরিকল্পনা উপস্থাপন করছেন, তার মধ্যে এই বন্দর প্রকল্প অন্যতম। এছাড়া, ট্রাম্প-সমর্থিত ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোগে অংশগ্রহণ, আফগানিস্তানভিত্তিক আইএসআইএস-কে বিরোধে সহযোগিতা জোরদার করা, গাজা শান্তি পরিকল্পনা অনুমোদন এবং খনিজ সম্পদ বাজারে প্রবেশের প্রস্তাবও রয়েছে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে।

মার্কিন ও পাকিস্তানি কূটনীতিকদের মতে, গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত প্রশমনে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার পর থেকে ট্রাম্প ও আসিম মুনিরের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

এ বিষয়ে রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, হোয়াইট হাউস, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সেনাবাহিনী—কোনো পক্ষই এখনো এই প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

জনপ্রিয়

পেশাদারিত্বের বিষয়ে সাংবাদিকদের আপসহীন হতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন বন্দর নির্মাণের প্রস্তাব পাকিস্তানের

প্রকাশের সময় : ১২:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

আরব সাগরের তীরে একটি নতুন বন্দর নির্মাণ ও পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের উপদেষ্টারা এই প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, পাকিস্তানের প্রস্তাবটি মূলত মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বেলুচিস্তান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ খাতে যুক্ত করার একটি অংশ। এই পরিকল্পনার অধীনে সাগর তীরবর্তী মাছের শহর পাশনি-কে একটি কৌশলগত টার্মিনাল শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশনি ইরান সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ মাইল এবং চীনের সহযোগিতায় নির্মিত গওয়াদর বন্দর থেকে মাত্র ৭০ মাইল দূরে অবস্থিত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তানের কর্মকর্তারা দক্ষিণ এশিয়ায় উদীয়মান ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলোকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চান। প্রস্তাবিত বন্দরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের খনিজসমৃদ্ধ পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার পেতে পারে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের দেখা এক পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা বেলুচিস্তানের গওয়াদার জেলায় একটি আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনা করতে পারে, যা রেলপথে দেশের অভ্যন্তরীণ খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। তবে পরিকল্পনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বন্দরটি সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হবে না; বরং এটি হবে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক প্রকল্প।

পাকিস্তান সেনাপ্রধানের উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, গত মাসের শেষ দিকে হোয়াইট হাউসে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেটি ট্রাম্পের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, “এই বিষয়ে ট্রাম্প বা তার উপদেষ্টারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা করেননি।”

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা যেসব কৌশলগত পরিকল্পনা উপস্থাপন করছেন, তার মধ্যে এই বন্দর প্রকল্প অন্যতম। এছাড়া, ট্রাম্প-সমর্থিত ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোগে অংশগ্রহণ, আফগানিস্তানভিত্তিক আইএসআইএস-কে বিরোধে সহযোগিতা জোরদার করা, গাজা শান্তি পরিকল্পনা অনুমোদন এবং খনিজ সম্পদ বাজারে প্রবেশের প্রস্তাবও রয়েছে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে।

মার্কিন ও পাকিস্তানি কূটনীতিকদের মতে, গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত প্রশমনে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার পর থেকে ট্রাম্প ও আসিম মুনিরের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

এ বিষয়ে রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, হোয়াইট হাউস, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সেনাবাহিনী—কোনো পক্ষই এখনো এই প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।