সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নবীজিকে ভালোবাসার পুরষ্কার

  • ধর্ম ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১২:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৭

ছবি-সংগৃহীত

যারা আল্লাহ ও তার রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসবে এবং রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত অনুযায়ী চলবে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তিনটি পুরষ্কার দান করবেন। এক. স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ভালোবাসবেন। দুই. তাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। কেননা, পবিত্র কালামে পাকে ইরশাদ হয়েছে,

قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত-৩১)


তিন. তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জান্নাতে থাকবে। যেমন হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে

مَنْ أَحْيٰ سُنَّتِيْ، فَقَدْ أَحَبَّنِي، مَنْ أَحَبَّنِي كَانَ مَعِي فِي الْجَنَّةِ যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে জীবিত করল, সে আমাকেই ভালোবাসল। আর যে আমাকে ভালোবাসল, সে জান্নাতে আমার সাথেই থাকবে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস-২৬৭৮)

 
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে যথাযথভাবে প্রিয় নবীজিকে ভালোবাসা, তাঁর আনুগত্য করা, তাঁর ভালোবাসার পাত্র হওয়ার এবং পরকালে তাঁর সুপারিশ লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সাহাবাদের মত নবী প্রেম কাম্য

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন- 

اٰمِنُوا كَمَا اٰمَنَ النَّاسُ তোমরা সেভাবে ঈমান আন, লোকেরা (সাহাবাগণ) যেভাবে ঈমান এনেছেন। (সুরা- বাকারা, আয়াত নং-১৩) এ আয়াতের মাঝে একথাও রয়েছে যে, তোমরা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেভাবেই ভালোবাসবে, যেভাবে সাহাবাগণ ভালোবেসেছেন। 
 
আর তারা তো সব কিছুর তুলনায় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সবচেয়ে বেশী ভালোবেসেছেন। তাদের ভালোবাসার কোনো তুলনাই হয় না। প্রত্যেক সাহাবি নবীজিকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশী ভালোবাসতেন। 
 
তাদের প্রত্যেকের জীবনেই নবীপ্রেমের এমন আশ্চর্য আশ্চর্য ঘটনা রয়েছে, যা লিখে শেষ করা সম্ভব নয়। তারপরও সামনে একজন সাহাবির ভালোবাসার ঘটনা আলোচনা করবো। যাতে আমরা তাঁর থেকে শিখতে পারি। নবীপ্রেম বুঝতে পারি। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের ভেতর সত্যিকারের নবীপ্রেম ও নবীর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা পোষণ করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

হজরত উমরের ঈমান পূর্ণ হলো

একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত উমরের হাত ধরে চলছিলেন। হজরত উমর রা. বললেন- হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনাকে আমার প্রাণ ব্যতিত সব কিছু থেকে বেশী ভালোবাসি। অতঃপর রাসূল সা. বললেন,
 
لَا وَالَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِهِ حَتّٰى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْكَ مِنْ نَفْسِكَ না উমর, এতে হবে না। ঐ সত্ত্বার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তোমার কাছে তোমার প্রাণের চেয়েও বেশী প্রিয় না হই পরক্ষণেই হজরত উমর বললেন, হ্যাঁ, এখন হয়েছেন। আল্লাহর কসম! আপনি আমার কাছে এখন আমার প্রাণের চেয়েও বেশী প্রিয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

اًلْآن يَا عُرُ হে উমর! এখন তুমি পূর্ণ মুমিন হয়েছ। (সহিহ বোখারি, হাদিস নং ৬৬৩২

তথ্যসূত্র : উম্মতের প্রতি নবীজির ভালোবাসা পৃ: ৫২,৫৯,৬০

লেখক: শিক্ষক, লালবাগ মাদ্রাসা ঢাকা, খতিব, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ, পরিচালক, দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ। —সময় সংবাদ
জনপ্রিয়

যশোরে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নবীজিকে ভালোবাসার পুরষ্কার

প্রকাশের সময় : ১২:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

যারা আল্লাহ ও তার রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসবে এবং রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত অনুযায়ী চলবে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তিনটি পুরষ্কার দান করবেন। এক. স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ভালোবাসবেন। দুই. তাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। কেননা, পবিত্র কালামে পাকে ইরশাদ হয়েছে,

قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত-৩১)


তিন. তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জান্নাতে থাকবে। যেমন হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে

مَنْ أَحْيٰ سُنَّتِيْ، فَقَدْ أَحَبَّنِي، مَنْ أَحَبَّنِي كَانَ مَعِي فِي الْجَنَّةِ যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে জীবিত করল, সে আমাকেই ভালোবাসল। আর যে আমাকে ভালোবাসল, সে জান্নাতে আমার সাথেই থাকবে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস-২৬৭৮)

 
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে যথাযথভাবে প্রিয় নবীজিকে ভালোবাসা, তাঁর আনুগত্য করা, তাঁর ভালোবাসার পাত্র হওয়ার এবং পরকালে তাঁর সুপারিশ লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সাহাবাদের মত নবী প্রেম কাম্য

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন- 

اٰمِنُوا كَمَا اٰمَنَ النَّاسُ তোমরা সেভাবে ঈমান আন, লোকেরা (সাহাবাগণ) যেভাবে ঈমান এনেছেন। (সুরা- বাকারা, আয়াত নং-১৩) এ আয়াতের মাঝে একথাও রয়েছে যে, তোমরা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেভাবেই ভালোবাসবে, যেভাবে সাহাবাগণ ভালোবেসেছেন। 
 
আর তারা তো সব কিছুর তুলনায় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সবচেয়ে বেশী ভালোবেসেছেন। তাদের ভালোবাসার কোনো তুলনাই হয় না। প্রত্যেক সাহাবি নবীজিকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশী ভালোবাসতেন। 
 
তাদের প্রত্যেকের জীবনেই নবীপ্রেমের এমন আশ্চর্য আশ্চর্য ঘটনা রয়েছে, যা লিখে শেষ করা সম্ভব নয়। তারপরও সামনে একজন সাহাবির ভালোবাসার ঘটনা আলোচনা করবো। যাতে আমরা তাঁর থেকে শিখতে পারি। নবীপ্রেম বুঝতে পারি। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের ভেতর সত্যিকারের নবীপ্রেম ও নবীর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা পোষণ করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

হজরত উমরের ঈমান পূর্ণ হলো

একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত উমরের হাত ধরে চলছিলেন। হজরত উমর রা. বললেন- হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনাকে আমার প্রাণ ব্যতিত সব কিছু থেকে বেশী ভালোবাসি। অতঃপর রাসূল সা. বললেন,
 
لَا وَالَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِهِ حَتّٰى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْكَ مِنْ نَفْسِكَ না উমর, এতে হবে না। ঐ সত্ত্বার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তোমার কাছে তোমার প্রাণের চেয়েও বেশী প্রিয় না হই পরক্ষণেই হজরত উমর বললেন, হ্যাঁ, এখন হয়েছেন। আল্লাহর কসম! আপনি আমার কাছে এখন আমার প্রাণের চেয়েও বেশী প্রিয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

اًلْآن يَا عُرُ হে উমর! এখন তুমি পূর্ণ মুমিন হয়েছ। (সহিহ বোখারি, হাদিস নং ৬৬৩২

তথ্যসূত্র : উম্মতের প্রতি নবীজির ভালোবাসা পৃ: ৫২,৫৯,৬০

লেখক: শিক্ষক, লালবাগ মাদ্রাসা ঢাকা, খতিব, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ, পরিচালক, দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ। —সময় সংবাদ