সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৩০০ আসনে বিএনপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত পর্যায়ে: তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী বা সমর্থিত প্রার্থীর মনোনয়ন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত জানানোর পর নির্বাচন কমিশন যথাসময়ে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। জনগণের বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সম্ভাব্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। এর অংশ হিসেবে ৩০০ আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে।

রবিবার (২ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর লেকশোর হোটেলে প্রবাসে বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন, নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একথা বলেন তিনি।

বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, জনসমর্থিত এবং জনপ্রিয় দল হওয়ার কারণে প্রতিটি নির্বাচনি আসনে বিএনপির একাধিক যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এটি অবশ্যই গৌরব ও সম্মানের। দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিএনপির একাধিক যোগ্য এবং জনপ্রিয় প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও প্রত্যেককে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব নয়। ভিন্ন রাজনৈতিক দলের যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আমাদের রাজপথের সঙ্গী ছিলেন এমন প্রার্থীকেও বিএনপি সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বাস্তবতার কারণে হয়তো কিছু আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা মনোনয়ন বঞ্চিত হবেন। বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা- দেশ এবং জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে আপনারা এই বাস্তবতাটি মেনে নেবেন। দলের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করবেন।

দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ও নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। শিগগিরই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন আসনে বিএনপির মনোনীত দলীয় প্রার্থীদের নাম দলের পক্ষ থেকে আমরা জানিয়ে দেব। দল যাকেই যে আসনে মনোনয়ন দেবে, তাকে বিজয়ী করে আনার জন্য জাতীয়তাবাদী শক্তিতে বিশ্বাসী প্রত্যেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মনে রাখবেন, আপনাদের চারপাশে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গুপ্ত স্বৈরাচার কিন্তু ওত পেতে রয়েছে। নিজেদের মধ্যে রেষারেষি বিবাদ-বিরোধ এমন পর্যায়ে নেওয়া ঠিক হবে না, যাতে করে প্রতিপক্ষ সুযোগ নিতে পারে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী, যারা নিজ নিজ এলাকায় জনগণের সমর্থন পেতে গণসংযোগ করছেন, সবাই কিন্তু শেষ পর্যন্ত শহিদ জিয়ার অনুসারী। খালেদা জিয়ার সৈনিক, বিএনপির কর্মী ধানের শীষের সমর্থক। মনে রাখবেন, ধানের শীষ জিতলে আপনি জিতেছেন।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করছেন। চাকরি কিংবা পেশাগত কারণে অনেকে যেমন প্রবাসী হয়েছেন, ঠিক একইভাবে বিগত ১৫-১৬ বছরে কেউ কেউ ফ্যাসিস্টের রোষানলে পড়েও প্রবাসী হতে বাধ্য হয়েছেন। বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে বিভিন্ন ভাবে যার যার অবস্থান থেকে অত্যন্ত সোচ্চার ভূমিকা রেখেছেন। দেশে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিরলস ভূমিকার জন্য প্রবাসীদেরকে অভিনন্দন জানান তিনি।

আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আমলের বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে গিয়ে পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচার দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থাকে গত ১৫ বছরে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে- ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশেও বর্তমানে বিএনপির বিজয় ঠেকাতে সঙ্গবদ্ধ অপপ্রচার ও কৌশল দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জাতীয়তাবাদী শক্তিতে বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকেন, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্রই বিএনপিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল প্রমুখ।

জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় হেযবুত তওহীদের জনসভা অনুষ্ঠিত

৩০০ আসনে বিএনপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত পর্যায়ে: তারেক রহমান

প্রকাশের সময় : ০৯:২৮:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী বা সমর্থিত প্রার্থীর মনোনয়ন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত জানানোর পর নির্বাচন কমিশন যথাসময়ে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। জনগণের বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সম্ভাব্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। এর অংশ হিসেবে ৩০০ আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে।

রবিবার (২ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর লেকশোর হোটেলে প্রবাসে বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন, নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একথা বলেন তিনি।

বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, জনসমর্থিত এবং জনপ্রিয় দল হওয়ার কারণে প্রতিটি নির্বাচনি আসনে বিএনপির একাধিক যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এটি অবশ্যই গৌরব ও সম্মানের। দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিএনপির একাধিক যোগ্য এবং জনপ্রিয় প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও প্রত্যেককে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব নয়। ভিন্ন রাজনৈতিক দলের যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আমাদের রাজপথের সঙ্গী ছিলেন এমন প্রার্থীকেও বিএনপি সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বাস্তবতার কারণে হয়তো কিছু আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা মনোনয়ন বঞ্চিত হবেন। বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা- দেশ এবং জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে আপনারা এই বাস্তবতাটি মেনে নেবেন। দলের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করবেন।

দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ও নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। শিগগিরই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন আসনে বিএনপির মনোনীত দলীয় প্রার্থীদের নাম দলের পক্ষ থেকে আমরা জানিয়ে দেব। দল যাকেই যে আসনে মনোনয়ন দেবে, তাকে বিজয়ী করে আনার জন্য জাতীয়তাবাদী শক্তিতে বিশ্বাসী প্রত্যেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মনে রাখবেন, আপনাদের চারপাশে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গুপ্ত স্বৈরাচার কিন্তু ওত পেতে রয়েছে। নিজেদের মধ্যে রেষারেষি বিবাদ-বিরোধ এমন পর্যায়ে নেওয়া ঠিক হবে না, যাতে করে প্রতিপক্ষ সুযোগ নিতে পারে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী, যারা নিজ নিজ এলাকায় জনগণের সমর্থন পেতে গণসংযোগ করছেন, সবাই কিন্তু শেষ পর্যন্ত শহিদ জিয়ার অনুসারী। খালেদা জিয়ার সৈনিক, বিএনপির কর্মী ধানের শীষের সমর্থক। মনে রাখবেন, ধানের শীষ জিতলে আপনি জিতেছেন।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করছেন। চাকরি কিংবা পেশাগত কারণে অনেকে যেমন প্রবাসী হয়েছেন, ঠিক একইভাবে বিগত ১৫-১৬ বছরে কেউ কেউ ফ্যাসিস্টের রোষানলে পড়েও প্রবাসী হতে বাধ্য হয়েছেন। বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে বিভিন্ন ভাবে যার যার অবস্থান থেকে অত্যন্ত সোচ্চার ভূমিকা রেখেছেন। দেশে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিরলস ভূমিকার জন্য প্রবাসীদেরকে অভিনন্দন জানান তিনি।

আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আমলের বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে গিয়ে পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচার দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থাকে গত ১৫ বছরে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে- ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশেও বর্তমানে বিএনপির বিজয় ঠেকাতে সঙ্গবদ্ধ অপপ্রচার ও কৌশল দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জাতীয়তাবাদী শক্তিতে বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকেন, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্রই বিএনপিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল প্রমুখ।