
যশোর প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুরে দুর্গাপূজার দশমীতে বসেছিল এক অন্যরকম উৎসব জামাই হাট’। প্রায় ৭০ বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখা এই ব্যতিক্রমী মেলা এবারও জমে উঠেছিল ঢাকুরিয়া প্রতাপকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে মাছ বিক্রির উৎসব, আর সেই উৎসবে যেন হাসি-আনন্দে মুখর পুরো এলাকা।
বণিক সমিতির হিসাব বলছে, একদিনেই বিক্রি হয়েছে প্রায় কোটি টাকার মাছ! কাতলা, রুই, ব্ল্যাক কার্প, গ্লাস কার্প, পাঙাশ, সিলভার কার্প বড় বড় মাছগুলো যেন জামাইদের মন কাড়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। ৫ থেকে ১৩ কেজি ওজনের মাছের দাম হাঁকানো হয়েছে কয়েক হাজার থেকে লাখ টাকায়।
মেলা প্রাঙ্গণে দেখা গেল ভিড় জমেছে শত শত মানুষে। কেউ জামাই, কেউ শ্বশুর, কেউবা কৌতূহলী দর্শক। শ্বশুরবাড়ির জন্য বড় মাছ কেনার উচ্ছ্বাসে জামাইরা ঘুরে ঘুরে দেখছেন প্রতিটি স্টল।
মনিরামপুরের প্রদীপ কুমার বাইন বললেন,
“প্রতি বছর বিজয়া দশমীতে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার আগে এখান থেকে বড় একটা মাছ কিনি। মাছের সঙ্গে মুড়ি, মুড়কি আর জিলাপি—সব মিলে উৎসবের মেজাজ।”
শ্যামল বিশ্বাসের ভাষায়, “এবার মাছ কিছুটা কম, কিন্তু জামাইদের মধ্যে বড় মাছ কেনা নিয়ে অঘোষিত প্রতিযোগিতা চলে। শুধু হিন্দুরাই না, মুসলমানরাও এসে আনন্দ ভাগাভাগি করে।”
৪০ বছরের অভিজ্ঞ বিক্রেতা শংকর বিশ্বাস জানালেন, “ভোরে ঘের থেকে মাছ ধরে এনেছি। রুই আর কাতলাই বেশি বিক্রি হয়। সবচেয়ে বড় ১২ কেজির মাছ বিক্রি করেছি।”
মেলাকে ঘিরে আশপাশের গ্রামগুলোতেও উৎসবের আমেজ। মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনির আগমনে বাড়িগুলো ভরে ওঠে, বাজারে পিঠা আর মিষ্টির ঘ্রাণে মাতোয়ারা পরিবেশ।
তবে এবারের মেলায় কিছুটা ভিন্নতা ছিল—বিক্রেতাদের একাংশ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে মূল মাঠের বাইরে আলাদা জায়গায় দোকান বসিয়েছেন।
ঢাকুরিয়া প্রতাপকাটি বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান গাজী জানালেন,
“১৯৫০ সাল থেকে এই মেলা বসছে। জামাইদের মাছ কেনার প্রতিযোগিতা এখন আমাদের সংস্কৃতির অংশ। আমরা এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে কাজ করছি।”
একদিনের এই ‘জামাই হাট’ এখন শুধু মাছের বাজার নয়, এটি মনিরামপুরের লোকসংস্কৃতি, পারিবারিক বন্ধন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক জীবন্ত প্রতীক।
নিজস্ব সংবাদদাতা 







































